Dhaka শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র হিসেবে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় গাজীপুরের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আদেশ দেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বলা হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ সংগঠনের গঠনতন্ত্রের বিধি মোতাবেক গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম-কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে রোববার (১৪ মে) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে দ্বিতীয়বারের মতো দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় জাহাঙ্গীর আলমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছিল।

বৈঠক সূত্রমতে, গাজীপুরসহ আসন্ন পাঁচ সিটি নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিস্তর আলোচনা হয়। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আবারও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি গুরুত্ব পায় আলোচনায়। নেতারা বলেন, জাহাঙ্গীর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কটূক্তি করে আগেও দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হয়েছিলেন। পরে ক্ষমা চাওয়ায় তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এবার আবার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, মাকেও প্রার্থী করেছেন। নিজের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় যে ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে নিজের মায়ের পক্ষে প্রচারণা করছেন জাহাঙ্গীর এবং দলের বিপক্ষে বিএনপির সুরে কথা বলছেন। এসব কারণে তাকে দল থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা উচিত।

নিজের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পরে মায়ের পক্ষে প্রচারণা করছেন জাহাঙ্গীর। দলের বিপক্ষে কথা বলছেন তিনি। এসব কারণে জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে চিরতরে বহিষ্কারের সুপারিশ করেন তারা। এছাড়াও জাহাঙ্গীর আলম যেন দলের কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে না পারেন সে বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সভায় প্রথমে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বিষয়টি উত্থাপন করেন। বারবার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেন তিনি। পরে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা এতে একমত পোষণ করেন।

জানা গেছে, দলীয় সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে জানাবেন।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নিজ জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে নিয়ে গাজীপুর সিটির তৎকালীন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিতর্কিত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর জেরে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে। পরে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকার টিকিটে নির্বাচিত হওয়া জাহাঙ্গীর আলম মেয়র পদ থেকেও সাময়িক বরখাস্ত হন। সেই আদেশ এখনও প্রত্যাহার হয়নি।

২০২২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ১৭(৬) এবং ৪৭(২) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট সাধারণ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার অঙ্গীকার করেন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগ।

এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার টিকিট পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে (২০১৩ সাল) আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন জাহাঙ্গীর আলম। তখন নির্বাচনে জয়লাভ করেন বিএনপির (প্রয়াত) নেতা এম এ মান্নান।

এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র বৈধ করতে হাইকোর্টে তার রিট আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে। তবে তার মা জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

খালেদা জিয়া এই অভূতপূর্ব বিজয় দেখে যেতে পারলেন না : মির্জা ফখরুল

জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

প্রকাশের সময় : ১০:২৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র হিসেবে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় গাজীপুরের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আদেশ দেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বলা হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ সংগঠনের গঠনতন্ত্রের বিধি মোতাবেক গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম-কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে রোববার (১৪ মে) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে দ্বিতীয়বারের মতো দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় জাহাঙ্গীর আলমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছিল।

বৈঠক সূত্রমতে, গাজীপুরসহ আসন্ন পাঁচ সিটি নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিস্তর আলোচনা হয়। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আবারও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি গুরুত্ব পায় আলোচনায়। নেতারা বলেন, জাহাঙ্গীর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কটূক্তি করে আগেও দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হয়েছিলেন। পরে ক্ষমা চাওয়ায় তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এবার আবার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, মাকেও প্রার্থী করেছেন। নিজের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় যে ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে নিজের মায়ের পক্ষে প্রচারণা করছেন জাহাঙ্গীর এবং দলের বিপক্ষে বিএনপির সুরে কথা বলছেন। এসব কারণে তাকে দল থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা উচিত।

নিজের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পরে মায়ের পক্ষে প্রচারণা করছেন জাহাঙ্গীর। দলের বিপক্ষে কথা বলছেন তিনি। এসব কারণে জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে চিরতরে বহিষ্কারের সুপারিশ করেন তারা। এছাড়াও জাহাঙ্গীর আলম যেন দলের কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে না পারেন সে বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সভায় প্রথমে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বিষয়টি উত্থাপন করেন। বারবার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেন তিনি। পরে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা এতে একমত পোষণ করেন।

জানা গেছে, দলীয় সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে জানাবেন।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নিজ জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে নিয়ে গাজীপুর সিটির তৎকালীন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিতর্কিত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর জেরে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে। পরে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকার টিকিটে নির্বাচিত হওয়া জাহাঙ্গীর আলম মেয়র পদ থেকেও সাময়িক বরখাস্ত হন। সেই আদেশ এখনও প্রত্যাহার হয়নি।

২০২২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ১৭(৬) এবং ৪৭(২) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট সাধারণ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার অঙ্গীকার করেন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগ।

এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার টিকিট পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে (২০১৩ সাল) আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন জাহাঙ্গীর আলম। তখন নির্বাচনে জয়লাভ করেন বিএনপির (প্রয়াত) নেতা এম এ মান্নান।

এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র বৈধ করতে হাইকোর্টে তার রিট আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে। তবে তার মা জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি।