বাংলাদেশেই মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশেই লিওনেল মেসি, রোনালদো ও এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।

শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করব। শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা দিয়েও বাংলাদেশকে সবাই চিনবে। শিশুদের মেধা বিকাশে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার। যে গান করতে চায়, ছবি আঁকতে চায় বা কোরআন তিলাওয়াত করতে চায় সব ব্যবস্থা সরকার করবে।

শিশুদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনা এবং সংস্কৃতি চর্চায় পারদর্শী হতে হবে। তাহলেই সুন্দর, শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে পারব। মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তোমাদের মধ্যে থেকেই তৈরি হবে। অলিম্পিকে আরো ভালো অবস্থান তৈরি করতে হবে।

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু খেললে হবে না, লেখাপড়া ও সৃজনশীল কাজেও এগিয়ে যেতে হবে।

May be an image of text

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট্ট বন্ধুরা! খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া ও সাংস্কৃতিক কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তবে অবশ্যই নানা ধরনের খেলা খেলতে হবে। এ বছর এই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট মাধ্যমিক পর্যায়ে আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে। পরের বছর প্রাইম মিনিস্টার কাপের আয়োজন করা হবে।

এ সময় সবুজ মাঠে ফুটবল খেলতে কেমন লাগলো ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান তারেক রহমান। কে কে খেলতে চাও’ এ প্রশ্নের জবাবে অনেক শিক্ষার্থী হাত তুললে তিনি সন্তষ্টি প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর ২২ লাখ বালক-বালিকা এ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। তবে শুধু ফুটবল খেললে হবে না। আগামীতে আমরা মাধ্যমিক (সেকেন্ডারি) স্কুলেও এই গেম শুরু করব। এ ছাড়া এ বছর মাধ্যমিক ও আগামী বছর প্রাথমিক পর্যায় থেকে ‘প্রাইম মিনিস্টারস কাপ’ চালু করা হবে। ক্রিকেট খেলতে হবে, সাতাঁর কাটতে হবে। তোমরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তোমাদের সবকিছুতে এগিয়ে যেতে হবে, সব কিছুতে পারদর্শী হতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে বর্ণিল ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও দর্শকরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে সমগ্র স্টেডিয়াম ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন ও অভিনন্দন জানান। এরপর তিনি বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের বালিকাদের চূড়ান্ত খেলার উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, আমরা বিজয়ী হলে দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেবো। সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, শুধু ফুটবল বা ক্রিকেট নয়, সব ধরনের খেলা খেলে সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে তোমরা। আমরা যতটুকু পেরেছি, তোমরা এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি করবে।

May be an image of one or more people and text

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম, ‘ম্যাকানো সেট’ নিয়ে খুব খেলতাম। এটা বানাতাম, ওটা বানাতাম, অনেক জিনিস বানাতাম। তোমাদেরকে এরকম জিনিস বানাতে হবে। তোমাদের প্রত্যেকের মাথায় অনেক বুদ্ধি।

তিনি জানান, কয়েকদিন পরেই ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি ইনোভেটিভ প্রোগ্রাম হতে যাচ্ছে, যেখানে শিশুদের ইনোভেশনের মধ্যেও আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ছোট বন্ধুরা, তোমাদেরকে শুধু খেললে চলবে না। পড়ালেখা, সংস্কৃতি-সব কিছুতে পারদর্শী হতে হবে। কেউ গান, কেউ মিউজিক, ছবি আঁকা কিংবা কেরাত প্রতিযোগিতা— যে যা পছন্দ করে সবার ব্যবস্থা আমরা করব।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্রিকেট দিয়ে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। আগামীতে ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব ধরনের খেলা দিয়ে বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনবে। তোমরাই হবে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।

শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন অলিম্পিক— এমনটি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু স্থানীয় পর্যায়ে খেলা নয়, অলিম্পিকেও যেন আমরা ভালো ফলাফল করতে পারি সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

শিশুদের সবুজ মাঠে খেলার সুযোগ করে দিতে নতুন নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড় ও কোচদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেন। একইসঙ্গে টুর্নামেন্ট সফল করতে সহযোগিতা করায় সব শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

May be an image of one or more people, dais and text

চূড়ান্ত খেলায় বালিকা বিভাগের ফাইনালে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অন্যদিকে বালক বিভাগের ফাইনালে ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

টুর্নামেন্টের বালক বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) এবং সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার জিতেছে বরিশাল বাকেরগঞ্জের যথাক্রমে আবু রেদওয়ান ও শাহাদাত ইসলাম। বালিকা বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন নান্দাইলের পরশমণি এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার মোসাম্মৎ মারিয়া খাতুন।

অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনায় যুক্ত রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারদের হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

May be an image of one or more people, dais and text

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, একেএম শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদী আমিন, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন, আবুল হোসেন খান, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, পাবনা- ১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন, ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট তাবিথ আউয়াল, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

