Dhaka মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৯৯ আসনে পৌঁছেছে ব্যালট, ফল প্রকাশে দেরি হবে না : ইসি সচিব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০২:১৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০৪ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে সব ব্যালট পেপার চলে গেছে। এ ছাড়া ভোটের ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

মঙ্গলবার ( ১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টলে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে আমি আপনাদের কাছে জানিয়ে দিতে পারি যে, আমাদের এ পর্যন্ত যতগুলো আসনের ভোট হওয়ার কথা ২৯৯টা; একটা আসনে আমাদের একজন প্রার্থীর ইন্তেকাল করার কারণে ওটাকে স্থগিত করা হয়েছে এবং ওটা পরে হবে। ২৯৯ টা আসনের সব ব্যালট পেপার চলে গেছে, সব নির্বাচনি উপকরণ চলে গেছে। ব্যালট পেপার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমিকভাবে আপনাদের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে চলে যাচ্ছে। তার মানে ভোট গ্রহণের যে প্রস্তুতি, সেটা সম্পন্ন হয়েছে।

আখতার আহমেদ বলেন, এই প্রস্তুতির পর এখন আমাদের মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা। আমরা আগামী ১২ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টার সময় ভোট দিয়ে আমরা একটা যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণে আসব এবং আমাদের শুভ সূচনা হবে। এবং ওই সময় পর্যন্তই আমরা এখন অপেক্ষমান।

তিনি বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হলে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রথমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যাবে। সেখান থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল সংকলন করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। কমিশন পর্যায়ক্রমে সেই ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করবে।

ইসি সচিব বলেন, এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে আলাদা একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট গণনায় কাঠামোগত প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন থাকায় এসব কেন্দ্রের ফলাফল আসতে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশ অযথা দীর্ঘায়িত হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

আখতার আহমেদ বলেন, কোনো কোনো সংসদীয় আসনে ১২০টির বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রসহ মোট ১২১টি কেন্দ্রের ফলাফল একসঙ্গে সংকলন করতে হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হলে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে এই সংকলন কার্যক্রম শুরু হবে, যার সময়সূচি রিটার্নিং কর্মকর্তারা আগেই ঘোষণা করেছেন।

সাংবাদিকদের ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্যের ব্যাখ্যাও দেবে। তবে অপতথ্য ও অপপ্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, সত্য যত কঠিনই হোক, সত্যই বলা হবে।

আখতার আহমেদ বলেন, রক্তস্নাত জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অঙ্গীকার সুষ্ঠু নির্বাচন। স্বীকার করছি ভোটার তালিকা করতে ১০০ ভাগ শুদ্ধভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় নাই। তরুণ ভোটারদের অন্তুর্ভুক্তিতে আইন সংশোধন করা হয়েছে। ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ২৫ বছর হয়েছে তাদেরকেই ভোটার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২৯৯ আসনে সব ব্যালট পেপার চলে গেছে। ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিতে যাবেন কেন্দ্রে। সাংবাদিকেরা সৎ তথ্যের ব্যবহার করবেন। তবে অপতথ্য যেন প্রচার না হয়। সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় নির্বাচন কমিশন। সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বিদেশি সংবাদকর্মীদের দায়িত্ব পালনের জন্য এই মিডিয়া সেন্টার।

আখতার আহমেদ বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবে। পোস্টাল ব্যালট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে। তবে সব কেন্দ্রের ফলাফল ও ব্যালট গণনায় যে সময় লাগবে সেটা দিতে হবে। ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘায়িত হবে না।

ইসি সচিব বলেন, ৫০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন আনা যাবে না এমন নির্দেশনায় অনেক রাজনৈতিক নেতাদের অসন্তুষ্ট দেখেছি। পরে আমরা তা প্রত্যাহার করেছি। অর্থাৎ যেখানে অসঙ্গতি লাগছে আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করেছি। এখন মাহেন্দ্রক্ষণের জন্যে অপেক্ষা বলেন তিনি।

আখতার আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ২৪ এ নভেম্বর ইসির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বেশ কিছু কাজ করা হয়েছে। যেমন সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা এবং এটি করতে গিয়ে অসংখ্য ত্রুটি দেখেছি, যা সমাধানও করেছি। তরুণ ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। এছাড়াও নতুন দলের নিবন্ধন দেয়া হয়েছে।

