Dhaka রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মালদ্বীপকে উড়িয়ে সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০২:২১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৯ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। সাফ নারী ফুটসালে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য যাত্রার পূর্ণতা পেল শিরোপা জয়ে। টুর্নামেন্টের অলিখিত ফাইনালে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটসাল মুকুট মাথায় তুলল সাবিনা খাতুনের দল।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ব্যাংককের ননথাবুরি হলে শুরু থেকেই দাপট দেখায় বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রথম সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় সাবিনা খাতুনের দল। ২০২২ ও ২০২৪ সালে দেশকে টানা দু’বার সাফ চ্যাম্পিয়ন করানোর পর এবার ফুটসালে শিরোপা এনে দেন অধিনায়ক সাবিনা।

দলের জয়ে সাবিনা ৪টি, লিপি আক্তার ৩টি, কৃষ্ণা রানী সরকার ২টি গোল করেন। এছাড়া নোশিন জাহান, মাতসুশিমা সুমাইয়া, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, মেহেনুর আক্তার ও মাসুরা গোল করেন একটি করে।

বড় জয়ের পথে সাবিনা এ আসরে সেরা গোলদাতা হওয়ার পথেও নিজেকে এগিয়ে নেন অনেকটাই। ছয় ম্যাচে তার গোল ১৪টি। কেবল গোল নয়। নিচ থেকে খেলা শুরু করে সাবিনা আসলে পুরো মাঠটাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন প্রতি ম্যাচে। বারবার ওভার ল্যাপ করে উপরে উঠে আক্রমণ যেমন করেছেন, বলের জোগান দিয়েছেন, নিজেই গোলের চেষ্টা করেছেন। আবার নিচে নেমে এসে মূল ডিফেন্ডারের কাজটাও তিনিই পালন করেছেন।

ম্যাচটা আগেরগুলোর মতো হয়নি ব্যাংককের ননথাবুড়ি হলে। এ ম্যাচ হয় হুয়া মাক ইনডোর স্টেডিয়ামে। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মালদ্বীপের গোলের পর সম্বিত ফিরে পাওয়া বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ৬-১ গোলের লিড নেয়। যার প্রথম দুটি অধিনায়ক সাবিনার। ষষ্ঠ মিনিটে বেশ দূর থেকে তার ডান পায়ের গড়ানো ফ্রি-কিক জালে জড়ালে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। পরের মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ অবশ্য নষ্ট করেন সাবিনা। আমিনাত ফজলা সার্কেলের ভেতরে কৃষ্ণারানীকে ফেলে দিয়ে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। তবে সাবিনার শট বাইরে যায়। গোল করতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত করতে অবশ্য খুব বেশি সময় নেননি সাবিনা।১৩ মিনিটে আরেকটি ফ্রি-কিক থেকে সহজেই মালদ্বীপ কিপারকে বোকা বানান। পরের মিনিটে নিলুফা ইয়াসমিনের পাস পেয়ে সার্কেলের ডান দিক থেকে ডান পায়ের শটে ব্যবধান বাড়ান কৃষ্ণারানী। এর কয়েক সেকেন্ড পর ৩-১ করেন লিপি আক্তার। নিলুফা ফের বল সাজিয়ে দেন, তাতে লিপির ডান পায়ের প্লেসিং জালে জড়ায়। ১৭ মিনিটে লিপি দ্বিতীয় গোলের দেখা পান। মাসুরার কাটব্যাক থেকে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সাড়েন লিপি। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই রৌশন জাহান গোল করে ৬-১ করেন। তাতে বড় লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতিত থেকে ফিরে গোলৎসব চলতে থাকে বাংলাদেশের। ২৩ মিনিটে সুমাইয়ার পাস থেকে সার্কেলের অনেক বাইরে থেকে শট করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাবিনা। পরের মিনিটে মালদ্বীপের এক ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে কিপারকে কাটিয়ে দারুণ গোল করেন মাতসুশিমা সুমাইয়া। ২৫তম মিনিটে সাবিনা চতুর্থ গোল করেন ডান পায়ের জোড়ালো শটে। ৩১ মিনিটে সমন্বিত আক্রমণ থেকে কৃষ্ণার কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে গোল করেন নিলুফা। কয়েক সেকেন্ড পরে লিপি হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। সাবিনার বাড়ানো বল ব্যাক হিল করে গোলমুখে দেন কৃষ্ণা। সেখান থেকে সহজেই গোল করেন লিপি, বাংলাদেশ নেয় ১১-১ গোলের লিড। কিছুক্ষণ পর নিলুফার পাসে গোল পান কৃষ্ণা। ৩২ মিনিটে মাঠ নেমেই অসাধারণ গোল করেন মাহমুদা আক্তার। সে গোলের পর তার উদযাপনটা ছিল চোখে পড়ার মতো। টুর্নামেন্টে প্রথম খেলতে নেমেই গোল করেন মাহমুদা। ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশের ১৪তম গোলটি করেন মাসুরা পারভীন। সুমাইয়ার পাস ধরে আক্রমণে উঠে গোলৎসবে যোগ দেন মাসুরা। শেষ অ্যালার্ম বাজার ১৫ সেকেন্ড আগে মালদ্বীপ অধিনায়ক মরিয়ম নুরা গোল করে হারের ব্যবধান কমান। ততক্ষণে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। রেফারি বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধনভাঙা উদযাপনে মেতে ওঠেন সাবিনারা।

৬ ম্যাচ থেকে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। দিনের পরের ম্যাচগুলোতে জানা যাবে সাত দলের আসরে রানার্স-আপ হলো কোন দল।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিমানবন্দর এলাকায় ‘নো-হর্ন’ বাস্তবায়নে অভিযান, ৭ চালককে জরিমানা

