চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সরকার আগে প্রাধান্য দেবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৫ জেটি পরিদর্শন শেষে ব্রিফিং করেন। এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সরকার আগে প্রাধান্য দেবে। ইতোমধ্যে শ্রমিকরা আন্দোলন করছে, তাদের দাবি রয়েছে। বিদেশি কোম্পানি যদি বন্দরের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তখন সেদিকে চিন্তাভাবনা করে যাবে। তখন শ্রমিকরাও দেশের স্বার্থে আন্তরিক হবে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, এনসিটি অপারেশন, হ্যান্ডলিং করার একটি প্রস্তাবনা আছে। সেই প্রস্তাবনার যথেষ্ট ইতিবাচক সম্ভাবনা আছে। আবার ইতিবাচক সম্ভাবনা যেখানে ক্রিয়েট হয় সেখানে কিছু ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতাও তৈরি হয়। একটি চেঞ্জ যখন আপনি আনবেন নিশ্চয় কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় আবার কিছু অ্যাচিভ করার সুযোগ হয়। সেগুলো আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে বিশ্লেষণ করছি। শ্রমিকরা আন্দোলন করছিল, নিশ্চয় তাদের কিছু দাবি আছে, তাদের কিছু ন্যায্যতা আছে। সেটা তারা নিশ্চিত হতে চায়। কিন্তু সেই ন্যায্যতাকে আমরা আমলে নিয়ে আরও বেশি রাষ্ট্রের ন্যায্যতা যদি প্রতিষ্ঠিত করতে পারি নিশ্চয়ই শ্রমিকদের সেখানে রাষ্ট্র প্রেম বা দেশপ্রেমের জায়গায়তো তারা উদার হবে, যদি না তারা ডিপ্রাইভ হয়। আবার আমাদের বৃহত্তর স্বার্থটাও চিন্তা করতে হবে। আমরা একটা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্ব ফেস করছি। আমাদের সম্ভাবনাগুলো যদি কাজে লাগাতে চাই ডেফিনিটলি অন্যদের যারা বিনিয়োগ করবে তাদের কিছু রাইট রয়েছে। সেখানেও একটি প্রতিযোগিতা আছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। ভিয়েতনাম যে সুবিধা দিচ্ছে, শ্রীলঙ্কা, ইন্ডিয়া সুবিধা দিয়ে আবার তারা সুবিধা নিচ্ছে। আমাদেরও কোনো কোনো জায়গায় একটু উদার হয়ে বেশি সম্ভাবনা বা বেশি সুবিধা নেওয়ার মানসিকতা ক্রিয়েট করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা দ্রুত সিদ্ধান্তে যাওয়ার জন্যই কাজ করছি। মুক্ত টেন্ডার, জি টু জি, পিপিপি সব প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া। কোনো একটি প্রপোজাল যখন যে প্রক্রিয়ায় আসে প্রথমে সে প্রক্রিয়ার সাথেই বার্গেনিং করতে হয়। সে প্রক্রিয়া যদি আমাদের স্বার্থ রক্ষা না করে ডেফিনেটলি আমরা উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায়ও যেতে পারি। এটার সিদ্ধান্ত অবশ্যই দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্ত হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করে হতে চলেছে সেটি না যদি হয় নিশ্চয় তার জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য আছি। কারণ আমরা ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। জনরায়ের ভিত্তিতে আছি। জনগণের স্বার্থরক্ষা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। ডেফিনেটলি বর্তমান সরকার সেটি বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে। কী সিদ্ধান্ত নেবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জানাব।
এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ রবিউল আলম বলেন, নিয়ম বহির্ভূত খালি জায়গা বরাদ্দ না, কোনো কাজই হবে না। হওয়া উচিতও না। কিন্তু কোথায় নিয়ম বহির্ভূত হয়েছে সেটি শোনা একরকম, বিশ্লেষণ এক রকম। আমরা বরং একটু বিশ্লেষণ করে দেখি। লালদিয়া, বে টার্মিনাল, পতেঙ্গা টার্মিনাল করে নিশ্চয় আমাদের ক্যাপাসিটি বাড়াচ্ছি। এর প্রয়োজনও রয়েছে। আমি যেটা জানলাম, ৪০ শতাংশ খালি কনটেইনার যাচ্ছে দেশের বাইরে। তার মানে আমার রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ আছে। এ সুফল সম্পূর্ণ রাষ্ট্র পেত। প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি রপ্তানি এ পোর্ট কেন্দ্রিক হয়। দৃশ্যমান অর্জন এ পোর্টের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠিত এটা প্রমাণিত। যার ফলে এটার সর্বাধিক ব্যবহার করতে চাই। মনে রাখা দরকার, সর্বাধিক ব্যবহার যখন আপনি চাইবেন প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে কোনো কিছু আপনি সেক্রিফাইস করছেন। কিন্তু আপনি যখন ধৈর্য রাখবেন সেটি যখন পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হবে দেখবেন অনেক বেশি সুফল আমরা পেতে চলেছি। যে কনটেইনার টার্মিনালগুলো ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, প্রস্তাবনাগুলো আছে সেগুলো দেশের স্বার্থ রক্ষা করে, অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে বিবেচনা করছি। আমার বিশ্বাস নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে আপনার সেই বজবাবদিহিমূলক চুক্তি ও প্রকল্প নিশ্চিতভাবে পাবেন।
অনিয়ম দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড যদি হয়ে থাকে বিগত দিনে শুধু চট্টগ্রাম পোর্ট না, বাংলাদেশে যেভাবে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে, প্রকল্পের নামে অপব্যবহার হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে প্রতিটি সরকার খতিয়ে দেখছে। আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসব অনিয়ম আপনারা অভিযোগ করে বললেন, আবার কিছু অভিযোগ ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় স্বউদ্যোগে বিবেচনা করছে, তদন্ত করছে, তদন্ত অব্যাহত থাকবে, প্রকাশ করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বন্দরে বিনিয়োগ নিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, যারা এই বন্দরে বিনিয়োগ করতে চায় তাদের কিছু কথা রয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন দেশ শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম যেভাবে সুবিধা দিচ্ছে দিয়ে তারা আবার সুবিধা নিচ্ছে। সে জায়গায় আমাদের প্রতিযোগিতার বিশ্বে কাজ করতে হবে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, কিছু নতুন প্রকল্প পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ল্যান্ডলর্ড মডেল নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চায়। এতে কন্টেইনার টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। সফরকালে বন্দর কার্যক্রম ঘুরে দেখে বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর যেভাবে এগিয়েছে, সেটা ইতিবাচক। তবে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। আমরা চাই, সমন্বিতভাবে কাজ করে এই সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে কিছু বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর কিছু বিষয়ে ঢাকায় ফিরে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির জন্য যে খাতগুলো সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে, সেগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর চট্টগ্রাম বন্দর সেই গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর একটি। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে এসে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ঘুরে দেখেন নৌপরিবহন মন্ত্রী।
এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 






















