Dhaka শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের টানা ষষ্ঠ জয়

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০২:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০২ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক :

দল তো জয়রথেই ছিল। বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিতও হয়ে গিয়েছিল আগেই। কিন্তু অধিনায়কের ব্যাটে ছিল না রান। প্রথম পাঁচ ম্যাচে নিগার সুলতানার ব্যাট থেকে এসেছিল ৪৮ রান। অবশেষে রানে ফিরলেন অধিনায়ক, এক ম্যাচেই ছাড়িয়ে গেলেন আগের সব ম্যাচকে। দারুণ ফর্মে থাকা সোবহানা মোস্তারি উপহার দিলেন আরেকটি আগ্রাসী ইনিংস। জয়ের ধারা ধরে রাখল বাংলাদেশ।

উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইয়ের সুপার সিক্সে স্কটল্যান্ডকে ৯০ রানে হারাল বাংলাদেশ। পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই বাছাই শুরু করা নিগারের দল প্রত্যাশিতভাবেই ছয় ম্যাচে জিতল ছয়টিই।

নেপালের কির্তিপুরে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ২০ ওভারে তোলে ১৯১ রান। এই সংস্করণে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটি।

টি-টোয়েন্টিতে দশম ফিফটিতে নিগার অপরাজিত থাকেন ৩৫ বলে ৫৬ রান করে। আগের ম্যাচ ঝড়ো ফিফটি করা সোবহানা এবার ২৩ বলে করেন ৪৭।

রান তাড়ায় স্কটিশ মেয়েরা পাত্তাই পায়নি। ২০ ওভার খেলে কোনোরকমে ১০১ রান করতে পারে তারা। আগের ম্যাচের মতোই ঠিক ২৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন মারুফ আক্তার।

টসজয়ী বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন দিলারা আক্তার ও জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস। ৮ ওভারে দুই ওপেনার যোগ করেন ৬৮ রান। দুজনের মধ্যে বেশি গতিময়তায় ছুটছিলেন যিনি, সেই দিলারাই আউট হন আগে। ২৮ বলে ৩৯ রানে ফেরেন তিনি। আগের ম্যাচে ফিফটি করা জুয়ায়রিয়া এবার থামেন ২২ বলে ২২ রান করে।

তিনে নেমে শারমিন আক্তার শুরুটা ভালো করলেও রান আউট হয়ে যান ১০ বলে ১৫ করে।

সেখান থেকে নিগার ও সোবহানার জুটি। চতুর্থ উইকেটে ৫২ বলে ১০০ রান যোগ করেন দুজন। টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের প্রথম শতরানের জুটি এটি।

৭ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ করে শেষ ওভারে বিদায় নেন সোবহানা। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৬ করে অপরাজিত থাকেন নিগার। দুজনের ঝড়ে শেষ চার ওভারে ৬৪ রান তোলে বাংলাদেশ। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তাঁর হাতেই। বাংলাদেশের শারমিন আক্তার সুপ্তা (১৫) ও স্বর্ণা আক্তার (৫) রানআউটের শিকার হয়েছেন।

স্কটল্যান্ডের প্রিয়ানাজ চ্যাটার্জি, ক্লো আবেল, ক্যাথেরিন ফ্রেজার নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

বাংলাদেশের দেওয়া ১৯২ রানের লক্ষ্যে নেমে যেভাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছিল স্কটল্যান্ড, তাতে ১০০ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা কাজ করে স্কটিশদের। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৬.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ৭৮ রানে পরিণত হয় স্কটল্যান্ড। দশম উইকেটে পিপ্পা স্প্রুল ও অলিভিয়া বেলের ২৩ রানের জুটিতে স্কটিশরা কোনোরকমে ১০০ পেরিয়েছে। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১০১ রানে আটকে যায় স্কটল্যান্ড।

স্কটল্যান্ডের ইনিংস সর্বোচ্চ ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন স্প্রুল। ২৩ বলের ইনিংসে ৩ চার মেরেছেন। বাংলাদেশের তারকা পেসার মারুফা আকতার ৪ ওভারে ২৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। স্বর্ণা আক্তার নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৪ ওভারে ১৩ রান খরচ করেছেন বাংলাদেশের এই লেগস্পিনার।

জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৮ দল আগেই ঠিক হয়েছে। বাকি ৪ দল চূড়ান্ত পর্বে যাবে বাছাইপর্ব খেলে। বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস এরই মধ্যে বাছাইপর্ব উতরে মূল পর্বে উঠে গেছে। পরশু মুলপানিতে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে কীর্তিপুরে নেদারল্যান্ডস বৃষ্টি আইনে ২১ রানে জিতেছিল। তাতেই মূলত নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের মূল পর্বে খেলা। পরশু মুলপানিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

 