আর মাত্র ৪৩ ঘণ্টা পর আমাদের ভোট। একটা ব্যালটে আমরা সরকার নির্বাচন করব আর আরেকটিতে সংস্কারের পক্ষে-এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সব ব্যালট পেপার চলে গেছে। ভোট গ্রহণের যেসব প্রস্তুতি আছে, তা শুরু হয়ে গেছে।এ নির্বাচনে উৎসব মুখর, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে বলেও প্রত্যাশা রয়েছে।

আমরা তথ্য সরবরাহ করব। তবে আমরা অপপ্রচার থেকে নিজেদের মুক্ত রাখব-এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ৫০০ গজের মধ্যে মোবাইল আনা যাবে না বলায় অনেকের অসন্তুষ্ট দেখেছি, পরে আমরা তা প্রত্যাহার করেছি। অর্থাৎ আমাদের যেখানে অসঙ্গতি লাগছে, আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করেছি।

ইসিতে মিডিয়া সেন্টার নিয়ে সচিব বলেন, বিদেশি সাংবাদিকদের জন্যে এ মিডিয়া সেন্টার করা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের যাতায়াতের সুবিধা নিয়েও কাজ হচ্ছে এছাড়াও ফলাফল নিয়ে কাজ করছি। সকাল সাড়ে ৭টা ভোটরগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট হবে, এরপর ধীরে ধীরে ফলাফল আসবে

রিটার্নিং অফিসারের কাছে পোস্টাল ব্যালট যে কার্যালয় থাকবে, সেখানকার ফলাফল পেতে একটু সময় লাগতে পারে তবে তা দীর্ঘায়িত হবে না বলেও জানান তিনি।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করার ‘চ্যালেঞ্জ’ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, এই জায়গায় আসাটা খুব সহজ ছিল না, মসৃণ ছিল না। কিন্তু আমরা একটু একটু করে ধাপে ধাপে এটাকে উত্তরণ করে নিয়ে আসতে পেরেছি। লক্ষ্যটা কী? উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ, সুন্দর, সুষ্ঠু, অর্থবহ একটা নির্বাচন দেওয়া।

সংবাদকর্মীদের সত্য তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সত্যকে আপনারা জানান, সত্যকে ধারণ করেন। আমি এ অর্থে বলছি না যে, আপনারা সত্যকে ধারণ করেন না; অবশ্যই সত্যকে ধারণ করেন, কিন্তু এটাকে লালন করতে হবে। এটাই হচ্ছে আমার অনুরোধ। আমরা তথ্য সরবরাহ করব, তথ্য দিব। তথ্যের ব্যাখ্যাটা আপনাদের থাকবে, কিন্তু অপতথ্য-অপপ্রচার থেকে আমরা বিরত থাকব। যেটা সত্য সেটাই বলব। সে সত্য আমার যতই নির্মম কঠিন হোক না কেন, আমরা সেটাই বলব; অসুবিধা নেই তো। সত্য সত্যই।

নির্বাচনের ফল একীভূতকরণ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, রেজাল্ট ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে আমি অতীতেও করেছি একটু, আবারও মনে হয় আমার বলা উচিত- প্রয়োজনীয়তা মনে করছি। সেটা হচ্ছে যে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পোস্টাল ব্যালটের যে কেন্দ্রটা, সেখানে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য কেন্দ্রের রেজাল্ট আসার থেকে একটু বেশি সময় লাগবে। একটু বেশি সময় লাগবে যদিও আমরা এটাকে সমান করার চেষ্টা করছি।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তার কারণ হচ্ছে যে ওখানে ব্যালট পেপারের কাঠামোগত কারণেই একটু বিচার-বাছাই বা একাধিকবার পরীক্ষা করার ব্যাপার থাকে। তো আমরা সেটাকে বিবেচনায় রেখে তবে কোনো অবস্থাতেই এটা দীর্ঘায়িত হবে না।

বিদেশি সংবাদকর্মীদের জন্য স্থাপিত মিডিয়া সেন্টার প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদকর্মীদের যাতায়াত ও কাজের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই, উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অর্থবহ নির্বাচন আয়োজন করা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এবারের নির্বাচন আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই নির্বাচনে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সে কারণেই এই মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিচ্ছেন ৫৪০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। তারা স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারবেন বলে আমরা আশ করি।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, চিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ আমরা নিশ্চিত করতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। তবে এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক যাত্রা। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা করছি। এবারের নির্বাচনে ফেক নিউজের ছড়াছড়ি দেখতে পাচ্ছি। তবে আমাদের কাজ হবে সত্য বের করা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাজশাহীতে ট্রাক-ভটভটি সংঘর্ষে নিহত ২

