ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১১ বছর আগে এক বাক্ প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি মো. আব্দুল মমিন নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত আসামির ওপর আরোপিত ২ লাখ টাকার অর্থদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী কিশোরীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আইন অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে দণ্ডিত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমাকৃত অর্থ পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে দেওয়া হবে।
দণ্ডিত মো. আব্দুল মমিন রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ি (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভুক্তভোগী বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে রেখে তার মা প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বাড়িতে যান। রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী আব্দুল মমিন তার মেয়ের মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করছে। এ সময় মমিনকে আটকানোর চেষ্টা করা হলে সে ভুক্তভোগীর মাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা মমিনের ভাই মো. এরশাদের কাছে বিচার চাইতে গেলে এরশাদ কোনো বিচার না করে উল্টো হুমকি-ধমকি দেন এবং মমিনকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার কথা বলে আসামিপক্ষ সময় ক্ষেপণ করায়। ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২২৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এ রায় দিলেন আদালত।
আদালত আরও নির্দেশ দেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫-এ ধারা অনুযায়ী আসামি তদন্ত ও বিচার চলাকালীন যতটুকু সময় হাজতবাস করেছেন, তা তার মূল সাজা থেকে বাদ যাবে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে দণ্ডিত মমিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এক অসহায় বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অপরাধ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেল।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ বলেন, আমার মক্কেল মমিন সম্পূর্ণ নির্দোষ, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যের মধ্যে অনেক গরমিল ছিল। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করব। আশা করি সেখানে তিনি খালাস পাবেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি 
























