পরিবহন খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে : সড়ক প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি বর্তমান সময়ের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সামাজিক বাধা ও প্রচলিত ধারণার কারণে পরিবহন খাতে নারীদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই খুব সীমিত। তবে সুযোগ ও সহায়তা পেলে নারীরা এসব বাধা অতিক্রম করে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক অডিটোরিয়ামে নারী গাড়ি চালকদের সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

হাবিবুর রশিদ বলেন, প্রশিক্ষিত নারী চালকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী চালকদের চাকরির সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ২৪ জন পেশাদার নারী চালক নিয়োগ দিয়েছে। আজকের অনুষ্ঠান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী চালকদের সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি সরকারের বিশেষ অনুরোধে ব্র্যাক ২০০১ সাল থেকে সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২০১২ সাল থেকে পরিচালিত ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলের ১৩টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জনকে বেসিক ড্রাইভিং, ১৩ হাজার ৫০০ জনকে ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ এবং ৪০৯ জনকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি নারী চালক প্রশিক্ষণ, মোটরসাইকেল চালনা প্রশিক্ষণ, গবেষণা, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতা, দুর্ঘটনা পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং গণপরিবহন ও জনপরিসরে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ব্র্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা নারী গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা শুধু একটি পেশা বেছে নেননি, বরং সমাজে নারী সক্ষমতার শক্তিশালী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্র্যাকের মতো সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ, ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন, প্রকল্প ব্যবস্থাপক এম খালিদ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের ড্রাইভিং স্কুলে সফল প্রশিক্ষণ শেষে পেশাদার চালকের আসনে বসতে প্রস্তুত এমন ১০ জন নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ তুলে দেওয়া হয়। এই নারীরা ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে তিন মাসের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধাসম্পন্ন এই গাড়িচালনা প্রশিক্ষণে তারা তাত্ত্বিক ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর পাশাপাশি তারা ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের প্রশিক্ষণ এবং জেন্ডার ও সুরক্ষা (সেফগার্ডিং) বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণও পেয়েছেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জ্বালানি খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির ইঙ্গিত দিলেন চিফ হুইপ

পরিবহন খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে : সড়ক প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০১:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি বর্তমান সময়ের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সামাজিক বাধা ও প্রচলিত ধারণার কারণে পরিবহন খাতে নারীদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই খুব সীমিত। তবে সুযোগ ও সহায়তা পেলে নারীরা এসব বাধা অতিক্রম করে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক অডিটোরিয়ামে নারী গাড়ি চালকদের সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

হাবিবুর রশিদ বলেন, প্রশিক্ষিত নারী চালকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী চালকদের চাকরির সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ২৪ জন পেশাদার নারী চালক নিয়োগ দিয়েছে। আজকের অনুষ্ঠান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী চালকদের সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি সরকারের বিশেষ অনুরোধে ব্র্যাক ২০০১ সাল থেকে সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২০১২ সাল থেকে পরিচালিত ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলের ১৩টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জনকে বেসিক ড্রাইভিং, ১৩ হাজার ৫০০ জনকে ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ এবং ৪০৯ জনকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি নারী চালক প্রশিক্ষণ, মোটরসাইকেল চালনা প্রশিক্ষণ, গবেষণা, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতা, দুর্ঘটনা পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং গণপরিবহন ও জনপরিসরে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ব্র্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা নারী গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা শুধু একটি পেশা বেছে নেননি, বরং সমাজে নারী সক্ষমতার শক্তিশালী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্র্যাকের মতো সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ, ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন, প্রকল্প ব্যবস্থাপক এম খালিদ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের ড্রাইভিং স্কুলে সফল প্রশিক্ষণ শেষে পেশাদার চালকের আসনে বসতে প্রস্তুত এমন ১০ জন নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ তুলে দেওয়া হয়। এই নারীরা ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে তিন মাসের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধাসম্পন্ন এই গাড়িচালনা প্রশিক্ষণে তারা তাত্ত্বিক ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর পাশাপাশি তারা ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের প্রশিক্ষণ এবং জেন্ডার ও সুরক্ষা (সেফগার্ডিং) বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণও পেয়েছেন।