Dhaka বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থাই এয়ারওয়েজের টিকিটের দাম বাড়ছে ১৫ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম আকাশ ছুঁই ছুঁই। আর সেই আগুনের আঁচ গিয়ে পড়েছে আকাশপথের টিকিটেও। ভ্রমণকারীদের জন্য সুখবর নয় মোটেও। থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে তারা বিমান টিকিটের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াবে। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

থাই এয়ারওয়েজের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা চেরডচোম থেতসাথিরাসাক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ভ্রমণ পরিকল্পনা সরিয়ে নেওয়া যাত্রীদের কারণে চাহিদা ‘অতিরিক্ত’ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আজ বুধবার বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেন, চলতি মাসে ইউরোপগামী অধিকাংশ ফ্লাইটে আসনের প্রায় ৯০ শতাংশই পূর্ণ ছিল। এর অর্থ, প্রায় সব ফ্লাইটই ভরা অবস্থায় উড়ছে।

তিনি আরও বলেন, তেলের দাম যদি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে সংস্থাটির জ্বালানি সারচার্জও আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের যত দ্রুত সম্ভব টিকিট কেটে রাখা উচিত। কারণ, সামনে ভাড়া আরও বাড়তে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘আগামী দুই সপ্তাহে ইউরোপের রুটসহ অন্যান্য গন্তব্যের টিকিট অত্যন্ত সীমিত হয়ে যাবে।’

বিশ্বজুড়ে বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো এখন বাড়তি চাপের মুখে। কারণ, জেট জ্বালানির দাম বিমান শিল্পের অন্যতম বড় পরিচালন ব্যয়। আর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক বিমান সংস্থাই টিকিটের ভাড়া এবং জ্বালানি সারচার্জ বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা যাচাই করছে, যাত্রীরা কতটা বাড়তি ভাড়া মেনে নিতে প্রস্তুত। যদিও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।

চেরডচোম থেতসাথিরাসাক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির হওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে যাত্রী চাহিদা কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।

এ দিকে থাই এয়ারওয়েজ ২০২৫ সালে পুরো বছরে ৩০ দশমিক ৯ বিলিয়ন বাথ (থাই মুদ্রা) নিট মুনাফা করেছে। এর আগের বছর তারা ২৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন বাথ লোকসানে ছিল। ২০২৫ সালে সংস্থাটির রাজস্ব ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ বিলিয়ন বাথে। এতে বোঝা যায়, মহামারির সময় আদালত-তত্ত্বাবধানে শুরু হওয়া ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পর সংস্থাটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে রয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঈদে ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে সেতুর উভয় প্রান্তে ইটিসি টোল বুথ চালু

থাই এয়ারওয়েজের টিকিটের দাম বাড়ছে ১৫ শতাংশ

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম আকাশ ছুঁই ছুঁই। আর সেই আগুনের আঁচ গিয়ে পড়েছে আকাশপথের টিকিটেও। ভ্রমণকারীদের জন্য সুখবর নয় মোটেও। থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে তারা বিমান টিকিটের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াবে। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

থাই এয়ারওয়েজের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা চেরডচোম থেতসাথিরাসাক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ভ্রমণ পরিকল্পনা সরিয়ে নেওয়া যাত্রীদের কারণে চাহিদা ‘অতিরিক্ত’ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আজ বুধবার বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেন, চলতি মাসে ইউরোপগামী অধিকাংশ ফ্লাইটে আসনের প্রায় ৯০ শতাংশই পূর্ণ ছিল। এর অর্থ, প্রায় সব ফ্লাইটই ভরা অবস্থায় উড়ছে।

তিনি আরও বলেন, তেলের দাম যদি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে সংস্থাটির জ্বালানি সারচার্জও আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের যত দ্রুত সম্ভব টিকিট কেটে রাখা উচিত। কারণ, সামনে ভাড়া আরও বাড়তে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘আগামী দুই সপ্তাহে ইউরোপের রুটসহ অন্যান্য গন্তব্যের টিকিট অত্যন্ত সীমিত হয়ে যাবে।’

বিশ্বজুড়ে বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো এখন বাড়তি চাপের মুখে। কারণ, জেট জ্বালানির দাম বিমান শিল্পের অন্যতম বড় পরিচালন ব্যয়। আর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক বিমান সংস্থাই টিকিটের ভাড়া এবং জ্বালানি সারচার্জ বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা যাচাই করছে, যাত্রীরা কতটা বাড়তি ভাড়া মেনে নিতে প্রস্তুত। যদিও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।

চেরডচোম থেতসাথিরাসাক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির হওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে যাত্রী চাহিদা কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।

এ দিকে থাই এয়ারওয়েজ ২০২৫ সালে পুরো বছরে ৩০ দশমিক ৯ বিলিয়ন বাথ (থাই মুদ্রা) নিট মুনাফা করেছে। এর আগের বছর তারা ২৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন বাথ লোকসানে ছিল। ২০২৫ সালে সংস্থাটির রাজস্ব ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ বিলিয়ন বাথে। এতে বোঝা যায়, মহামারির সময় আদালত-তত্ত্বাবধানে শুরু হওয়া ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পর সংস্থাটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে রয়েছে।