নিজস্ব প্রতিবেদক :
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২) এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে যদি কেউ অস্ত্র দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তারাই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বিদেশি অস্ত্রসহ ছিনতাইকারী চক্রের হোতা গ্রেফতার’ সংক্রান্ত সংবাদ সন্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের নানা তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, আমরা কিন্তু সব স্টেশনে অলরেডি ম্যাসেজ দিয়ে দিয়েছি। আমি আবারও বলছি, যদি কেউ ২৩ তারিখকে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে হোক বা যেভাবেই হোক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ঝুঁকি তৈরি করতে চায়, তাহলে তারা নিজেরাই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। যেকোনোভাবেই হোক আমরা প্রতিহত করবো।
আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটাতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন র্যাব অধিনায়ক।
নয়মুল হাসান বলেন, বিশেষ করে ২৩ তারিখ রিলেটেড কেউ যদি কোনো বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদেরকে মেসেজ দেওয়া হয়ে গেছে যে তারা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না করে। যদি তারা আমাদের জন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করতে চায়, তারা নিজেরাই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।
ছিনতাইকারী চক্রের হোতা গ্রেফতারের সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে নাঈমুল হাসান বলেন, গত (১৭ জুন) ছিনতাই এবং বহুল আলোচিত আদাবর থানার পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার আসামি ‘কবজি কাটা’ আনোয়ার গ্রুপের বর্তমান প্রধান কিশোর গ্যাং লিডার আবু হাসান সাঈদ (৩৩) ও শীর্ষ সন্ত্রাসী এক্সেল বাবুকে গ্রেফতার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ জুন রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন বেড়ীবাঁধ ইউল্যাব ইউনিভার্সিটি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিদেশি রিভালবারসহ ছিনতাইকারী সোহেল ওরফে মাওরা সোহেলকে (২৮) গ্রেফতার করে। মাওরা সোহেল মোহাম্মদপুর এলাকার কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইকারী গ্রুপ, ‘মাওরা গ্রুপ’ এর প্রধান এবং আবু সাইদ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড।
তিনি বলেন, একইদিন মধ্যরাতে র্যাব-২ আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলা রোড সংলগ্ন মেট্রো হাউজিং এলাকা হতে অপর দুজন ছিনতাইকারী মো. শফিকুল ইসলাম সুজন (৩০) ও মো. রাসেলকে (২৩) ২টি সামুরাই এবং ১টি চাইনিজ কুড়ালসহ গ্রেফতার করে।
মাওরা সোহেলের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের মধুখালি এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন থানায় চুরি, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর আঘাত, মাদকসহ মোট ১৪টি মামলা এবং ২টি ওয়ারেন্ট পেন্ডিং রয়েছে। এছাড়া সুজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় এবং রাসেলের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় ১টি করে মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