২৯৯ আসনে পৌঁছেছে ব্যালট, ফল প্রকাশে দেরি হবে না : ইসি সচিব

প্রকাশের সময় : ০২:১৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে সব ব্যালট পেপার চলে গেছে। এ ছাড়া ভোটের ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

মঙ্গলবার ( ১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টলে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে আমি আপনাদের কাছে জানিয়ে দিতে পারি যে, আমাদের এ পর্যন্ত যতগুলো আসনের ভোট হওয়ার কথা ২৯৯টা; একটা আসনে আমাদের একজন প্রার্থীর ইন্তেকাল করার কারণে ওটাকে স্থগিত করা হয়েছে এবং ওটা পরে হবে। ২৯৯ টা আসনের সব ব্যালট পেপার চলে গেছে, সব নির্বাচনি উপকরণ চলে গেছে। ব্যালট পেপার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমিকভাবে আপনাদের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে চলে যাচ্ছে। তার মানে ভোট গ্রহণের যে প্রস্তুতি, সেটা সম্পন্ন হয়েছে।

আখতার আহমেদ বলেন, এই প্রস্তুতির পর এখন আমাদের মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা। আমরা আগামী ১২ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টার সময় ভোট দিয়ে আমরা একটা যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণে আসব এবং আমাদের শুভ সূচনা হবে। এবং ওই সময় পর্যন্তই আমরা এখন অপেক্ষমান।

তিনি বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হলে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রথমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যাবে। সেখান থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল সংকলন করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। কমিশন পর্যায়ক্রমে সেই ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করবে।

ইসি সচিব বলেন, এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে আলাদা একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট গণনায় কাঠামোগত প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন থাকায় এসব কেন্দ্রের ফলাফল আসতে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশ অযথা দীর্ঘায়িত হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

আখতার আহমেদ বলেন, কোনো কোনো সংসদীয় আসনে ১২০টির বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রসহ মোট ১২১টি কেন্দ্রের ফলাফল একসঙ্গে সংকলন করতে হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হলে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে এই সংকলন কার্যক্রম শুরু হবে, যার সময়সূচি রিটার্নিং কর্মকর্তারা আগেই ঘোষণা করেছেন।

সাংবাদিকদের ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্যের ব্যাখ্যাও দেবে। তবে অপতথ্য ও অপপ্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, সত্য যত কঠিনই হোক, সত্যই বলা হবে।

আখতার আহমেদ বলেন, রক্তস্নাত জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অঙ্গীকার সুষ্ঠু নির্বাচন। স্বীকার করছি ভোটার তালিকা করতে ১০০ ভাগ শুদ্ধভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় নাই। তরুণ ভোটারদের অন্তুর্ভুক্তিতে আইন সংশোধন করা হয়েছে। ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ২৫ বছর হয়েছে তাদেরকেই ভোটার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২৯৯ আসনে সব ব্যালট পেপার চলে গেছে। ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিতে যাবেন কেন্দ্রে। সাংবাদিকেরা সৎ তথ্যের ব্যবহার করবেন। তবে অপতথ্য যেন প্রচার না হয়। সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় নির্বাচন কমিশন। সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বিদেশি সংবাদকর্মীদের দায়িত্ব পালনের জন্য এই মিডিয়া সেন্টার।

আখতার আহমেদ বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবে। পোস্টাল ব্যালট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে। তবে সব কেন্দ্রের ফলাফল ও ব্যালট গণনায় যে সময় লাগবে সেটা দিতে হবে। ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘায়িত হবে না।

ইসি সচিব বলেন, ৫০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন আনা যাবে না এমন নির্দেশনায় অনেক রাজনৈতিক নেতাদের অসন্তুষ্ট দেখেছি। পরে আমরা তা প্রত্যাহার করেছি। অর্থাৎ যেখানে অসঙ্গতি লাগছে আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করেছি। এখন মাহেন্দ্রক্ষণের জন্যে অপেক্ষা বলেন তিনি।

আখতার আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ২৪ এ নভেম্বর ইসির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বেশ কিছু কাজ করা হয়েছে। যেমন সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা এবং এটি করতে গিয়ে অসংখ্য ত্রুটি দেখেছি, যা সমাধানও করেছি। তরুণ ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। এছাড়াও নতুন দলের নিবন্ধন দেয়া হয়েছে।

