Dhaka মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে যেকোনো অস্ত্র থ্রেট : আইজিপি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০১:০৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৮ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো অস্ত্রই থ্রেট বলে মন্তব্য করছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

থানা থেকে লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বলেন, যেকোনো অস্ত্র থ্রেট। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। সেজন্য মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কতগুলো বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং কতগুলো জমা দেওয়া হয়নি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা দিয়েছেন মালিকরা। কতগুলো অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি তার সংখ্যা বেশি নয়। অনেকে হয়তো দেশে লকারে তালা মেরে রেখে বিদেশে আছেন। তাদের বৈধ অস্ত্রগুলো হয়তো জমা পড়েনি, তবে তার সংখ্যা খুবই কম।

আইজিপি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করার লক্ষ্যে বৈধ অস্ত্রের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে যেন ভোটগ্রহণ হয় সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ৬ লাখ আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য এবং প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিন ধরনের হবে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এবার নিরাপত্তার রক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৯০ ভাগ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এছাড়া পুলিশ সুপাররা ড্রোন ব্যবহার করা হবে।

আইজিপি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।
তিনি জানান, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।আইজিপি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের পক্ষ থেকে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ সুপাররা ড্রোন ক্যামেরার সহায়তা নেবেন।

অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনকালীন বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। লাইসেন্স করা ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে এক হাজারের বেশি অস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেকোনো অবৈধ অস্ত্রই বড় হুমকি। এ কারণে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন।

আইজিপি বলেন, একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। তবে বাস্তবতায় কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর তদন্ত চলছে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৩ হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন শুটারের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই তালিকাটি কার সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যক অপরাধী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে এমন আশঙ্কা নেই।

সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি স্বীকার করেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে পুলিশের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরে পুরোপুরি বদলানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

৫ আগস্টে জেল থেকে পালানো আসামি ও জঙ্গি হুমকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, প্রচারকালীন সময়ে কিছু আশঙ্কা থাকলেও বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই।

নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে আইজিপি বলেন, আমরা ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই যাতে এই নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য। কতটা সফল হলাম, তার মূল্যায়ন করবে দেশবাসী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারের সময় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ছিল জানিয়ে বাহারুল আলম বলেন, এখনো সেই শঙ্কা ‘উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আমি মনে করি জঙ্গি হামলার আশঙ্কাটাৃকেরানীগঞ্জের ঘটনা (মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ) যদি না ঘটতৃএ মহূর্তে তীব্র আশঙ্কা বোধ করছি না, তবে উড়িয়েও দিচ্ছি না। হামলার ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

নির্বাচনে জঙ্গি হামলার কোনো শঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের প্রধান আশঙ্কা ছিল প্রচার অভিযানের সময়, ক্যাম্পেইনেৃ যারা ইলেকশনবিরোধী, তারা মনে করে, ওদের ভাষায় তথাকথিত ওয়েস্টার্ন ডেমোক্রেসিটা, এটা তাদের মতবাদের সাথে মেলে না। তাদের ধর্মভিত্তিক মনোনয়ন হবে। এগুলোর তারা বিরোধী। এরাই এরকম একটা প্ল্যানৃ, নির্বাচনি প্রচার অভিযানের সময় ফোটানো, ইত্যাদি করা, সেটাৃ গতকাল নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে, কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখন আশ্বস্ত হতে পারি জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এখন আর ওভাবে নেই।

ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনা ‘রাজনৈতিক’ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত চলছে।

আইজিপি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, এর বাইরে থাকবে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স।

সাম্প্রতিক সময়ে ৩ হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন ‘শুটারের’ তালিকা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাহারুল আলম বলেন, এই তালিকাটি কার, সেটা আমি নিশ্চিত নই। সংখ্যা ৩ হাজার বেশি বা কম হতে পারে। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যক অপরাধী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে-এমন আশঙ্কা নেই। কোথাও বিচ্ছিন্ন অপরাধ, ডাকাতি বা হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, কিন্তু তা পুরো নির্বাচনকে ব্যাহত করার মত শক্তি এখন নেই।

হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অতিরিক্ত আইজিরা হলেন- এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন); মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (অর্থ); মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) ও সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট)।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

