আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানকে শনিবার (৫ আগস্ট) তোশাখানা মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পরেই গ্রেফতার করা হয়। দেশটির প্রভাবশালী পত্রিকা ডন জানিয়েছে, পিটিআই চেয়ারম্যানকে শনিবার সন্ধ্যাতেই দেশটির পাঞ্জাবের অ্যাটক কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
জিও নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) প্রথমবারের মতো জেলে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করেছেন তার স্ত্রী বুশরা বিবি। এইসময় বুশরা বিবির সঙ্গে ছিলেন ইমরান খানের আইনজীবীরা।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ইমরান খান ও বুশরা বিবির মধ্যে কথা হয়। তবে এসময় ইমরান খানের সঙ্গে আইনজীবী নাঈম পাঞ্জোতা, শের আফজাল মারওয়াত এবং আলি ইজাজ বুট্টার দেখা করার অনুমতি পাননি। ফলে তাদের কারাগারের বাইরেই থাকতে হয়।
ইমরানের আইনজীবী নাঈম হায়দার পাঞ্জুথা মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, স্বামীর সঙ্গে একা দেখা করার সুযোগ পান বুশরা বিবি। তারা সবমিলিয়ে দেড় ঘণ্টার মতো কথা বলেন।
ওই ভিডিওতে তিনি বলেছেন, বুশরা বিবি দেড় ঘণ্টার জন্য দেখা করেন। বুশরা বিবি বলেছেন খান সাহেব খুব ভালো আছেন। কিন্তু তাকে সি ক্যাটাগরির সেলে রাখা হয়েছে। উচ্চ আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। আমরা বিষয়টি কাল (শুক্রবার) উচ্চ আদালতে নিয়ে যাব।
নাঈম পাঞ্জোথা জানিয়েছেন, বুশরা বিবি ইসলামাবাদ হাই কোর্ট থেকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পান। সূত্রের বরাত দিয়ে জিও নিউজ জানিয়েছে, কোর্টের নির্দেশনা দেখানোর পরেও ইমরান খানের সঙ্গে লিগ্যাল টিমের দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
এর আগে, সোমবার নিজের আইনজীবীদের ইমরান বলেছেন, আমি আর জেলে থাকতে চাই না। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।’ এ নিয়ে জিও নিউজ সেইদিন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, অ্যাটক কারাগারে দিনে মাছি ও রাতে পোকামাড়রের উৎপাতে বিরক্ত ইমরান।
এদিকে ডন জানায়, ইমরান খানই দেশটির প্রথম সাবেক কোনো প্রধানমন্ত্রী যাকে ‘কুখ্যাত’ কারাগারে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলের একজন কর্মকর্তা ডনকে বলেছিলেন, ইমরান খানের জন্য একটি ভিভিআইপি জেল প্রস্তুত ছিল। এই সেলে কোনো এসির ব্যবস্থা নাই। কিন্তু একটি ফ্যান, বেড ও ওয়াশরুম আছে।
খানের স্ত্রী সাক্ষাৎ শেষে লাহোর চলে যান বলে জানায় সূত্রটি।
তোশাখানা মামলায় সাজা পাওয়ার পর পর লাহোরের জামান পার্কের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন ইমরান খান। ২০১৮-২০২২ সাল সময়ে ক্ষমতায় থাকাকালে রাষ্ট্রীয় উপহার কেনা-বেচার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তোশাখানা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ইমরানের দল।