নিজস্ব প্রতিবেদক :
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আগামীর বাংলাদেশ শিশুদের জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরের সূচনা করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তখন তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মকে যদি সত্যিকার অর্থেই একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তৈরি করতে হয় তাহলে শিশুদেরকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে শিশু একাডেমির কার্যক্রম জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যদিও পরবর্তীতে নানা কারণে এই প্রতিষ্ঠান শিশুদের বিকাশে প্রত্যাশিত সহায়তা পায়নি।
তিনি বলেন, শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সচেতন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের মননশীলতা, চিন্তার প্রসার এবং নেতৃত্বদানের সক্ষমতা গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই জেলা পর্যায় পর্যন্ত শিশু একাডেমির পরিসর বিস্তৃত হয়েছে; যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে শিশু একাডেমি শিশুদের বিকাশের জন্য যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি।
তিনি বলেন, শিশুদের অধিকার আদায়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সজাগ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিটি জেলায় এবং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত শিশুদের বিকাশের জন্য, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের মননশীলতা ও চিন্তার পরিধির ব্যাপ্তিলাভ করানোর জন্য এবং শিশুদের আগামীর নেতৃত্ব প্রদানে পারদর্শী করে গড়ে তোলার জন্য সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ দেশবাসীকে সঠিক পথে চলতে অনুপ্রাণিত করবে এবং আগামী বৈশাখ আরও সুন্দর হবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন তার বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বৈশাখের প্রথম দিনে পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করার মুহূর্তটি আমাদের জীবনে নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বাঙালিয়ানা ও সংস্কৃতির বীজ বপনে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। তিনি শিশুদের সৃজনশীল বিকাশের জন্য সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সহধর্মিনী ডা. শরীফা করিম স্বর্ণা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ এর অধীন দপ্তর-সংস্থাসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক এবং সাংবাদিকবৃন্দ।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একাডেমি চত্ত্বরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