রাজশাহীতে ট্রাক-ভটভটি সংঘর্ষে নিহত ২

নির্বাচনে যেকোনো অস্ত্র থ্রেট : আইজিপি

প্রকাশের সময় : ০১:০৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো অস্ত্রই থ্রেট বলে মন্তব্য করছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

থানা থেকে লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বলেন, যেকোনো অস্ত্র থ্রেট। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। সেজন্য মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কতগুলো বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং কতগুলো জমা দেওয়া হয়নি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা দিয়েছেন মালিকরা। কতগুলো অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি তার সংখ্যা বেশি নয়। অনেকে হয়তো দেশে লকারে তালা মেরে রেখে বিদেশে আছেন। তাদের বৈধ অস্ত্রগুলো হয়তো জমা পড়েনি, তবে তার সংখ্যা খুবই কম।

আইজিপি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করার লক্ষ্যে বৈধ অস্ত্রের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে যেন ভোটগ্রহণ হয় সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ৬ লাখ আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য এবং প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিন ধরনের হবে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এবার নিরাপত্তার রক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৯০ ভাগ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এছাড়া পুলিশ সুপাররা ড্রোন ব্যবহার করা হবে।

আইজিপি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।
তিনি জানান, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।আইজিপি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের পক্ষ থেকে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ সুপাররা ড্রোন ক্যামেরার সহায়তা নেবেন।

অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনকালীন বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। লাইসেন্স করা ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে এক হাজারের বেশি অস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেকোনো অবৈধ অস্ত্রই বড় হুমকি। এ কারণে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন।

আইজিপি বলেন, একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। তবে বাস্তবতায় কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর তদন্ত চলছে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৩ হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন শুটারের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই তালিকাটি কার সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যক অপরাধী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে এমন আশঙ্কা নেই।

সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি স্বীকার করেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে পুলিশের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরে পুরোপুরি বদলানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

৫ আগস্টে জেল থেকে পালানো আসামি ও জঙ্গি হুমকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, প্রচারকালীন সময়ে কিছু আশঙ্কা থাকলেও বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই।

নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে আইজিপি বলেন, আমরা ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই যাতে এই নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য। কতটা সফল হলাম, তার মূল্যায়ন করবে দেশবাসী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারের সময় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ছিল জানিয়ে বাহারুল আলম বলেন, এখনো সেই শঙ্কা ‘উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আমি মনে করি জঙ্গি হামলার আশঙ্কাটাৃকেরানীগঞ্জের ঘটনা (মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ) যদি না ঘটতৃএ মহূর্তে তীব্র আশঙ্কা বোধ করছি না, তবে উড়িয়েও দিচ্ছি না। হামলার ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

নির্বাচনে জঙ্গি হামলার কোনো শঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের প্রধান আশঙ্কা ছিল প্রচার অভিযানের সময়, ক্যাম্পেইনেৃ যারা ইলেকশনবিরোধী, তারা মনে করে, ওদের ভাষায় তথাকথিত ওয়েস্টার্ন ডেমোক্রেসিটা, এটা তাদের মতবাদের সাথে মেলে না। তাদের ধর্মভিত্তিক মনোনয়ন হবে। এগুলোর তারা বিরোধী। এরাই এরকম একটা প্ল্যানৃ, নির্বাচনি প্রচার অভিযানের সময় ফোটানো, ইত্যাদি করা, সেটাৃ গতকাল নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে, কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখন আশ্বস্ত হতে পারি জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এখন আর ওভাবে নেই।

ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনা ‘রাজনৈতিক’ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত চলছে।

আইজিপি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, এর বাইরে থাকবে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স।

সাম্প্রতিক সময়ে ৩ হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন ‘শুটারের’ তালিকা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাহারুল আলম বলেন, এই তালিকাটি কার, সেটা আমি নিশ্চিত নই। সংখ্যা ৩ হাজার বেশি বা কম হতে পারে। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যক অপরাধী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে-এমন আশঙ্কা নেই। কোথাও বিচ্ছিন্ন অপরাধ, ডাকাতি বা হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, কিন্তু তা পুরো নির্বাচনকে ব্যাহত করার মত শক্তি এখন নেই।

হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অতিরিক্ত আইজিরা হলেন- এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন); মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (অর্থ); মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) ও সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট)।