Dhaka বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালি চেয়ার দিয়ে শুরু হবে সংসদ, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর : চিফ হুইপ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন খালি চেয়ার দিয়েই শুরু হবে বলে জানিয়ে সরকার দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় এবার চিরাচরিত নিয়মে অধিবেশন শুরু হচ্ছে না। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠকে সংসদ নেতাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজকের বৈঠকে সংসদের কার্যক্রমের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রথম দিনে সংসদ খালি চেয়ার দিয়েই শুরু হবে এবং কর্মকমিশনের চিঠি উত্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেবেন। সেই ভাষণের মধ্য দিয়েই বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশন শেষ হবে।

চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সেশনের শুরুতে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। এরপর সংসদ নেতার প্রস্তাবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন, যা কালই প্রকাশ করা হবে।

ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে বিরোধীদলের সঙ্গে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি বলেও জানান তিনি। নূরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদারতা দেখিয়ে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাঁরা কোনো ‘পজিটিভ রেসপন্স’ পাননি। পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিটির সদস্যরা এখনো শপথ নেননি, কারণ সংবিধানে এ বিষয়ে কোনো বিধান নেই। সংবিধানে “জুলাই সনদ” সংযুক্ত হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদলের গঠনমূলক সমালোচনা ও সমর্থন কামনা করে বলেন, ‘সবাই মিলে গণতান্ত্রিক ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়তে কাজ করা হবে।’

চিফ হুইপ বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ অধিবেশন শুরুর পর আইনমন্ত্রী ১৩৩টি অধ্যাদেশ হাউসে উত্থাপন করবেন। আমাদের ১৩৩টি অধ্যাদেশ আছে যা লে করা হবে। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সব দলের সদস্যদের নিয়ে একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটি নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশগুলো বহাল থাকবে আর কোনগুলো ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। আগামী ১২ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো আমরা পাস করার চেষ্টা করব।

অধিবেশনের শুরুতেই প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া ‘জুলাইযোদ্ধা’ এবং দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। তাদের ত্যাগ ও অবদান নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

চিফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, আমরা একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়বদ্ধ সংসদ উপহার দিতে চাই। জাতীয় সব সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে এই সংসদ। এখানে যুক্তি-তর্ক হবে, গঠনমূলক সমালোচনা হবে। আমরা বিরোধী দলের কাছ থেকেও ইতিবাচক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

জুলাই সনদের শপথ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ পরিষ্কার করে বলেন, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা সেই শপথ নেননি। ভবিষ্যতে এটি সংবিধানে যুক্ত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া প্রথম দিনেই বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি ও বিশেষ কমিটিসহ অন্তত দুটি কমিটি গঠন করা হবে। সম্ভব হলে প্রিভিলেজ ও হাউস কমিটিও করা হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রথম দিনের অধিবেশনের জন্য এসএসএফ ও সিএসএফ-এর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, যার ফলে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকতে পারে।

এসময় অন্য ৬ জন হুইপ মো. জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঈদে ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে সেতুর উভয় প্রান্তে ইটিসি টোল বুথ চালু

খালি চেয়ার দিয়ে শুরু হবে সংসদ, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর : চিফ হুইপ

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন খালি চেয়ার দিয়েই শুরু হবে বলে জানিয়ে সরকার দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় এবার চিরাচরিত নিয়মে অধিবেশন শুরু হচ্ছে না। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠকে সংসদ নেতাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজকের বৈঠকে সংসদের কার্যক্রমের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রথম দিনে সংসদ খালি চেয়ার দিয়েই শুরু হবে এবং কর্মকমিশনের চিঠি উত্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেবেন। সেই ভাষণের মধ্য দিয়েই বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশন শেষ হবে।

চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সেশনের শুরুতে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। এরপর সংসদ নেতার প্রস্তাবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন, যা কালই প্রকাশ করা হবে।

ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে বিরোধীদলের সঙ্গে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি বলেও জানান তিনি। নূরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদারতা দেখিয়ে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাঁরা কোনো ‘পজিটিভ রেসপন্স’ পাননি। পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিটির সদস্যরা এখনো শপথ নেননি, কারণ সংবিধানে এ বিষয়ে কোনো বিধান নেই। সংবিধানে “জুলাই সনদ” সংযুক্ত হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদলের গঠনমূলক সমালোচনা ও সমর্থন কামনা করে বলেন, ‘সবাই মিলে গণতান্ত্রিক ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়তে কাজ করা হবে।’

চিফ হুইপ বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ অধিবেশন শুরুর পর আইনমন্ত্রী ১৩৩টি অধ্যাদেশ হাউসে উত্থাপন করবেন। আমাদের ১৩৩টি অধ্যাদেশ আছে যা লে করা হবে। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সব দলের সদস্যদের নিয়ে একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটি নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশগুলো বহাল থাকবে আর কোনগুলো ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। আগামী ১২ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো আমরা পাস করার চেষ্টা করব।

অধিবেশনের শুরুতেই প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া ‘জুলাইযোদ্ধা’ এবং দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। তাদের ত্যাগ ও অবদান নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

চিফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, আমরা একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়বদ্ধ সংসদ উপহার দিতে চাই। জাতীয় সব সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে এই সংসদ। এখানে যুক্তি-তর্ক হবে, গঠনমূলক সমালোচনা হবে। আমরা বিরোধী দলের কাছ থেকেও ইতিবাচক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

জুলাই সনদের শপথ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ পরিষ্কার করে বলেন, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা সেই শপথ নেননি। ভবিষ্যতে এটি সংবিধানে যুক্ত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া প্রথম দিনেই বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি ও বিশেষ কমিটিসহ অন্তত দুটি কমিটি গঠন করা হবে। সম্ভব হলে প্রিভিলেজ ও হাউস কমিটিও করা হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রথম দিনের অধিবেশনের জন্য এসএসএফ ও সিএসএফ-এর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, যার ফলে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকতে পারে।

এসময় অন্য ৬ জন হুইপ মো. জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।