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের টানা ষষ্ঠ জয়

প্রকাশের সময় : ০২:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক :

দল তো জয়রথেই ছিল। বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিতও হয়ে গিয়েছিল আগেই। কিন্তু অধিনায়কের ব্যাটে ছিল না রান। প্রথম পাঁচ ম্যাচে নিগার সুলতানার ব্যাট থেকে এসেছিল ৪৮ রান। অবশেষে রানে ফিরলেন অধিনায়ক, এক ম্যাচেই ছাড়িয়ে গেলেন আগের সব ম্যাচকে। দারুণ ফর্মে থাকা সোবহানা মোস্তারি উপহার দিলেন আরেকটি আগ্রাসী ইনিংস। জয়ের ধারা ধরে রাখল বাংলাদেশ।

উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইয়ের সুপার সিক্সে স্কটল্যান্ডকে ৯০ রানে হারাল বাংলাদেশ। পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই বাছাই শুরু করা নিগারের দল প্রত্যাশিতভাবেই ছয় ম্যাচে জিতল ছয়টিই।

নেপালের কির্তিপুরে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ২০ ওভারে তোলে ১৯১ রান। এই সংস্করণে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটি।

টি-টোয়েন্টিতে দশম ফিফটিতে নিগার অপরাজিত থাকেন ৩৫ বলে ৫৬ রান করে। আগের ম্যাচ ঝড়ো ফিফটি করা সোবহানা এবার ২৩ বলে করেন ৪৭।

রান তাড়ায় স্কটিশ মেয়েরা পাত্তাই পায়নি। ২০ ওভার খেলে কোনোরকমে ১০১ রান করতে পারে তারা। আগের ম্যাচের মতোই ঠিক ২৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন মারুফ আক্তার।

টসজয়ী বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন দিলারা আক্তার ও জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস। ৮ ওভারে দুই ওপেনার যোগ করেন ৬৮ রান। দুজনের মধ্যে বেশি গতিময়তায় ছুটছিলেন যিনি, সেই দিলারাই আউট হন আগে। ২৮ বলে ৩৯ রানে ফেরেন তিনি। আগের ম্যাচে ফিফটি করা জুয়ায়রিয়া এবার থামেন ২২ বলে ২২ রান করে।

তিনে নেমে শারমিন আক্তার শুরুটা ভালো করলেও রান আউট হয়ে যান ১০ বলে ১৫ করে।

সেখান থেকে নিগার ও সোবহানার জুটি। চতুর্থ উইকেটে ৫২ বলে ১০০ রান যোগ করেন দুজন। টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের প্রথম শতরানের জুটি এটি।

৭ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ করে শেষ ওভারে বিদায় নেন সোবহানা। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৬ করে অপরাজিত থাকেন নিগার। দুজনের ঝড়ে শেষ চার ওভারে ৬৪ রান তোলে বাংলাদেশ। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তাঁর হাতেই। বাংলাদেশের শারমিন আক্তার সুপ্তা (১৫) ও স্বর্ণা আক্তার (৫) রানআউটের শিকার হয়েছেন।

স্কটল্যান্ডের প্রিয়ানাজ চ্যাটার্জি, ক্লো আবেল, ক্যাথেরিন ফ্রেজার নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

বাংলাদেশের দেওয়া ১৯২ রানের লক্ষ্যে নেমে যেভাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছিল স্কটল্যান্ড, তাতে ১০০ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা কাজ করে স্কটিশদের। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৬.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ৭৮ রানে পরিণত হয় স্কটল্যান্ড। দশম উইকেটে পিপ্পা স্প্রুল ও অলিভিয়া বেলের ২৩ রানের জুটিতে স্কটিশরা কোনোরকমে ১০০ পেরিয়েছে। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১০১ রানে আটকে যায় স্কটল্যান্ড।

স্কটল্যান্ডের ইনিংস সর্বোচ্চ ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন স্প্রুল। ২৩ বলের ইনিংসে ৩ চার মেরেছেন। বাংলাদেশের তারকা পেসার মারুফা আকতার ৪ ওভারে ২৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। স্বর্ণা আক্তার নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৪ ওভারে ১৩ রান খরচ করেছেন বাংলাদেশের এই লেগস্পিনার।

জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৮ দল আগেই ঠিক হয়েছে। বাকি ৪ দল চূড়ান্ত পর্বে যাবে বাছাইপর্ব খেলে। বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস এরই মধ্যে বাছাইপর্ব উতরে মূল পর্বে উঠে গেছে। পরশু মুলপানিতে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে কীর্তিপুরে নেদারল্যান্ডস বৃষ্টি আইনে ২১ রানে জিতেছিল। তাতেই মূলত নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের মূল পর্বে খেলা। পরশু মুলপানিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।