আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রুশ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় বিমান হামলা চালিয়েছে মস্কো। সোমবার (২৬ আগস্ট) ইউক্রেনের অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চলে দুইশোর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত সাতজন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর প্রধান।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৬ আগস্ট) ইউক্রেনের অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চলে দুইশোর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত সাতজন নিহত ও কয়েক ডজন আহত বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর প্রধান।
রুশ হামলায় বিদ্যুতের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের কিছু অংশ সহ অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জল সরবরাহে বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। কারণ পুরো দেশকেই বিমান হামলার সতর্কতার অধীনে রাখা হয়েছিল।
রাশিয়া নিশ্চিত করেছে, তারা ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ শুরু করেছে। জানিয়েছে, এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগুলির মধ্যে একটি। তারা ইউক্রেনের প্রায় সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হয়ে সকাল পর্যন্ত চলে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর কমান্ডার মাইকোলা ওলেশচুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছে, রাতভর ১২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০৯ টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে তারা ১০২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯৯টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিতের দাবি করেছে তারা।
ওলেশচুক সর্বাত্মক এ হামলাকে ‘সবচেয়ে বড় বিমান হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন।
এর আগে, গত ডিসেম্বরে ইউক্রেনে ১৫৮ টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া যা তখন সবচেয়ে বড় আক্রমণ হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল।
এদিকে ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড জানিয়েছে, রুশ হামলার সময় একটি ‘বস্তু’ তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। পোলিশ সেনাবাহিনীর অপারেশনাল কমান্ডের মুখপাত্র জ্যাসেক গোরিসজেউস্কি বলেছেন, সম্ভবত এটি একটি ড্রোন ছিল। ফ্লাইটের গতিপথ এবং গতি নির্দেশ করে যে এটি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। ন্যাটোর মুখপাত্র ফারাহ দাখলাল্লাহ রাশিয়ার ন্যাটো আকাশসীমা লঙ্ঘনকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
কিছুদিন ধরেই বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কা করছিল ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভেতরে হামলা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে কুরস্কের কিছু অংশ ইউক্রেন দখলে নেওয়ার পর থেকেই এ আশঙ্কা বাড়ছিল।