আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটি নির্ধারিত হবে আদালতে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটি আদালতে নির্ধারিত হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯-এর আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এ অবস্থায় দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের এমন কোনো সক্ষমতা বা নৈতিক সাহস আছে বলে তিনি মনে করেন না। তার ভাষ্য, অতীতের কর্মকাণ্ডের কারণে দলটির পক্ষে জনসমক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়া সহজ হবে না।

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মাঠে রাজনৈতিকদলগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মনে করি তারা সিম্বোলিক কারণে আছেন। আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল। নিষিদ্ধ ঘোষিত কথাটা আসলে ঠিক না। আমরা যদি টেকনিক্যালি বলি আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না— এটা পরিষ্কার করা দরকার যে, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেটা বিচারের পর নির্ধারিত হবে। যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত তারা বিচারাধীন থাকবে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে। এই দল যদি মাঠে কোনও কর্মসূচি নিয়ে নামতে চায়, সেটা আইন ভঙ্গকারী কার্যক্রম হবে। সরকার সেটার ব্যবস্থা নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই। তারা প্রতীকী কারণে হয়তো মাঠে আছেন, বলছেন অনেক কিছু করে ফেলবেন।

ডা. জাহেদ বলেন, আমি মনে করি না আওয়ামী লীগের কিছু করার নৈতিক সাহস আছে। একটা কিছু করতে গেলে নৈতিক সাহস লাগে। আমরা বলি না ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, সবার ডিমেনশিয়া হবে, মানে সবাই সবকিছু ভুলে যাবে আর কি! তারপর আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না। তাদের সেই নৈতিক সাহস নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে— কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।

তিনি বলেন, যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাস দমন আইন-২০০৯ এর অধীনে। সো তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যে কোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, সেটা তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। সো সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক; এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই, এটা তারা সিম্বলিক্যালি হয়তো মাঠে আছেন, যেহেতু তারা বলছেন তারা অনেক কিছু করে ফেলবেন। আর সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে আমি যেটা বলবো, এর মানে এই না যে অনেক কিছু তারা করে ফেলতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহসও আছে। অ্যাটলিস্ট একটা নৈতিক সাহস লাগে। আমরা একটা কথা বলি না, চোরের মায়ের বড় গলা। মানে আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে আমাদের সবার মেমোরি শেষ হয়ে যেতে হবে। আমাদের সবার ডিমেনশিয়া (স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগ) হবে, তারপর কোনোদিন আওয়ামী লীগ আমাদের সামনে বড় গলা করে কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সো তাদের ওই নৈতিক সাহসও নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে…কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি একটু পেছনে যাই, একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি— জুলাইয়ে এরকম বন্দুকের সামনে মানুষ দাঁড়াতে পেরেছিল, কারণ তার নৈতিক সাহসটা ছিল। ও ধান্দাবাজ লোক ছিল না, ও দেশকে ভালোবেসেছে, এ দেশের ভালো করতে চেয়েছে। এত গুলি, এত মৃত্যু, এরপরও মানুষ পরদিন আবার গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তো তাদের (আওয়ামী লীগ) দিয়ে আসলে তেমন কিছু হওয়ার কোনো কারণ নাই।’

তিনি বলেন, ‘তারপরও সরকারের থেকে যেটা করা উচিত, যে কয়টা জেলায় তার মনে হয়েছে যে ঝুঁকি কিছুটা হলেও বেশি—কারণ কিছু ছোটখাটো নাশকতার সক্ষমতা হয়তো আছে, আর তাদের প্রচুর টাকা আছে, সেটা খরচ করে হঠাৎ করে কোনো নাশকতা করে কি না—সেজন্য যে জায়গায় ঝুঁকি বেশি মনে হয়েছে সেখানে সেনাবাহিনী রাখা হয়েছে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে। এর মানে এই না যে সরকার মনে করে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করতে পারবে। আমি সেটা মনে করি না।’

তিনি বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একটা কথা একটু মনে রাখবো আমরা সবাই, এই যে একবছর বলা হচ্ছে, আমি আগেই দেখেছি এটা মিসইন্টারপ্রেটেশন হয়েছে।

