Dhaka শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-১৪ আসনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে ফল স্থগিত চান তুলি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত এবং পুনভোটের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই আসনের সকল নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত করার দাবি জানান।

সানজিদা ইসলাম তুলি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই প্রশাসনের একাংশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে পোলিং এজেন্টদের ওপর প্রশাসনিক সহায়তায় শারীরিক আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং তাদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পক্ষ থেকে প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন এবং ভোটারদের মাঝে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, ভোট গণনার আগেই পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল প্রকাশে উদ্দেশ্যমূলক বিলম্ব করা হয়েছে এবং অনেক কেন্দ্রে ফল প্রকাশ না করেই ব্যালট পেপার সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে শুধু একজন প্রার্থীর প্রতি নয়, বরং পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অবিচার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের মৌলিক নীতি— স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা, যা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় দাবি করে নির্বাচন চলাকালে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রার্থী।

তিনি বলেন, অনেক কেন্দ্রে বিরোধী পক্ষের পোলিং এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি এবং গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না। আমরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং পুনঃভোট গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। জনগণের রায়কে বিকৃত করার যে অপচেষ্টা হয়েছে, তা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।

এক প্রশ্নের জবাবে তুলি বলেন, আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে এবং প্রমাণাদি সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন, আসনের টিম লিডার ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে।

এই আসনে দাঁড়িপাল্লার আরমান পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট। আর ধানের শীষের তুলি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করা ‘বিএনপির বিদ্রোহী’ সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু। তিনি পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩২৮ ভোট।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

খালেদা জিয়া এই অভূতপূর্ব বিজয় দেখে যেতে পারলেন না : মির্জা ফখরুল

ঢাকা-১৪ আসনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে ফল স্থগিত চান তুলি

প্রকাশের সময় : ০৫:২৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত এবং পুনভোটের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই আসনের সকল নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত করার দাবি জানান।

সানজিদা ইসলাম তুলি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই প্রশাসনের একাংশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে পোলিং এজেন্টদের ওপর প্রশাসনিক সহায়তায় শারীরিক আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং তাদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পক্ষ থেকে প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন এবং ভোটারদের মাঝে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, ভোট গণনার আগেই পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল প্রকাশে উদ্দেশ্যমূলক বিলম্ব করা হয়েছে এবং অনেক কেন্দ্রে ফল প্রকাশ না করেই ব্যালট পেপার সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে শুধু একজন প্রার্থীর প্রতি নয়, বরং পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অবিচার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের মৌলিক নীতি— স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা, যা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় দাবি করে নির্বাচন চলাকালে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রার্থী।

তিনি বলেন, অনেক কেন্দ্রে বিরোধী পক্ষের পোলিং এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি এবং গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না। আমরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং পুনঃভোট গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। জনগণের রায়কে বিকৃত করার যে অপচেষ্টা হয়েছে, তা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।

এক প্রশ্নের জবাবে তুলি বলেন, আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে এবং প্রমাণাদি সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন, আসনের টিম লিডার ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে।

এই আসনে দাঁড়িপাল্লার আরমান পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট। আর ধানের শীষের তুলি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করা ‘বিএনপির বিদ্রোহী’ সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু। তিনি পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩২৮ ভোট।