Dhaka শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুজিবনগর দিবস কোনও দলের নয়, এটি সর্বজনীন : কাদের সিদ্দিকী

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি : 

কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, মুজিবনগর দিবস সর্বজনীন। এটি কোনও একক দল বা গোষ্ঠীর নয়। সরকার, বিরোধী দল, সবাইকে এ দিবসের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে। মুজিবনগর না হলে স্বাধীনতা অর্জন এত সহজ হতো না।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে টাঙ্গাইলের সখীপুরে কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, মুজিবনগর দিবস কারও একার না, কোন দলের একার না। মুজিবনগর দিবস সব দল, মতের ও পথের। মুজিবনগর দিবস বর্তমান সরকারের, এমনকি মুজিবনগর দিবস বর্তমান যে বিরোধী দল আছে তাদেরও। মুজিবনগর দিবস তারা পালন করুক, আর না করুক।

তিনি বলেন, মুজিবনগরে সরকার গঠন না হলে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে পারতাম না। সেজন্য স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে কারও এটা মনে করার কোনো কারণ নেই, মুজিবনগর দিবস আমাদের না তাদের, আমাদের না ওদের। মুজিবনগর দিবস আওয়ামী লীগের বিএনপির না। এটা ঠিক না।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি সত্য। কিন্তু আমরা কখনো স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে পারিনি।স্বাধীনতা কোনো দলের না, মতের না, স্বাধীনতা সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের।

তিনি বলেন, আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতালীগ করেছিলাম মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, মানুষের পাহারাদার হওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর কোনো চিন্তা-চেতনা, ভাবনা আদর্শের সঙ্গে আমাদের কোনো দুরত্ব নেই। আমার দল বঙ্গবন্ধুর দল। আমার দল মওলানা ভাসানীর দল। আমি সেই আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম। যে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু বানিয়েছিলেন। যে আওয়ামী লীগ মওলানা ভাসানী বানিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এক দিনের না। ৫২ তে ভাষা আন্দোলন না হলে, ৬ দফা আন্দোলন হতো না। ৬ দফা আন্দোলন না হলে, ১১ দফা আন্দোলন হতো না। ১১ দফা আন্দোলন না হলে, শেখ মুজিবের মুক্তি হতো না। তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তি পেয়েছিলাম বলেই, বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা ফাঁসি দিতে পারেনি৷ ৬৯ এর গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৭০ এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ মানুষ বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন করেছিলেন। তার নৌকাকে সমর্থন করেছিলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি প্রায় ২০ বছর পরে দেখলাম, তাকে আমার খুব ভালো লেগেছে।তারেক রহমানের বক্তব্যে শালীনতা আছে, গভীরতা আছে, জাতীয় ঐক্যের একটা আকাঙ্ক্ষা আছে। সেই জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।

সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুস ছবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দলের উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক জাহাঙ্গীর, আব্বাস আলী মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন সিদ্দিকী, ডা. জাবেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কেল আলী মাস্টার, ছাত্রনেতা শেখ সাদী প্রমুখ।

আবহাওয়া

বিগত দুই সরকার যথাসময়ে হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী

মুজিবনগর দিবস কোনও দলের নয়, এটি সর্বজনীন : কাদের সিদ্দিকী

প্রকাশের সময় : ০১:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি : 

কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, মুজিবনগর দিবস সর্বজনীন। এটি কোনও একক দল বা গোষ্ঠীর নয়। সরকার, বিরোধী দল, সবাইকে এ দিবসের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে। মুজিবনগর না হলে স্বাধীনতা অর্জন এত সহজ হতো না।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে টাঙ্গাইলের সখীপুরে কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, মুজিবনগর দিবস কারও একার না, কোন দলের একার না। মুজিবনগর দিবস সব দল, মতের ও পথের। মুজিবনগর দিবস বর্তমান সরকারের, এমনকি মুজিবনগর দিবস বর্তমান যে বিরোধী দল আছে তাদেরও। মুজিবনগর দিবস তারা পালন করুক, আর না করুক।

তিনি বলেন, মুজিবনগরে সরকার গঠন না হলে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে পারতাম না। সেজন্য স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে কারও এটা মনে করার কোনো কারণ নেই, মুজিবনগর দিবস আমাদের না তাদের, আমাদের না ওদের। মুজিবনগর দিবস আওয়ামী লীগের বিএনপির না। এটা ঠিক না।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি সত্য। কিন্তু আমরা কখনো স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে পারিনি।স্বাধীনতা কোনো দলের না, মতের না, স্বাধীনতা সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের।

তিনি বলেন, আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতালীগ করেছিলাম মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, মানুষের পাহারাদার হওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর কোনো চিন্তা-চেতনা, ভাবনা আদর্শের সঙ্গে আমাদের কোনো দুরত্ব নেই। আমার দল বঙ্গবন্ধুর দল। আমার দল মওলানা ভাসানীর দল। আমি সেই আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম। যে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু বানিয়েছিলেন। যে আওয়ামী লীগ মওলানা ভাসানী বানিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এক দিনের না। ৫২ তে ভাষা আন্দোলন না হলে, ৬ দফা আন্দোলন হতো না। ৬ দফা আন্দোলন না হলে, ১১ দফা আন্দোলন হতো না। ১১ দফা আন্দোলন না হলে, শেখ মুজিবের মুক্তি হতো না। তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তি পেয়েছিলাম বলেই, বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা ফাঁসি দিতে পারেনি৷ ৬৯ এর গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৭০ এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ মানুষ বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন করেছিলেন। তার নৌকাকে সমর্থন করেছিলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি প্রায় ২০ বছর পরে দেখলাম, তাকে আমার খুব ভালো লেগেছে।তারেক রহমানের বক্তব্যে শালীনতা আছে, গভীরতা আছে, জাতীয় ঐক্যের একটা আকাঙ্ক্ষা আছে। সেই জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।

সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুস ছবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দলের উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক জাহাঙ্গীর, আব্বাস আলী মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন সিদ্দিকী, ডা. জাবেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কেল আলী মাস্টার, ছাত্রনেতা শেখ সাদী প্রমুখ।