তিনি বলেন, একবছর না, এটা যখন শুরু হবে তারপর একবছর। কারণ আপনারা জানেন অনেকগুলো স্তর আছে আমাদের স্থানীয় সরকারের এবং এর মধ্যে বিশেষ করে ইউনিয়ন যদি ধরি সংখ্যাটা বিরাট। এই সংখ্যা নির্বাচন করতে শুরু হওয়ার পর থেকে একবছর সময় লাগবে। তাহলে উনি বলছেন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মানে বর্ষা যখন শেষ হবে, তার মানে এটা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যদি শুরু হয় ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর বা ২০২৭ সালের মধ্যে এই নির্বাচনটা শেষ করার চেষ্টা সরকার করবে।

জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে ঐকমত্য হওয়া গেছে। এছাড়া ওশোনোগ্রাফিক রিসার্চের জন্য দেশেই প্রথমবারের মতো জাহাজ তৈরি করতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, জনগণের ওপর যেন কোনো অন্যায় আচরণ না হয়, সেটি এ সরকার নিশ্চিত করবে। জাইমা রহমান বা অন্য যেকোনো নারী রাষ্ট্রের কাছে সমান অধিকার রাখে। আর প্রধানমন্ত্রীর সফরে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই উন্মুক্ত হবে এমন আশা করতে পারি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে মাজারের কোনো ইস্যু নেই বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আপনি (সাংবাদিক) সিলেটের ডিসিকে ট্রান্সফার করার কথা বলছেন এবং সেখানে একটা মাজারে তার একটা পদক্ষেপকে রিলেট করার কথা বলছেন। এটা কেউ কেউ করছেন অনলাইনে। এটাকে আমরা এভাবে কেন বলব? মানে ঘটনাটা এটার পরে ঘটেছে বলেই এ ধরনের একটা পারসেপশন তৈরির চেষ্টা হয়তো আছে।

তিনি বলেন, সরকার তার জুডিসডিকশনের মধ্যে করা কিছু কাজ সবসময় আসলে তার জায়গা থেকে ব্যাখ্যাও দেবে না। এটাই নিয়ম। কিছু রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা থাকতে পারে। আর এই ব্যাপারে আমাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বলাই হয়েছে, বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এর বেশি আসলে আর কিছু বলার থাকবে না। কারণ, স্পেকুলেশন নানান রকম করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যখন যাই করি, যাই ঘটাই না কেন, নানান স্পেকুলেশন করতে থাকে। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে নানান রকম ইন্টারেস্ট গ্রুপ আছে। আর সরকারের বক্তব্য যেটা, সেটাই আপাতত এখানে বলবৎ থাকবে এবং আমি মনে করি না আসলে এ ধরনের (মাজার) কোনো ইস্যু আছে।

মাজারের দানের টাকার স্বচ্ছতা থাকার ক্ষেত্রে সরকারও দ্বিমত করবে না বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা আশাবাদী হওয়ার মতো বলে জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আশাবাদী হওয়ার মতো। এবং সেটা যাতে দ্রুত খুলে যায়, সে আলোচনা হয়েছে। সুতরাং আমরা আশা করতে পারি।

তিনি অলেন, আরেকটা কথা একটু বলে রাখা ভালো, অতীতে শ্রমবাজার বারবার হওয়ার পরও আমাদের দিক থেকে কিছু সমস্যার কারণে আবার বন্ধ হয়েছে। আমরা আশা করি এই সরকার সেই জিনিসগুলো কাটিয়ে উঠতে পদক্ষেপ নেবে।

সম্প্রতি এক কলেজ শিক্ষার্থীকে আটক করার প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সাইবার টিম অন্যের আইডি ব্যবহার করে পোস্ট তৈরি ও সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কোনো একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান কোনো পোস্টকে ভুয়া বললেই সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যায় না।

তিনি বলেন, যদি সত্যিই কোনো পোস্ট এডিট করা হয়ে থাকে, তাহলে রাষ্ট্র কখনোই কারও প্রতি অন্যায় করবে না। রাষ্ট্রের নিজস্ব মেকানিজম ও বিশেষজ্ঞ রয়েছে। যাচাই করে যদি দেখা যায় কোনো স্ক্রিনশট বা পোস্ট ভুয়া, তাহলে সেটির ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার চায় না কোনো নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হোক। একইসঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অপমানজনক প্রচারণার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা হোন বা একজন সাধারণ নারী রাষ্ট্রের কাছে সবার অধিকার সমান। নারীদের বিরুদ্ধে নোংরা ও বীভৎস ভাষা ব্যবহার এই সরকার সহ্য করবে না। এসব বিষয়ে সরকার নজরদারি করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব স্বীকার করলেও তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র সরাসরি সিদ্ধান্ত নেয় না।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জ্বালানি খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির ইঙ্গিত দিলেন চিফ হুইপ