আর মাত্র ৪৩ ঘণ্টা পর আমাদের ভোট। একটা ব্যালটে আমরা সরকার নির্বাচন করব আর আরেকটিতে সংস্কারের পক্ষে-এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সব ব্যালট পেপার চলে গেছে। ভোট গ্রহণের যেসব প্রস্তুতি আছে, তা শুরু হয়ে গেছে।এ নির্বাচনে উৎসব মুখর, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে বলেও প্রত্যাশা রয়েছে।

আমরা তথ্য সরবরাহ করব। তবে আমরা অপপ্রচার থেকে নিজেদের মুক্ত রাখব-এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ৫০০ গজের মধ্যে মোবাইল আনা যাবে না বলায় অনেকের অসন্তুষ্ট দেখেছি, পরে আমরা তা প্রত্যাহার করেছি। অর্থাৎ আমাদের যেখানে অসঙ্গতি লাগছে, আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করেছি।

ইসিতে মিডিয়া সেন্টার নিয়ে সচিব বলেন, বিদেশি সাংবাদিকদের জন্যে এ মিডিয়া সেন্টার করা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের যাতায়াতের সুবিধা নিয়েও কাজ হচ্ছে এছাড়াও ফলাফল নিয়ে কাজ করছি। সকাল সাড়ে ৭টা ভোটরগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট হবে, এরপর ধীরে ধীরে ফলাফল আসবে

রিটার্নিং অফিসারের কাছে পোস্টাল ব্যালট যে কার্যালয় থাকবে, সেখানকার ফলাফল পেতে একটু সময় লাগতে পারে তবে তা দীর্ঘায়িত হবে না বলেও জানান তিনি।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করার ‘চ্যালেঞ্জ’ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, এই জায়গায় আসাটা খুব সহজ ছিল না, মসৃণ ছিল না। কিন্তু আমরা একটু একটু করে ধাপে ধাপে এটাকে উত্তরণ করে নিয়ে আসতে পেরেছি। লক্ষ্যটা কী? উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ, সুন্দর, সুষ্ঠু, অর্থবহ একটা নির্বাচন দেওয়া।

সংবাদকর্মীদের সত্য তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সত্যকে আপনারা জানান, সত্যকে ধারণ করেন। আমি এ অর্থে বলছি না যে, আপনারা সত্যকে ধারণ করেন না; অবশ্যই সত্যকে ধারণ করেন, কিন্তু এটাকে লালন করতে হবে। এটাই হচ্ছে আমার অনুরোধ। আমরা তথ্য সরবরাহ করব, তথ্য দিব। তথ্যের ব্যাখ্যাটা আপনাদের থাকবে, কিন্তু অপতথ্য-অপপ্রচার থেকে আমরা বিরত থাকব। যেটা সত্য সেটাই বলব। সে সত্য আমার যতই নির্মম কঠিন হোক না কেন, আমরা সেটাই বলব; অসুবিধা নেই তো। সত্য সত্যই।

নির্বাচনের ফল একীভূতকরণ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, রেজাল্ট ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে আমি অতীতেও করেছি একটু, আবারও মনে হয় আমার বলা উচিত- প্রয়োজনীয়তা মনে করছি। সেটা হচ্ছে যে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পোস্টাল ব্যালটের যে কেন্দ্রটা, সেখানে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য কেন্দ্রের রেজাল্ট আসার থেকে একটু বেশি সময় লাগবে। একটু বেশি সময় লাগবে যদিও আমরা এটাকে সমান করার চেষ্টা করছি।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তার কারণ হচ্ছে যে ওখানে ব্যালট পেপারের কাঠামোগত কারণেই একটু বিচার-বাছাই বা একাধিকবার পরীক্ষা করার ব্যাপার থাকে। তো আমরা সেটাকে বিবেচনায় রেখে তবে কোনো অবস্থাতেই এটা দীর্ঘায়িত হবে না।

বিদেশি সংবাদকর্মীদের জন্য স্থাপিত মিডিয়া সেন্টার প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদকর্মীদের যাতায়াত ও কাজের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই, উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অর্থবহ নির্বাচন আয়োজন করা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এবারের নির্বাচন আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই নির্বাচনে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সে কারণেই এই মিডিয়া সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিচ্ছেন ৫৪০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। তারা স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারবেন বলে আমরা আশ করি।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, চিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ আমরা নিশ্চিত করতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। তবে এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক যাত্রা। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা করছি। এবারের নির্বাচনে ফেক নিউজের ছড়াছড়ি দেখতে পাচ্ছি। তবে আমাদের কাজ হবে সত্য বের করা।