মালদ্বীপকে উড়িয়ে সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০২:২১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। সাফ নারী ফুটসালে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য যাত্রার পূর্ণতা পেল শিরোপা জয়ে। টুর্নামেন্টের অলিখিত ফাইনালে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটসাল মুকুট মাথায় তুলল সাবিনা খাতুনের দল।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ব্যাংককের ননথাবুরি হলে শুরু থেকেই দাপট দেখায় বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রথম সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় সাবিনা খাতুনের দল। ২০২২ ও ২০২৪ সালে দেশকে টানা দু’বার সাফ চ্যাম্পিয়ন করানোর পর এবার ফুটসালে শিরোপা এনে দেন অধিনায়ক সাবিনা।

দলের জয়ে সাবিনা ৪টি, লিপি আক্তার ৩টি, কৃষ্ণা রানী সরকার ২টি গোল করেন। এছাড়া নোশিন জাহান, মাতসুশিমা সুমাইয়া, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, মেহেনুর আক্তার ও মাসুরা গোল করেন একটি করে।

বড় জয়ের পথে সাবিনা এ আসরে সেরা গোলদাতা হওয়ার পথেও নিজেকে এগিয়ে নেন অনেকটাই। ছয় ম্যাচে তার গোল ১৪টি। কেবল গোল নয়। নিচ থেকে খেলা শুরু করে সাবিনা আসলে পুরো মাঠটাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন প্রতি ম্যাচে। বারবার ওভার ল্যাপ করে উপরে উঠে আক্রমণ যেমন করেছেন, বলের জোগান দিয়েছেন, নিজেই গোলের চেষ্টা করেছেন। আবার নিচে নেমে এসে মূল ডিফেন্ডারের কাজটাও তিনিই পালন করেছেন।

ম্যাচটা আগেরগুলোর মতো হয়নি ব্যাংককের ননথাবুড়ি হলে। এ ম্যাচ হয় হুয়া মাক ইনডোর স্টেডিয়ামে। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মালদ্বীপের গোলের পর সম্বিত ফিরে পাওয়া বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ৬-১ গোলের লিড নেয়। যার প্রথম দুটি অধিনায়ক সাবিনার। ষষ্ঠ মিনিটে বেশ দূর থেকে তার ডান পায়ের গড়ানো ফ্রি-কিক জালে জড়ালে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। পরের মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ অবশ্য নষ্ট করেন সাবিনা। আমিনাত ফজলা সার্কেলের ভেতরে কৃষ্ণারানীকে ফেলে দিয়ে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। তবে সাবিনার শট বাইরে যায়। গোল করতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত করতে অবশ্য খুব বেশি সময় নেননি সাবিনা।১৩ মিনিটে আরেকটি ফ্রি-কিক থেকে সহজেই মালদ্বীপ কিপারকে বোকা বানান। পরের মিনিটে নিলুফা ইয়াসমিনের পাস পেয়ে সার্কেলের ডান দিক থেকে ডান পায়ের শটে ব্যবধান বাড়ান কৃষ্ণারানী। এর কয়েক সেকেন্ড পর ৩-১ করেন লিপি আক্তার। নিলুফা ফের বল সাজিয়ে দেন, তাতে লিপির ডান পায়ের প্লেসিং জালে জড়ায়। ১৭ মিনিটে লিপি দ্বিতীয় গোলের দেখা পান। মাসুরার কাটব্যাক থেকে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সাড়েন লিপি। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই রৌশন জাহান গোল করে ৬-১ করেন। তাতে বড় লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতিত থেকে ফিরে গোলৎসব চলতে থাকে বাংলাদেশের। ২৩ মিনিটে সুমাইয়ার পাস থেকে সার্কেলের অনেক বাইরে থেকে শট করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাবিনা। পরের মিনিটে মালদ্বীপের এক ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে কিপারকে কাটিয়ে দারুণ গোল করেন মাতসুশিমা সুমাইয়া। ২৫তম মিনিটে সাবিনা চতুর্থ গোল করেন ডান পায়ের জোড়ালো শটে। ৩১ মিনিটে সমন্বিত আক্রমণ থেকে কৃষ্ণার কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে গোল করেন নিলুফা। কয়েক সেকেন্ড পরে লিপি হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। সাবিনার বাড়ানো বল ব্যাক হিল করে গোলমুখে দেন কৃষ্ণা। সেখান থেকে সহজেই গোল করেন লিপি, বাংলাদেশ নেয় ১১-১ গোলের লিড। কিছুক্ষণ পর নিলুফার পাসে গোল পান কৃষ্ণা। ৩২ মিনিটে মাঠ নেমেই অসাধারণ গোল করেন মাহমুদা আক্তার। সে গোলের পর তার উদযাপনটা ছিল চোখে পড়ার মতো। টুর্নামেন্টে প্রথম খেলতে নেমেই গোল করেন মাহমুদা। ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশের ১৪তম গোলটি করেন মাসুরা পারভীন। সুমাইয়ার পাস ধরে আক্রমণে উঠে গোলৎসবে যোগ দেন মাসুরা। শেষ অ্যালার্ম বাজার ১৫ সেকেন্ড আগে মালদ্বীপ অধিনায়ক মরিয়ম নুরা গোল করে হারের ব্যবধান কমান। ততক্ষণে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। রেফারি বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধনভাঙা উদযাপনে মেতে ওঠেন সাবিনারা।

৬ ম্যাচ থেকে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। দিনের পরের ম্যাচগুলোতে জানা যাবে সাত দলের আসরে রানার্স-আপ হলো কোন দল।