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটি নির্ধারিত হবে আদালতে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ০২:০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটি আদালতে নির্ধারিত হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯-এর আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এ অবস্থায় দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের এমন কোনো সক্ষমতা বা নৈতিক সাহস আছে বলে তিনি মনে করেন না। তার ভাষ্য, অতীতের কর্মকাণ্ডের কারণে দলটির পক্ষে জনসমক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়া সহজ হবে না।

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মাঠে রাজনৈতিকদলগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মনে করি তারা সিম্বোলিক কারণে আছেন। আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল। নিষিদ্ধ ঘোষিত কথাটা আসলে ঠিক না। আমরা যদি টেকনিক্যালি বলি আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না— এটা পরিষ্কার করা দরকার যে, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেটা বিচারের পর নির্ধারিত হবে। যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত তারা বিচারাধীন থাকবে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে। এই দল যদি মাঠে কোনও কর্মসূচি নিয়ে নামতে চায়, সেটা আইন ভঙ্গকারী কার্যক্রম হবে। সরকার সেটার ব্যবস্থা নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই। তারা প্রতীকী কারণে হয়তো মাঠে আছেন, বলছেন অনেক কিছু করে ফেলবেন।

ডা. জাহেদ বলেন, আমি মনে করি না আওয়ামী লীগের কিছু করার নৈতিক সাহস আছে। একটা কিছু করতে গেলে নৈতিক সাহস লাগে। আমরা বলি না ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, সবার ডিমেনশিয়া হবে, মানে সবাই সবকিছু ভুলে যাবে আর কি! তারপর আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না। তাদের সেই নৈতিক সাহস নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে— কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।

তিনি বলেন, যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাস দমন আইন-২০০৯ এর অধীনে। সো তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যে কোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, সেটা তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। সো সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক; এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই, এটা তারা সিম্বলিক্যালি হয়তো মাঠে আছেন, যেহেতু তারা বলছেন তারা অনেক কিছু করে ফেলবেন। আর সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে আমি যেটা বলবো, এর মানে এই না যে অনেক কিছু তারা করে ফেলতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহসও আছে। অ্যাটলিস্ট একটা নৈতিক সাহস লাগে। আমরা একটা কথা বলি না, চোরের মায়ের বড় গলা। মানে আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে আমাদের সবার মেমোরি শেষ হয়ে যেতে হবে। আমাদের সবার ডিমেনশিয়া (স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগ) হবে, তারপর কোনোদিন আওয়ামী লীগ আমাদের সামনে বড় গলা করে কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সো তাদের ওই নৈতিক সাহসও নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে…কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি একটু পেছনে যাই, একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি— জুলাইয়ে এরকম বন্দুকের সামনে মানুষ দাঁড়াতে পেরেছিল, কারণ তার নৈতিক সাহসটা ছিল। ও ধান্দাবাজ লোক ছিল না, ও দেশকে ভালোবেসেছে, এ দেশের ভালো করতে চেয়েছে। এত গুলি, এত মৃত্যু, এরপরও মানুষ পরদিন আবার গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তো তাদের (আওয়ামী লীগ) দিয়ে আসলে তেমন কিছু হওয়ার কোনো কারণ নাই।’

তিনি বলেন, ‘তারপরও সরকারের থেকে যেটা করা উচিত, যে কয়টা জেলায় তার মনে হয়েছে যে ঝুঁকি কিছুটা হলেও বেশি—কারণ কিছু ছোটখাটো নাশকতার সক্ষমতা হয়তো আছে, আর তাদের প্রচুর টাকা আছে, সেটা খরচ করে হঠাৎ করে কোনো নাশকতা করে কি না—সেজন্য যে জায়গায় ঝুঁকি বেশি মনে হয়েছে সেখানে সেনাবাহিনী রাখা হয়েছে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে। এর মানে এই না যে সরকার মনে করে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করতে পারবে। আমি সেটা মনে করি না।’

তিনি বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একটা কথা একটু মনে রাখবো আমরা সবাই, এই যে একবছর বলা হচ্ছে, আমি আগেই দেখেছি এটা মিসইন্টারপ্রেটেশন হয়েছে।

