Dhaka শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এখনও নাকালের বাইরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সীমিত বা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কোনো সুখবর নেই। দু-একটি পণ্যের দাম সামান্য কমলেও বছরের অন্যান্য যে কোনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। আলু, পেঁয়াজ, আদা, চিনি, ভোজ্যতেলসহ বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সেই যে বেড়েছিল, সেখান থেকে আর কমেনি। বলা যায়, এসব পণ্য চড়া দামে আটকে আছে দীর্ঘসময় ধরে। অবাক করা বিষয় হলো, গরিবে খাদ্য পাঙাশ মাছের দাম ছাড়িয়েছে ব্রয়লার মুরগিকে। কমেছে কাঁচামরিচের দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে সবজি ও মাংসের দাম।

শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। তবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে সবজির দাম।

সবজির বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা পোয়া (২৫০গ্রাম)। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে কচুরমুখী। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন-কাঁকরোলও। বরবটি, ঝিঙা, ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। পেঁপে- চিচিঙা, ঢ্যাঁড়স ও পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস। ঝালি বিক্রি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। ডাটার মুঠা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

শাকের মধ্যে লালশাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা আঁটি, ডাঁটাশাক বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা আঁটি। পুঁইশাক, লাউশাক প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা আঁটি। এছাড়া কলমিশাক,পাটশাক ও মুলাশাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা আঁটি।

গরিবের খাবার আলু। ভালো মানের ডায়মন্ড আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। তবে, ভ্যানে করে কিছুটা নিম্নমানের আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কচুরমুখীর। এক সপ্তাহ আগেও ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে পণ্যটি। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা সুজন কবির বলেন, সবজির বাজার ঠিক থাকে না। সকাল-বিকাল দাম ওঠা-নামা করে। বেশি দামে কিনলে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করি।

সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে। অথচ এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা কেজি। সোনালী কক মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি। অন্যদিকে, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

শনির আখড়া মুরগি ব্যবসায়ী মামুন হোসেন বলেন, মুরগির দাম বাড়ছে। আরও বাড়বে। কেন বাড়বে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের কারণে মুরগির চাহিদা কমছিল। এ কারণে কম দামে বিক্রি হয়েছে। এখন চাহিদা বাড়ছে, দামও বেড়েছে। কারণ, মুরগির খাবারে দাম বেশি।

একইভাবে ডিমের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ৫ টাকা বেড়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা দরে।

তবে, ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে মাছের দাম। বাজারে সবচেয়ে কম দামি মাছ পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়ার কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজিতে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে। প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। বড় মানের রুই, কাতল ও কারফু মাছ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।

অপরদিকে, শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। চিংড়ি মাছের সর্বনিম্ন দর ৬০০ টাকা। ভালো মানের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। টেংরা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।

মিরপুর ক্রেতা আকাশ বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। তবে, আমার কাছে অবাক লেগেছে মুরগির মাংসের চেয়ে পাঙাশের দাম বেশি দেখে। একটু ভালো মানের পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। অথচ ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ টাকা। এদিকে, মুরগির দামও বেড়েছে। পাঙাশের দাম বাড়ায় গত সপ্তাহে মুরগি নিয়েছি ১৭০ টাকায়। আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা। দাম চাচ্ছে ১৮০ টাকা।

বাড্ডা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মোকাম্মেল হোসেন শহিদ বলেন, সবধরনের মাছের দাম বাড়তি। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে বেশি দামে বিক্রি করছি। চাহিদা কম থাকলে মাছের দাম কমবে— জানান তিনি।

অন্যদিকে মুদি বাজারে দুই সপ্তাহ আগে সয়াবিন তেলের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমেছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৭৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের মতোই বাজারে প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহ কম দেখা গেছে। কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে।

কোরবানি ঈদের আগে থেকে মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে জিরার। খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি জিরা বিক্রি করছেন ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকা দরে। অথচ এক বছর আগে মসলাটির দাম ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

অন্যদিকে বাজারে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে দেশি রসুনের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে। চীন থেকে আমদানি করা রসুন কিনতে দিতে হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। আর এসময়ের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামে তেমন কোনো হেরফের হয়নি। দেশি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর আদার দাম কিছুটা কমে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা ঈদের আগে ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

বাড্ডার বাজারে আসা ক্রেতা রুহুল আমিন বলেন, বাজারে এলে জিনিসপত্রের দাম শুনে মাথা ঠিক থাকে না। ইচ্ছা থাকলেও টাকার অভাবে জিনিস কিনতে পারি না। মাংস কেনা বাদ দিয়েছি। গরিবের পাঙাশ মাছের দামও বাড়তি। এখন মাছ খাওয়াও বাদ দিতে হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সরকারের কাজ জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা : আমীর খসরু

