নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ বি এম জাহিদ হোসেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বগুড়ায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা থাকলেও বগুড়া সদর আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় আচরণবিধির কারণে সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচন আচরণবিধি মেনে তিনি রাজধানীর ১৭ আসনের কড়াইল বস্তিতে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। একই দিনে দেশের আরও ১৪টি স্থানে দলীয় নেতা ও মন্ত্রীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা অঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, নেতাদের সরাসরি তদারকিতে উপযুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘অগ্রাধিকার প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ড’-এর বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। যদিও গত ২৩ তারিখ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে ১০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু হবে।
পাইলট প্রকল্পে কতজনকে এই কার্ড দেওয়া হবে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, কড়াইল, সাততলা, ভাসানটেক ও ওলিটেক বস্তি মিলিয়ে প্রায় ৪৪ হাজার হাউজহোল্ড চিহ্নিত হয়েছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ১৫ হাজারের বেশি, খুলনার খালিশপুরে ৭ হাজারের বেশি হাউজহোল্ড রয়েছে। অন্যদিকে চরফ্যাশনে সাড়ে সাতশ এবং লামায় সাড়ে পাঁচশ হাউজহোল্ড রয়েছে। এলাকাভেদে সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট সংখ্যার তথ্য ৮ মার্চ জানানো যাবে। ইতোমধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ডোর-টু-ডোর তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে ডাটা এন্ট্রির কাজ চলছে।

জাহিদ হোসেন বলেন, কার্ডটি স্মার্ট কার্ডের আদলে তৈরি হবে। প্রতিটি পরিবারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এতে সংরক্ষণ করা হবে এবং পরবর্তীতে প্রিন্ট করে বিতরণ করা হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি কার্ডের প্রয়োজন হচ্ছে, বিশেষ করে বড় বস্তি এলাকাগুলো যুক্ত হওয়ায়।
কারা এই সুবিধার আওতায় আসবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারও কার্ড পাবে, তবে তারা কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না। তাদের কার্ডে কিউআর কোডের মাধ্যমে উল্লেখ থাকবে যে তারা রাষ্ট্রীয় তহবিলে অবদান রাখছেন। কর্মসূচিতে নারীর ক্ষমতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে মা যেন সন্তানের শিক্ষা ও পুষ্টিতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কতদিন পর্যন্ত এই সুবিধা পাবে কার্ডধারীরা-এমন প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর সরকার দেশসেবার সুযোগ পেয়েছে। সফটওয়্যার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে সুবিধাভোগীর তালিকাও হালনাগাদ করা যায়। লক্ষ্য হচ্ছে-ধীরে ধীরে মানুষের স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা।
এ ছাড়া পাইলটিং কার্যক্রম ১০-১২টি স্থানে নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগেই ভেন্যুগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানান জাহিদ হোসেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















