নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সৌর প্যানেল, ফটোসেল ও ব্যাটারির ওপর কর কমানোর বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজন হলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডের প্রস্তাবও দেয়া হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিনিয়োগ ভবনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে জুনের মধ্যেই একটি বিনিয়োগবান্ধব ও বিনিয়োগমুখী নীতি ঘোষণা করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কী ধরনের সুবিধা দেয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সৌর প্যানেল, ফটোসেল ও ব্যাটারির ওপর কর কমানোর বিষয়ে কাজ করছেন বলেও জানিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ৫ বছর কর অবকাশের প্রস্তাবও দেয়া যেতে পারে। শুরুতে বিনিয়োগ বাড়াতে সুবিধা দিলে পরবর্তীতে সরকার রাজস্ব পাবে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী।
পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী আরো বলেন, সেখানে সরকার সৌরবিদ্যুতের বিভিন্ন উপকরণ আমদানি করে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশেও সরকার নিজে উপকরণ আমদানি করতে পারে অথবা বেসরকারি খাতকে শূন্য শুল্কে আমদানির সুযোগ দিতে পারে। শেষে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে এবং সরকার চায় দেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতে গার্মেন্টস শিল্পের মতো বড় বিনিয়োগ ও উন্নয়ন হোক।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, সরকারি মালিকানাধীন উপযুক্ত জমি পিপিপি কাঠামোর আওতায় ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্প উন্নয়ন ঝুঁকি কমবে এবং আরো বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।
সোনাগাজী ১৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেজার মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পটি সফল হলে বাংলাদেশে আরো অনেক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের পথ খুলে যাবে। প্রকল্পটিতে বেজা, বিপিডিবি, পিজিসিবি, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্রেডা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের গুরুত্বও বাড়বে। তাই শুরু থেকেই এ প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ও কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বেজা, বিদ্যুৎ বিভাগ, ইউএনডিপি ও এডিবির সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এই প্রকল্পের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য। প্রথমত, বেসরকারি খাতের অন্যতম বড় বাধা জমির সংকট মোকাবেলায় সরকারি জমি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগ বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, দেশে এই প্রথম ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) যুক্ত হওয়ায় তা বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রিড সমন্বয়ের পরীক্ষামূলক প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। তৃতীয়ত, সরকারের অব্যবহৃত জমিতে বেসরকারি বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই প্রকল্প আদর্শ উদাহরণ বা ‘কেস স্টাডি’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















