Dhaka বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩০:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০৪ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সমাধিস্থলে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি দোয়া ও মোনাজাতে মানুষের ঢল নেমেছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে পর রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের সমাধিস্থল সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেগম জিয়ার সমাধিস্থলে এসে মরহুমের আত্মার মাফিরাত কামনা দোয়া করছেন নানা বয়সি মানুষ। কেউ কেউ ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আবার অনেককে একপাশে বসে কোরআনা পড়তেও দেখা গেছে। ‘গণতন্ত্রের অপসহীন নেত্রীর’ কবর একনজর দেখতে এবং দোয়া করতে সকাল থেকে জিয়া উদ্যানের আসতে থাকেন সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে অনুমতি না থাকায় ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। সমাধিস্থলে যেতে না পেরে অনেকে সড়কে দাঁড়িয়ে দোয়া মোনাজাত করেন।

জানা যায়, সংস্কার কাজ চলমান থাকায় বন্ধ রাখা হয় ভেতরে প্রবেশ। এখন তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পুরো উদ্যানের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে অন্য বাহিনীর সদস্যরাও।

মবিনুল ইসলাম নামের একজন এসেছেন ফেনী থেকে। তিনি বলেন, আমি কোনো দল করি না। কিন্তু বেগম জিয়াকে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। তার দেশ শাসনের সময়গুলো আমার মতে সোনালী সময়। এজন্যই ছুটে এসেছি।

জিয়া উদ্যানে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, তারা কেবল রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, বরং দেশের মানুষের মমতাময়ী নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। কবরের পাশে কিছু মানুষ নীরবে হাত তুলে দোয়া করছেন, কেউ কেউ কোরআন তেলাওয়াত করছেন।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উপস্থিত থেকে সারিবদ্ধভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে সীমিত সংখ্যক মানুষকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে যাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

এদিকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। অনেকেই পরিবারসহ এসেছেন, কেউ একা দাঁড়িয়ে মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে সব পক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী দিনগুলোতেও সাধারণ মানুষের কবর জিয়ারতের আগমন অব্যাহত থাকতে পারে। ধাপে ধাপে প্রবেশের ব্যবস্থা বজায় থাকলে আরও মানুষ কবর জিয়ারত করতে পারবেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আবদুল মালেকের ইমামতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল পৌনে ৫টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মারা যান।

গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে নিউমোনিয়া দেখা দেয় এবং কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ পুরোনো জটিলতা আরও বেড়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়, যেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

‘আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দেন, দায়-দায়িত্ব আমাদের’

খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত

প্রকাশের সময় : ০১:৩০:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সমাধিস্থলে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি দোয়া ও মোনাজাতে মানুষের ঢল নেমেছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে পর রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের সমাধিস্থল সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেগম জিয়ার সমাধিস্থলে এসে মরহুমের আত্মার মাফিরাত কামনা দোয়া করছেন নানা বয়সি মানুষ। কেউ কেউ ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আবার অনেককে একপাশে বসে কোরআনা পড়তেও দেখা গেছে। ‘গণতন্ত্রের অপসহীন নেত্রীর’ কবর একনজর দেখতে এবং দোয়া করতে সকাল থেকে জিয়া উদ্যানের আসতে থাকেন সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে অনুমতি না থাকায় ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। সমাধিস্থলে যেতে না পেরে অনেকে সড়কে দাঁড়িয়ে দোয়া মোনাজাত করেন।

জানা যায়, সংস্কার কাজ চলমান থাকায় বন্ধ রাখা হয় ভেতরে প্রবেশ। এখন তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পুরো উদ্যানের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে অন্য বাহিনীর সদস্যরাও।

মবিনুল ইসলাম নামের একজন এসেছেন ফেনী থেকে। তিনি বলেন, আমি কোনো দল করি না। কিন্তু বেগম জিয়াকে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। তার দেশ শাসনের সময়গুলো আমার মতে সোনালী সময়। এজন্যই ছুটে এসেছি।

জিয়া উদ্যানে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, তারা কেবল রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, বরং দেশের মানুষের মমতাময়ী নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। কবরের পাশে কিছু মানুষ নীরবে হাত তুলে দোয়া করছেন, কেউ কেউ কোরআন তেলাওয়াত করছেন।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উপস্থিত থেকে সারিবদ্ধভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে সীমিত সংখ্যক মানুষকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে যাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

এদিকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। অনেকেই পরিবারসহ এসেছেন, কেউ একা দাঁড়িয়ে মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে সব পক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী দিনগুলোতেও সাধারণ মানুষের কবর জিয়ারতের আগমন অব্যাহত থাকতে পারে। ধাপে ধাপে প্রবেশের ব্যবস্থা বজায় থাকলে আরও মানুষ কবর জিয়ারত করতে পারবেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আবদুল মালেকের ইমামতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল পৌনে ৫টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মারা যান।

গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে নিউমোনিয়া দেখা দেয় এবং কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ পুরোনো জটিলতা আরও বেড়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়, যেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।