নিজস্ব প্রতিবেদক :
৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে এক হাজার ৫২১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩২০ জন ক্যাডার এবং ২০১ জনকে নন-ক্যাডার পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৫টার দিকে এ ফল প্রকাশ করা হয়।
পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন ক্যাডার পদে ১ হাজার ৩২০ জন এবং নবম, দশম ও ১২তম গ্রেডভুক্ত নন-ক্যাডার পদে ২০১ জনকে নিয়োগে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পিএসসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। প্রকাশিত ফলাফলে যুক্তিসংগত কারণে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা সংশোধনের অধিকার পিএসসি সংরক্ষণ করে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন, পররাষ্ট্রে ২৫, পুলিশে ১৫০, কর ক্যাডারে ১০৪, পরিবার-পরিকল্পনায় ৬২, কৃষিতে ৯২, স্বাস্থ্যে ১৬৩ জনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পিএসসির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারে যোগ্য লোকবল পাওয়া যায় না। সবাই সাধারণ ক্যাডারে আবেদন করেন, সেখানে যেতে চান। বিগত কয়েকটি বিসিএসের ফল খেয়াল করলে দেখবেন এ ধরনের সংকট আগে থেকেই চলে আসছে। এটি ক্রমে আরও বাড়ছে। এবার খুব বেশি সংকট দেখা যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা লাখে লাখে গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছি। কিন্তু এক্সপার্ট তৈরি হচ্ছে না যে, বিশেষ কাজের যেসব ক্ষেত্র সেখানে ওই ব্যাকগ্রাউন্ডের গ্র্যাজুয়েট নেই। অথবা প্রাথমিক আবেদনে হয়তো তারা থাকেন, কিন্তু প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষা উতরে আসতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে পিএসসিও উদ্বিগ্ন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে হয়তো নির্দেশনা চাওয়া হতে পারে।’
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা নেওয়ার মাত্র ৯ দিন পরই ফল প্রকাশ করে রেকর্ড গড়ে পিএসসি।
একই বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ৭ এপ্রিল ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হন ৩ হাজার ৬৩১ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলো।
সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে, ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষা থেকে আবেদন ফি ও মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর কমানো হয়। এ বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়। ফলে মোট নম্বর ১১০০ থেকে পরিবর্তন করে ১০০০ করা হয়।
এ বিসিএসে প্রথমবারের মতো আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়। পরে ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় এ বিসিএসের আবেদন, চলে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
প্রথমে ২০২৫ সালের ৮ অগাস্ট ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়।
পরে ৪৩ দিন পিছিয়ে ওই বছর ১৯ সেপ্টেম্বর আট বিভাগীয় শহরের মোট ২৬২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।
একই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি, এতে ১০ হাজার ৬৪৪ প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়।
পরে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হলে প্রার্থীদের একাংশ তা পেছানোর দাবিতে আন্দোলন করেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর তারিখ নিয়ে অনড় অবস্থানে থাকে পিএসসি। কয়েকদিন আন্দোলনের পর ওই প্রার্থীরা পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় গত ২৭ নভেম্বর। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা হয়।
কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা চলে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
গত ৭ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষায় ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে ফল প্রকাশ করা হয়। ১১ মে থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছিল কমিশন।
লিখিত পরীক্ষার সব প্রক্রিয়া শেষ করে রোববার ফল প্রকাশ করা হল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















