সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো বললে আমাকে ভারতের দালাল বানিয়ে ফেলবে, তারপরও আমি বলব। কারণ, আমার জীবন আছে বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং আমি মন্ত্রী হয়েছি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নিজের ভাষাকে আমরা ঠিকমত জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মধ্যে ন্যাশনালিজম গ্রো করেনা। ইনকিলাব তো অন্য দিকের ভাষা যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এখন এটা নিয়ে আমাদের ইয়ং জেনারেশন গর্ব করে। আমার রক্তক্ষরণ হয়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম জীবন দেওয়ার জন্য। সমাজ পরিবর্তনের জন্য। তবে সমাজ যে উল্টোপথে হাঁটে এখন দেখতেছি। ইনকিলাব আরও আরও শব্দ পাচ্ছি আমি। যাদের সাথে বাংলার কোনো সম্পর্ক নাই। যারা বাংলাকে ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য, ব্যবহার করার জন্য কাজ করতো। অথচ আমাদের ছেলেদের সেটাই ভাষা হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরেও কিন্তু আমরা আমাদের ভাষাটাকে সুরক্ষিত করতে পারিনি। আমরা যত্নবান ছিলাম না। আর যে জাতি তার নিজের ইতিহাস জানে না, সেই জাতি কোনো দিন উন্নয়ন করতে পারে না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমি প্রায়ই তর্ক করি মানুষের সাথে। আমি এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি। অনেকে বলে ভাই শিল্পকারখানা দিয়ে ভরে ফেলতে হবে। আমি বলি শিল্প কারখানা করতে তো জমি লাগে সেই জমি কোথায়? বলে এই যে আমি এই কৃষিতে যদি শিল্প কারখানা করি তাহলে খাওয়ার জন্য আমাদের অন্য কিছুর ওপর ডিপেন্ড করতে হবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ব্রিটিশরা এ দেশে অনেক ক্ষতি করে গেছে। শোষণ করার জন্য আমাদের রাষ্ট্রভাষাকে চেপে ধরা হয়েছিল। ৫২ সালে যারা জীবন দিয়েছে তারাই ভাষা রক্ষার বীজ বপন করে গিয়েছিল। তোমরা যারা তরুণ, তোমাদের ভাবতে হবে, না হলে কিন্তু আমাদের এক্সট্রিম রাইট চলে যাবে।
তিনি বলেন, নিজের ভাষাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা না করায় আমাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠেনি। নিজের ভাষা ও নিজের দেশ আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে, অন্য কেউ এসে গড়ে দেবে না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষার গুরুত্ব বুঝতে পারার মাধ্যমে দেশীয় জাতীয়তাবাদ শক্তিশালী করা গেলে দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব। ভাষার গুরুত্ব বুঝতে না পারলে দেশপ্রেম জাগ্রত হয় না, আর দেশ উন্নত হয় না।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বাংলাদেশ যখনই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেছে, তখনই ৫২’র চেতনা জাগ্রত হয়েছে। ৫২’র চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, ২৪-এর ৫ আগস্ট সংঘটিত হয়েছে, জনগণ আবার ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
তিনি বলেন, মাতৃভাষা দিবসে মাতৃভাষার কদর বুঝতে হবে। ভাষার উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে দেশ প্রেম বাড়াতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পাড়ে শিল্প পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠিতব্য শিল্প কারখানার বর্জ্য শোধনের জন্য সেন্ট্রাল ইটিপি (বর্জ্য পানি শোধনাগার কারখানা) গড়ে তোলা হয়নি। শিল্প এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে সেন্ট্রাল ইটিপি গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের যমুনা দূষিত হবে। পাশাপাশি কৃষি ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যমুনার পানি দূষিত হয় এমন শিল্প কারখানা গড়ে তোলা যাবে না উল্লেখ করে পরিবেশের দিকে নজর দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ওপর নিবন্ধ উপস্থাপন করেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ভাষাবিজ্ঞানী প্রফেসর করুণা রানী সাহা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম শানতু।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক কামরুল ইসলাম, জেলা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 





















