Dhaka শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক জোরদারের আশা জয়সওয়ালের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ভারত। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশাও জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও গভীর করার আশা করছে নয়াদিল্লি। ব্রিফিংয়ে ভারত-বাংলাদেশ ভিসা কার্যক্রম সম্পর্কেও কথা বলেন তিনি। জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে ধাপে ধাপে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত ভিসা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় মুখপাত্র। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে নয়াদিল্লি।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়াকে কটাক্ষ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যদিও অনেকেই সহিংসতার আশঙ্কা করেছিলেন। নবান্নে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেখুন, বাংলাদেশ কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবাই ভেবেছিল সহিংসতা হবে, কিন্তু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হলেও নির্বাচন কমিশনের ভয় দেখানোর সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে স্থগিত সাত কর্মকর্তার বিষয়ে মমতা বলেন, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়নি; তারা অন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তাদের কেন স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের অপরাধ কী।

মমতার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্র পাউল অভিযোগ করেন, মমতা বাংলাদেশের নির্বাচনের ফল নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহ দেখাচ্ছেন এবং জামায়াতকে সমর্থন করছেন বলে দাবি করেন।

বিজেপি সংসদ সদস্য সুধাংশু ত্রিভেদি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে হচ্ছে এবং এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অব ইন্ডিয়াও পরিষ্কার অবস্থান দিয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের ভিসা কার্যক্রমেও গতি ফিরতে শুরু করেছে। আজ শুক্রবার থেকে দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

এর আগে সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানান, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া শিগগির ‘স্বাভাবিক পর্যায়ে’ ফিরে আসবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার ঘটনায়।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস ও ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয় এবং মিশন লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরদিন দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকেও ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দেখা যায়। পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার আগেই ১৩ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পরে ফল প্রকাশের দিন বিকেলে টেলিফোনে কথা বলে তাকে শুভেচ্ছা জানান মোদী এবং ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সমর্থনের আশ্বাস দেন।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশগ্রহণের কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

এদিকে, প্রায় দুই মাস পর আজ শুক্রবার থেকে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়া পুনরায় শুরু করেছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আব্বু হলেন আমার দেখা সবচেয়ে পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান মানুষ : জাইমা রহমান

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক জোরদারের আশা জয়সওয়ালের

প্রকাশের সময় : ০৯:১২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ভারত। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশাও জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও গভীর করার আশা করছে নয়াদিল্লি। ব্রিফিংয়ে ভারত-বাংলাদেশ ভিসা কার্যক্রম সম্পর্কেও কথা বলেন তিনি। জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে ধাপে ধাপে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত ভিসা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় মুখপাত্র। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে নয়াদিল্লি।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়াকে কটাক্ষ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যদিও অনেকেই সহিংসতার আশঙ্কা করেছিলেন। নবান্নে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেখুন, বাংলাদেশ কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবাই ভেবেছিল সহিংসতা হবে, কিন্তু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হলেও নির্বাচন কমিশনের ভয় দেখানোর সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে স্থগিত সাত কর্মকর্তার বিষয়ে মমতা বলেন, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়নি; তারা অন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তাদের কেন স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের অপরাধ কী।

মমতার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্র পাউল অভিযোগ করেন, মমতা বাংলাদেশের নির্বাচনের ফল নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহ দেখাচ্ছেন এবং জামায়াতকে সমর্থন করছেন বলে দাবি করেন।

বিজেপি সংসদ সদস্য সুধাংশু ত্রিভেদি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে হচ্ছে এবং এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অব ইন্ডিয়াও পরিষ্কার অবস্থান দিয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের ভিসা কার্যক্রমেও গতি ফিরতে শুরু করেছে। আজ শুক্রবার থেকে দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

এর আগে সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানান, সব ধরনের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া শিগগির ‘স্বাভাবিক পর্যায়ে’ ফিরে আসবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার ঘটনায়।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস ও ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয় এবং মিশন লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরদিন দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকেও ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দেখা যায়। পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার আগেই ১৩ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পরে ফল প্রকাশের দিন বিকেলে টেলিফোনে কথা বলে তাকে শুভেচ্ছা জানান মোদী এবং ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সমর্থনের আশ্বাস দেন।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশগ্রহণের কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

এদিকে, প্রায় দুই মাস পর আজ শুক্রবার থেকে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়া পুনরায় শুরু করেছে।