- জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স নির্মাণে ১৭ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
- সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স নির্মাণে ৪৫ কোটি টাকা।
- অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ চ্যান্সেরি ভবন নির্মাণে ১২০ কোটি ১২ লাখ টাকা।
- মিশরের কায়রোয় বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স ও আবাসিক ভবন নির্মাণে ৩ কোটি ১ লাখ টাকা।
- অননুমোদিত প্রকল্পের জন্য ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা থোক বরাদ্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রতীকী ১ টাকায় নামিয়ে আনার ছাঁটাই প্রস্তাব করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ ও ছাঁটাই প্রস্তাবের দাবিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
খলিলুর রহমান বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাব অনুযায়ী আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১ টাকায় নামিয়ে আনা হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলো বন্ধ করে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল সবুজের পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে, বন্ধ করে দিতে হবে প্রবাসীদের দেওয়া আমাদের সকল সেবা। জাতিসংঘের সদস্য হিসাবে বাৎসরিক প্রদেয় অর্থ আমরা দিতে পারবো না, যার ফলে জাতিসংঘে আমাদের সদস্যপদ স্থগিত হয়ে যেতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানের এই পরিবর্তনশীল এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে জটিল বিশ্বব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অনেকাংশেই তার দূরদর্শী ও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে। আজকের এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে আমাদের কূটনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং লক্ষ্য হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, যার অভূতপ্র্বূ সাম্প্রতিক উদাহরণ হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আমাদের জনগণের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
খলিলুর রহমান বলেন, মালয়েশিয়ার জহুরবাহরু, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান, আর্জেন্টিনা ও আয়ারল্যান্ডে নতুন মিশন খোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইসলামিক সম্মেলন সংস্থার পক্ষে গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা হত্যা-সংক্রান্ত একটি মামলা পরিচালনায় ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বাজেট কোনো সাধারণ ব্যয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার একটি কৌশলগত বিনিয়োগ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সময় তিনি ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের উদাহরণও তুলে ধরেন।
ছাঁটাই প্রস্তাবে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বরাদ্দ ১ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন।
জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিবর্তনশীল ও ভূরাজনৈতিকভাবে জটিল বিশ্বব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অনেকাংশেই তার দূরদর্শী ও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের কূটনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে-‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জনগণের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কোনো সাধারণ ব্যয় নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা এবং পাকিস্তানের বাজেট প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
ছাঁটাই প্রস্তাব অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৬ নম্বর দাবি কমিয়ে ১ টাকা করা হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস পরিচালনা সম্ভব হবে না। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে, প্রবাসীদের দেওয়া বিভিন্ন সেবা বন্ধ হয়ে যাবে। এমনকি জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করা সম্ভব না হলে সদস্যপদও স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্পূরক বরাদ্দসহ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৭৬৪ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বাজেটে ছিল ১ হাজার ৫৪২ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং উন্নয়ন বাজেটে ছিল ২২১ কোটি ৯৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বাজেটে ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বাজেটে ২৩৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ প্রায় ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের বড় একটি অংশ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় হয়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামার কারণে প্রকৃত ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।
পরিচালন বাজেট বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার জহর বাহরু, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট, আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে নতুন চারটি মিশন খোলা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এসব মিশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩০ কোটি ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া, রোহিঙ্গা গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে গাম্বিয়ার করা মামলা পরিচালনার জন্য ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের চারটি ইউনিট এবং বিদ্যমান ৮৩টি মিশনের পরিচালন ব্যয় নির্বাহে অতিরিক্ত ২১ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