তিনি বলেন, একবছর না, এটা যখন শুরু হবে তারপর একবছর। কারণ আপনারা জানেন অনেকগুলো স্তর আছে আমাদের স্থানীয় সরকারের এবং এর মধ্যে বিশেষ করে ইউনিয়ন যদি ধরি সংখ্যাটা বিরাট। এই সংখ্যা নির্বাচন করতে শুরু হওয়ার পর থেকে একবছর সময় লাগবে। তাহলে উনি বলছেন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মানে বর্ষা যখন শেষ হবে, তার মানে এটা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যদি শুরু হয় ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর বা ২০২৭ সালের মধ্যে এই নির্বাচনটা শেষ করার চেষ্টা সরকার করবে।

জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে ঐকমত্য হওয়া গেছে। এছাড়া ওশোনোগ্রাফিক রিসার্চের জন্য দেশেই প্রথমবারের মতো জাহাজ তৈরি করতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, জনগণের ওপর যেন কোনো অন্যায় আচরণ না হয়, সেটি এ সরকার নিশ্চিত করবে। জাইমা রহমান বা অন্য যেকোনো নারী রাষ্ট্রের কাছে সমান অধিকার রাখে। আর প্রধানমন্ত্রীর সফরে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই উন্মুক্ত হবে এমন আশা করতে পারি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে মাজারের কোনো ইস্যু নেই বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আপনি (সাংবাদিক) সিলেটের ডিসিকে ট্রান্সফার করার কথা বলছেন এবং সেখানে একটা মাজারে তার একটা পদক্ষেপকে রিলেট করার কথা বলছেন। এটা কেউ কেউ করছেন অনলাইনে। এটাকে আমরা এভাবে কেন বলব? মানে ঘটনাটা এটার পরে ঘটেছে বলেই এ ধরনের একটা পারসেপশন তৈরির চেষ্টা হয়তো আছে।

তিনি বলেন, সরকার তার জুডিসডিকশনের মধ্যে করা কিছু কাজ সবসময় আসলে তার জায়গা থেকে ব্যাখ্যাও দেবে না। এটাই নিয়ম। কিছু রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা থাকতে পারে। আর এই ব্যাপারে আমাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বলাই হয়েছে, বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এর বেশি আসলে আর কিছু বলার থাকবে না। কারণ, স্পেকুলেশন নানান রকম করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যখন যাই করি, যাই ঘটাই না কেন, নানান স্পেকুলেশন করতে থাকে। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে নানান রকম ইন্টারেস্ট গ্রুপ আছে। আর সরকারের বক্তব্য যেটা, সেটাই আপাতত এখানে বলবৎ থাকবে এবং আমি মনে করি না আসলে এ ধরনের (মাজার) কোনো ইস্যু আছে।

মাজারের দানের টাকার স্বচ্ছতা থাকার ক্ষেত্রে সরকারও দ্বিমত করবে না বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা আশাবাদী হওয়ার মতো বলে জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আশাবাদী হওয়ার মতো। এবং সেটা যাতে দ্রুত খুলে যায়, সে আলোচনা হয়েছে। সুতরাং আমরা আশা করতে পারি।

তিনি অলেন, আরেকটা কথা একটু বলে রাখা ভালো, অতীতে শ্রমবাজার বারবার হওয়ার পরও আমাদের দিক থেকে কিছু সমস্যার কারণে আবার বন্ধ হয়েছে। আমরা আশা করি এই সরকার সেই জিনিসগুলো কাটিয়ে উঠতে পদক্ষেপ নেবে।

সম্প্রতি এক কলেজ শিক্ষার্থীকে আটক করার প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সাইবার টিম অন্যের আইডি ব্যবহার করে পোস্ট তৈরি ও সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কোনো একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান কোনো পোস্টকে ভুয়া বললেই সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যায় না।

তিনি বলেন, যদি সত্যিই কোনো পোস্ট এডিট করা হয়ে থাকে, তাহলে রাষ্ট্র কখনোই কারও প্রতি অন্যায় করবে না। রাষ্ট্রের নিজস্ব মেকানিজম ও বিশেষজ্ঞ রয়েছে। যাচাই করে যদি দেখা যায় কোনো স্ক্রিনশট বা পোস্ট ভুয়া, তাহলে সেটির ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার চায় না কোনো নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হোক। একইসঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অপমানজনক প্রচারণার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা হোন বা একজন সাধারণ নারী রাষ্ট্রের কাছে সবার অধিকার সমান। নারীদের বিরুদ্ধে নোংরা ও বীভৎস ভাষা ব্যবহার এই সরকার সহ্য করবে না। এসব বিষয়ে সরকার নজরদারি করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব স্বীকার করলেও তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র সরাসরি সিদ্ধান্ত নেয় না।