Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বাসের রুট পারমিট বাতিল : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঈদের সময় কোনো বাস কোম্পানি অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তার রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে ঈদে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতি সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদ আসলেই পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যায়- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করা আছে। সেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে একটি টাকা বেশি নিলে আমাদেরকে জানান, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এটার নিয়ন্ত্রণ যে কোনো মূল্যে করা হবে।

সভায় পরিবহন মালিকরা ছিলেন, তারা ভাড়া বেশি নেবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন বলেও জানান মন্ত্রী।

এসি বাসের ভাড়া নির্ধারিত নেই, তারা ইচ্ছামতো ভাড়া নেয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো বাসেরই ইচ্ছেমতো ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত ভাড়া অনুমোদিত কি না, সেটা প্রশ্ন করতে পারেন। নির্ধারিত ভাড়া নেয়, ইচ্ছামতো কোনো ভাড়া নিতে পারে না।

আপনি কি তাহলে বলছেন ঈদের সময় কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলে সেই বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন? এমন প্রশ্নে শেখ রবিউল আলম বলেন, আসলে নয়, সত্যিকারে (ব্যবস্থা) নেবো। সেটা আপনারা দেখতে পাবেন।

কী ধরনের ব্যবস্থা নেবেন- এ বিষয়ে তিনি বলেন, যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেয়, তবে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। ওই ভাড়া নিতে গিয়ে যদি ফৌজদারি অপরাধ ঘটে থাকে, তাকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে মালিক বা শ্রমিক সমিতি যদি নিবন্ধিত ও বৈধভাবে তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করে, সেটিকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। কারণ শ্রমিক ও মালিকেরা তাদের কল্যাণে নেন।’

পরিবহন খাতে সরকার চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সমিতি বা সংগঠনের বৈধতা না থাকলে এবং তারা স্বেচ্ছাচারীভাবে মালিক বা শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করলে, তা চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্টভাবে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ ও স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এ সময় জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় বা সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

মন্ত্রী  বলেন, ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন, যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তৎপর থাকবে এবং সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজন হলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সড়কে তদারকি জোরদার করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে অস্থায়ী দোকান, অবৈধ পার্কিং ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। চলাচলের অনুপযোগী বা বিকল হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সড়কের চলমান সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, গার্মেন্টস কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়। এ ছাড়া প্রয়োজনে বিআরটিসির অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা ও পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ পরিবারে অনুদানের চেক বিতরণ

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বাসের রুট পারমিট বাতিল : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:২৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঈদের সময় কোনো বাস কোম্পানি অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তার রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে ঈদে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতি সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদ আসলেই পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যায়- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করা আছে। সেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে একটি টাকা বেশি নিলে আমাদেরকে জানান, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। এটার নিয়ন্ত্রণ যে কোনো মূল্যে করা হবে।

সভায় পরিবহন মালিকরা ছিলেন, তারা ভাড়া বেশি নেবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন বলেও জানান মন্ত্রী।

এসি বাসের ভাড়া নির্ধারিত নেই, তারা ইচ্ছামতো ভাড়া নেয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো বাসেরই ইচ্ছেমতো ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত ভাড়া অনুমোদিত কি না, সেটা প্রশ্ন করতে পারেন। নির্ধারিত ভাড়া নেয়, ইচ্ছামতো কোনো ভাড়া নিতে পারে না।

আপনি কি তাহলে বলছেন ঈদের সময় কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলে সেই বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন? এমন প্রশ্নে শেখ রবিউল আলম বলেন, আসলে নয়, সত্যিকারে (ব্যবস্থা) নেবো। সেটা আপনারা দেখতে পাবেন।

কী ধরনের ব্যবস্থা নেবেন- এ বিষয়ে তিনি বলেন, যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেয়, তবে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। ওই ভাড়া নিতে গিয়ে যদি ফৌজদারি অপরাধ ঘটে থাকে, তাকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে মালিক বা শ্রমিক সমিতি যদি নিবন্ধিত ও বৈধভাবে তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করে, সেটিকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। কারণ শ্রমিক ও মালিকেরা তাদের কল্যাণে নেন।’

পরিবহন খাতে সরকার চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সমিতি বা সংগঠনের বৈধতা না থাকলে এবং তারা স্বেচ্ছাচারীভাবে মালিক বা শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করলে, তা চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্টভাবে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ ও স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এ সময় জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় বা সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

মন্ত্রী  বলেন, ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন, যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তৎপর থাকবে এবং সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজন হলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সড়কে তদারকি জোরদার করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে অস্থায়ী দোকান, অবৈধ পার্কিং ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। চলাচলের অনুপযোগী বা বিকল হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সড়কের চলমান সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, গার্মেন্টস কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়। এ ছাড়া প্রয়োজনে বিআরটিসির অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা ও পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।