এবার বিএনপিকর্মীকে ‘খেয়ে’ ফেলার হুমকি হানজালার

বাংলাদেশেই মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশেই লিওনেল মেসি, রোনালদো ও এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।

শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করব। শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা দিয়েও বাংলাদেশকে সবাই চিনবে। শিশুদের মেধা বিকাশে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার। যে গান করতে চায়, ছবি আঁকতে চায় বা কোরআন তিলাওয়াত করতে চায় সব ব্যবস্থা সরকার করবে।

শিশুদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনা এবং সংস্কৃতি চর্চায় পারদর্শী হতে হবে। তাহলেই সুন্দর, শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে পারব। মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তোমাদের মধ্যে থেকেই তৈরি হবে। অলিম্পিকে আরো ভালো অবস্থান তৈরি করতে হবে।

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু খেললে হবে না, লেখাপড়া ও সৃজনশীল কাজেও এগিয়ে যেতে হবে।

May be an image of text

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট্ট বন্ধুরা! খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া ও সাংস্কৃতিক কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তবে অবশ্যই নানা ধরনের খেলা খেলতে হবে। এ বছর এই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট মাধ্যমিক পর্যায়ে আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে। পরের বছর প্রাইম মিনিস্টার কাপের আয়োজন করা হবে।

এ সময় সবুজ মাঠে ফুটবল খেলতে কেমন লাগলো ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান তারেক রহমান। কে কে খেলতে চাও’ এ প্রশ্নের জবাবে অনেক শিক্ষার্থী হাত তুললে তিনি সন্তষ্টি প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর ২২ লাখ বালক-বালিকা এ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। তবে শুধু ফুটবল খেললে হবে না। আগামীতে আমরা মাধ্যমিক (সেকেন্ডারি) স্কুলেও এই গেম শুরু করব। এ ছাড়া এ বছর মাধ্যমিক ও আগামী বছর প্রাথমিক পর্যায় থেকে ‘প্রাইম মিনিস্টারস কাপ’ চালু করা হবে। ক্রিকেট খেলতে হবে, সাতাঁর কাটতে হবে। তোমরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তোমাদের সবকিছুতে এগিয়ে যেতে হবে, সব কিছুতে পারদর্শী হতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে বর্ণিল ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও দর্শকরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে সমগ্র স্টেডিয়াম ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন ও অভিনন্দন জানান। এরপর তিনি বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের বালিকাদের চূড়ান্ত খেলার উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, আমরা বিজয়ী হলে দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেবো। সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, শুধু ফুটবল বা ক্রিকেট নয়, সব ধরনের খেলা খেলে সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে তোমরা। আমরা যতটুকু পেরেছি, তোমরা এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি করবে।

May be an image of one or more people and text

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম, ‘ম্যাকানো সেট’ নিয়ে খুব খেলতাম। এটা বানাতাম, ওটা বানাতাম, অনেক জিনিস বানাতাম। তোমাদেরকে এরকম জিনিস বানাতে হবে। তোমাদের প্রত্যেকের মাথায় অনেক বুদ্ধি।

তিনি জানান, কয়েকদিন পরেই ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি ইনোভেটিভ প্রোগ্রাম হতে যাচ্ছে, যেখানে শিশুদের ইনোভেশনের মধ্যেও আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ছোট বন্ধুরা, তোমাদেরকে শুধু খেললে চলবে না। পড়ালেখা, সংস্কৃতি-সব কিছুতে পারদর্শী হতে হবে। কেউ গান, কেউ মিউজিক, ছবি আঁকা কিংবা কেরাত প্রতিযোগিতা— যে যা পছন্দ করে সবার ব্যবস্থা আমরা করব।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্রিকেট দিয়ে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। আগামীতে ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব ধরনের খেলা দিয়ে বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনবে। তোমরাই হবে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।

শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন অলিম্পিক— এমনটি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু স্থানীয় পর্যায়ে খেলা নয়, অলিম্পিকেও যেন আমরা ভালো ফলাফল করতে পারি সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

শিশুদের সবুজ মাঠে খেলার সুযোগ করে দিতে নতুন নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড় ও কোচদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেন। একইসঙ্গে টুর্নামেন্ট সফল করতে সহযোগিতা করায় সব শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

May be an image of one or more people, dais and text

চূড়ান্ত খেলায় বালিকা বিভাগের ফাইনালে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অন্যদিকে বালক বিভাগের ফাইনালে ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

টুর্নামেন্টের বালক বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) এবং সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার জিতেছে বরিশাল বাকেরগঞ্জের যথাক্রমে আবু রেদওয়ান ও শাহাদাত ইসলাম। বালিকা বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন নান্দাইলের পরশমণি এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার মোসাম্মৎ মারিয়া খাতুন।

অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনায় যুক্ত রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারদের হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

May be an image of one or more people, dais and text

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, একেএম শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদী আমিন, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন, আবুল হোসেন খান, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, পাবনা- ১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন, ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট তাবিথ আউয়াল, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।