সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতকে সবচেয়ে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ খাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে শিগগিরই দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসব কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্র সরবরাহের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন কি না সে বিষয়টি মনিটরিং করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রথম নিজ জেলা সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রত্যেক ডাক্তারদের নিয়মিত অফিসে রোগী দেখতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে হাসপাতালগুলোকে নিজের হাসপাতাল মনে করতে হবে। যেখানে অন্যায় দেখবেন সেখানে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করবেন।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, গত ১৬ বছরে স্বাস্থ্যখাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। আমরা মাত্র দুই সপ্তাহ হলো দায়িত্ব নিয়েছি। জনগণের স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা পূরণে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলে সেবা পৌঁছে দিতে শুধু নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগই নয়, তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও কর্মস্থলে নিয়মিত থাকার ব্যবস্থা করা হবে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ বাড়ানো হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিলাম। এদেশ থেকে লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ পাচার হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে হলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। আমরা প্রত্যেক নাগরিকের এই অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে যাবো।
এম এ মুহিত বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব এবং অগ্রাধিকার দিয়েছি। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে সেবা দেওয়ার জন্য আমরা এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করব। সেই সাথে তৃণমূলে এই সেবাকে উন্নত করার জন্য এদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, এরা যেন নিয়মিত চাকরিস্থলে থাকে, যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্রের সাপ্লাই বাড়ানো- এগুলো সেখানে আছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের যেসব সমস্যার কথা বলেছে (কোথাও হয়তো স্থাপনা সামনে অবৈধ স্থাপনা তৈরি, কোথাও দালালদের দৌরাত্ন্য)। এই সমস্যাগুলো এত বড় এবং এই সমস্যাগুলো শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ওখান থেকে বসে নির্দেশনা দিয়ে এই পরিবর্তনগুলো আনা সম্ভব না।
সরকারিভাবে জলাতঙ্কের টিকা হাসপাতালে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু সিরাজগঞ্জের সমস্যা না, সারাদেশেই এ সমস্যা রয়েছে। আমরা এরইমধ্যে সমন্বয় বৈঠক করেছি। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ একেএম শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ডা. এম এ মুহিত।
এসময় জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার মনি ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শিমুল তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 






















