Dhaka বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন হবে না বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথোপযুক্ত লোক দিয়েই তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনা শহীদ দিবস পালন করলাম। রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, শহীদ পরিবারের স্বজনরা এসেছেন। বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন, তারা চিরতরুণ, চিরভাস্বর। এই পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের একটি।

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল্য উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানার জন্য তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তার ফলাফল আজও প্রকাশিত হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় কমিশন গঠন করা হয়, যার রিপোর্ট আমাদের সামনে এসেছে। তবে সে রিপোর্ট বাস্তবায়নে সরকার তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

বর্তমান সরকার নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করবে না জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথোপযুক্ত লোক দিয়েই তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। কমিশনের রিপোর্টে যে সুপারিশগুলো এসেছে, বিচারাধীন যে মামলাগুলো আছে, এই জুডিশিয়াল প্রসেসগুলো সমাপ্ত করা হবে। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

শহীদ পরিবারগুলোর উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে পুরো প্রতিবেদন পর্যালোচনা না করেই আমি কিছু মন্তব্য করেছিলাম। আজ সে বিষয়ে সংশোধন করে বলতে চাই, আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করব না। যেহেতু ইতিমধ্যে একটি স্বাধীন যোগ্য দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিশনের সুপারিশই বাস্তবায়ন করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিবেদনে প্রায় ৭০টি সুপারিশ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে চোখে পড়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিচারাধীন মামলাগুলোর কিছু আপিল পর্যায়ে রয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সঙ্গে অন্যান্য সুপারিশও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

শহীদ পরিবার ও জাতিকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি ছিল। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না কিংবা দেশকে দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, তাদেরই এমন উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দফতরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেদিন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ বেসামরিক নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ভয়ংকর এই হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কিত এক অধ্যায়ের সূচনা হয়।

ভয়াবহ ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গত ১৭ বছরে বেশ কয়েকটি কমিটি ও কমিশন কাজ করে। এসব কমিটি-কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাখিল করা হয় প্রতিবেদন। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি কোনো প্রতিবেদনের সুপারিশ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে গঠন করা হয় ৭ সদস্যবিশিষ্ট স্বাধীন তদন্ত কমিশন। এই কমিশন প্রায় ১১ মাস তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ চলাকালে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে আরো কয়েকটি কমিশন গঠন করা হয়। অন্যান্য কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি সরকার। স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বর্বর হত্যাকাণ্ডের জন্য ৫১ জনকে দায়ী করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শাহজালালে ৬০ লাখ টাকার অবৈধ সিগারেট ও আইফোন জব্দ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:০৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন হবে না বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথোপযুক্ত লোক দিয়েই তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনা শহীদ দিবস পালন করলাম। রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, শহীদ পরিবারের স্বজনরা এসেছেন। বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন, তারা চিরতরুণ, চিরভাস্বর। এই পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের একটি।

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল্য উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানার জন্য তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তার ফলাফল আজও প্রকাশিত হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় কমিশন গঠন করা হয়, যার রিপোর্ট আমাদের সামনে এসেছে। তবে সে রিপোর্ট বাস্তবায়নে সরকার তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

বর্তমান সরকার নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করবে না জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথোপযুক্ত লোক দিয়েই তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। কমিশনের রিপোর্টে যে সুপারিশগুলো এসেছে, বিচারাধীন যে মামলাগুলো আছে, এই জুডিশিয়াল প্রসেসগুলো সমাপ্ত করা হবে। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

শহীদ পরিবারগুলোর উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে পুরো প্রতিবেদন পর্যালোচনা না করেই আমি কিছু মন্তব্য করেছিলাম। আজ সে বিষয়ে সংশোধন করে বলতে চাই, আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করব না। যেহেতু ইতিমধ্যে একটি স্বাধীন যোগ্য দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিশনের সুপারিশই বাস্তবায়ন করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিবেদনে প্রায় ৭০টি সুপারিশ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে চোখে পড়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিচারাধীন মামলাগুলোর কিছু আপিল পর্যায়ে রয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সঙ্গে অন্যান্য সুপারিশও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

শহীদ পরিবার ও জাতিকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি ছিল। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না কিংবা দেশকে দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, তাদেরই এমন উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দফতরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেদিন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ বেসামরিক নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ভয়ংকর এই হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কিত এক অধ্যায়ের সূচনা হয়।

ভয়াবহ ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গত ১৭ বছরে বেশ কয়েকটি কমিটি ও কমিশন কাজ করে। এসব কমিটি-কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাখিল করা হয় প্রতিবেদন। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি কোনো প্রতিবেদনের সুপারিশ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে গঠন করা হয় ৭ সদস্যবিশিষ্ট স্বাধীন তদন্ত কমিশন। এই কমিশন প্রায় ১১ মাস তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ চলাকালে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে আরো কয়েকটি কমিশন গঠন করা হয়। অন্যান্য কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি সরকার। স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বর্বর হত্যাকাণ্ডের জন্য ৫১ জনকে দায়ী করা হয়।