শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি :
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রতিদিন অবনতিশীল হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিৎ, যেখানে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না উঠে। কিন্তু আজ নানা কারণে, নানা বিষয়ে, নির্বাচন কমিশনের নানা আচরণে কিছু প্রশ্ন উঠছে। মানুষ বিগত ১৫-১৬ বছর ভোট দিতে পারেনি। তারা চায় এখন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে। এর নিশ্চয়তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দিতে হবে।
আশংকা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন সামগ্রিকভাবে সবকিছু স্বাভাবিক করতে পারছে না। আমি মনে করে সবকিছু ঠিক করতে দৃঢ় হস্তে ন্যায়সংগতভাবে কাজ করতে হবে। তবে তারা যদি কোনো দিকে হেলে পড়ে তাহলে মানুষের সেই পুরনো আশংকাই সঠিক হবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জবাবদিহিতার অভাবে দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে নানা ধরনের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে না, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অথচ সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই।
রিজভী বলেন, দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। যদি দেশে একটি নির্বাচিত সরকার থাকত, তাহলে তাদের প্রতিটি ব্যর্থতার জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হতো। এই জবাবদিহিতাই সরকারকে সঠিকভাবে কাজ করতে বাধ্য করে। তাই এই মুহূর্তে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকার গঠন করা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ঢিলেঢালা অবস্থান অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়, বরং প্রতিদিনই এর অবনতি ঘটছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের উচিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত করা।
এ সময় নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন রিজভী। তিনি বলেন, নানা কারণে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেনি। এখন মানুষ চায় নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। এই নিশ্চয়তা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে নির্বাচন কমিশন সবকিছু সামাল দিতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন যদি কোনো একটি দিকে হেলে পড়ে, তাহলে অতীতের আশঙ্কাগুলো আবারও ফিরে আসবে।
রিজভী বলেন, বিগত দিনে যেভাবে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, তা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই ফিরিয়ে দিতে হবে।
এর পরে তিনি সদর উপজেলার পৌরসভা অডিটোরিয়ামেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আরেকটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, জাজিরা ও সদর উপজেলায় আয়োজিত এই দুটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে ঢাকা থেকে আগত বিভিন্ন বিভাগের প্রায় শতাধিক চিকিৎসক প্রায় পাঁচ হাজার সেবা প্রত্যাশী মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করেন।
শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি 






