এখনও নাকালের বাইরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সীমিত বা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কোনো সুখবর নেই। দু-একটি পণ্যের দাম সামান্য কমলেও বছরের অন্যান্য যে কোনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। আলু, পেঁয়াজ, আদা, চিনি, ভোজ্যতেলসহ বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সেই যে বেড়েছিল, সেখান থেকে আর কমেনি। বলা যায়, এসব পণ্য চড়া দামে আটকে আছে দীর্ঘসময় ধরে। অবাক করা বিষয় হলো, গরিবে খাদ্য পাঙাশ মাছের দাম ছাড়িয়েছে ব্রয়লার মুরগিকে। কমেছে কাঁচামরিচের দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে সবজি ও মাংসের দাম।

শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। তবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে সবজির দাম।

সবজির বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা পোয়া (২৫০গ্রাম)। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে কচুরমুখী। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন-কাঁকরোলও। বরবটি, ঝিঙা, ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। পেঁপে- চিচিঙা, ঢ্যাঁড়স ও পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস। ঝালি বিক্রি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। ডাটার মুঠা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

শাকের মধ্যে লালশাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা আঁটি, ডাঁটাশাক বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা আঁটি। পুঁইশাক, লাউশাক প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা আঁটি। এছাড়া কলমিশাক,পাটশাক ও মুলাশাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা আঁটি।

গরিবের খাবার আলু। ভালো মানের ডায়মন্ড আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। তবে, ভ্যানে করে কিছুটা নিম্নমানের আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কচুরমুখীর। এক সপ্তাহ আগেও ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে পণ্যটি। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা সুজন কবির বলেন, সবজির বাজার ঠিক থাকে না। সকাল-বিকাল দাম ওঠা-নামা করে। বেশি দামে কিনলে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করি।

সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে। অথচ এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা কেজি। সোনালী কক মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি। অন্যদিকে, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

শনির আখড়া মুরগি ব্যবসায়ী মামুন হোসেন বলেন, মুরগির দাম বাড়ছে। আরও বাড়বে। কেন বাড়বে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের কারণে মুরগির চাহিদা কমছিল। এ কারণে কম দামে বিক্রি হয়েছে। এখন চাহিদা বাড়ছে, দামও বেড়েছে। কারণ, মুরগির খাবারে দাম বেশি।

একইভাবে ডিমের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ৫ টাকা বেড়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা দরে।

তবে, ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে মাছের দাম। বাজারে সবচেয়ে কম দামি মাছ পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়ার কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজিতে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে। প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। বড় মানের রুই, কাতল ও কারফু মাছ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।

অপরদিকে, শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। চিংড়ি মাছের সর্বনিম্ন দর ৬০০ টাকা। ভালো মানের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। টেংরা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।

মিরপুর ক্রেতা আকাশ বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। তবে, আমার কাছে অবাক লেগেছে মুরগির মাংসের চেয়ে পাঙাশের দাম বেশি দেখে। একটু ভালো মানের পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। অথচ ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ টাকা। এদিকে, মুরগির দামও বেড়েছে। পাঙাশের দাম বাড়ায় গত সপ্তাহে মুরগি নিয়েছি ১৭০ টাকায়। আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা। দাম চাচ্ছে ১৮০ টাকা।

বাড্ডা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মোকাম্মেল হোসেন শহিদ বলেন, সবধরনের মাছের দাম বাড়তি। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে বেশি দামে বিক্রি করছি। চাহিদা কম থাকলে মাছের দাম কমবে— জানান তিনি।

অন্যদিকে মুদি বাজারে দুই সপ্তাহ আগে সয়াবিন তেলের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমেছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৭৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের মতোই বাজারে প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহ কম দেখা গেছে। কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে।

কোরবানি ঈদের আগে থেকে মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে জিরার। খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি জিরা বিক্রি করছেন ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকা দরে। অথচ এক বছর আগে মসলাটির দাম ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

অন্যদিকে বাজারে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে দেশি রসুনের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে। চীন থেকে আমদানি করা রসুন কিনতে দিতে হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। আর এসময়ের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামে তেমন কোনো হেরফের হয়নি। দেশি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর আদার দাম কিছুটা কমে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা ঈদের আগে ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

বাড্ডার বাজারে আসা ক্রেতা রুহুল আমিন বলেন, বাজারে এলে জিনিসপত্রের দাম শুনে মাথা ঠিক থাকে না। ইচ্ছা থাকলেও টাকার অভাবে জিনিস কিনতে পারি না। মাংস কেনা বাদ দিয়েছি। গরিবের পাঙাশ মাছের দামও বাড়তি। এখন মাছ খাওয়াও বাদ দিতে হবে।