নিজস্ব প্রতিবেদক :
আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিষয়টি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং পানি বণ্টন সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রশ্নোত্তর পর্বের কার্যবিবরণী টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উজানের দেশগুলোতে আন্তঃসীমান্ত নদীর ওপর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানিপ্রবাহ কমে যাচ্ছে-এ কথা অসত্য নয়। এছাড়া প্রাকৃতিক কারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উজান অঞ্চলে পানির প্রাপ্যতাও হ্রাস পাচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এ লক্ষ্যে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করে নতুন চুক্তি সম্পাদনের পাশাপাশি যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং অববাহিকাভুক্ত দেশগুলো হলো-ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সমন্বয়ে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবায়নযোগ্য। প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও স্বার্থ সংরক্ষণের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণভাবে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শক রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, দেশব্যাপী নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় আগামী ৫ বছরে ৯ হাজার ৪৬ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উৎপাদন ও জনসংখ্যার তথ্য অনুযায়ী দেশে খাদ্য হিসেবে মাছের বার্ষিক চাহিদা ৩৮ দশমিক ৯ লাখ টন। উৎপাদন হয়েছে ৫১ দশমিক ১১ লাখ টন। ফলে চাহিদা অনুযায়ী দেশে মাছের কোনো ঘাটতি নেই। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ।
মন্ত্রী জানান, ঘাটতি না থাকলেও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আমদানি করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৮১ কোটি টাকায় ৬৬ হাজার ৬৪৯ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৭৫ কোটি টাকায় ৫৫ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন মাছ আমদানি হওয়ার তথ্য দেন তিনি।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬৫ জন। ‘প্রকৃত’ জেলেদের নিবন্ধন কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকারি পর্যায়ে দেশে ১০৪টি মৎস্য খামার ও ৭১টি প্রাণিসম্পদ খামার রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে দেশের নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে এ পর্যন্ত ৮২৫টি অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















