বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

সমঝোতায় উদ্দ্যেগ দাহালের, ঐক্যের দ্বারপ্রান্তে নেপালের ক্ষমতাসীন দল

রিপোর্টারের নাম
আপডেট : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০

ভারতের বিরোধিতা করে কয়েক সপ্তাহ ধরেই দলের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। তবে তিনি সেই চাপ কাটিয়ে উঠে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

গত তিন সপ্তাহের মধ্যে ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির ‘স্থায়ী কমিটি’র বৈঠক কমপক্ষে সাত বার স্থগিত করা হয়েছে। কারণ দলের দুই চেয়ারপারসন কেপি শর্মা অলি ও পুষ্প কামাল দাহালের মধ্যে বিরোধ। কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত, মাধব কুমার নেপাল এবং ঝালা নাথ খানালের মতো ভারতের মদদপুষ্ট নেতাদের সমর্থনে দাহাল দলের মধ্যে অলিকে প্রায় কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ভারতের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে জনতার সমর্থনে অলি ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে, দাহাল ব্যকফুটে চলে গিয়েছেন।

দলের নেতারা বলছেন যে, অলি এখনও তার সমস্ত অস্ত্র ব্যবহার করেন নি। এখনও পর্যন্ত তিনি তার কার্ডগুলি বেশ ভাল খেলেছেন এবং এখনও তার হাতে একটি বা দু’টি টেক্কা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেছেন, ‘দাহালের সামনে অলি যে টোপ ফেলেছিলেন তা হল দলের একমাত্র সভাপতি হওয়া। তবে, অলি একটি শর্তে দিয়েছিলেন যে, দলের নীতি অনুযায়ী বহু-দলীয় গণতন্ত্রকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করতে দাহালের সম্মত হওয়া উচিত।’

দাহাল এখন উভয় সঙ্কটে পড়ে গিয়েছেন। অলির প্রথম প্রস্তাব গ্রহণ করে দলের একমাত্র সভাপতি হওয়ার অর্থ তার সহযোগীদের – নেপাল এবং খানালের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা। আবার, জনগণের বহু-দলীয় গণতন্ত্রকে দলের পথনির্দেশক নীতি হিসাবে গ্রহণ করার অর্থ কেবল অলিকে বঞ্চিত করা নয়, দলের মাওবাদী আদর্শেরও অবসান। এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য মণি থাপা বলেছেন, ‘এ কারণেই অলির সাথে বোঝাপড়ার পরে, দাহাল নেপাল গ্রুপ এবং প্রাক্তন মাওবাদী সদস্যদের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন।

দলের নেতারা বলছেন, কয়েক সপ্তাহ আগে দাহাল-নেপালরা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অলিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য যে দাবি তুলেছিলেন, এখন তার প্রাসঙ্গিকতা হ্রাস পেয়েছে। মঙ্গলবার দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকটি মাত্র আধা ঘন্টা স্থায়ী হয়েছিল। দেশব্যাপী বন্যা ও ভূমিধসের প্রেক্ষিতে দলটির দায়িত্ব এবং উদ্ধার ও ত্রাণে জড়িত থাকার নির্দেশ দেয়া নিয়ে আলোচনার হওয়ার পরে বৈঠকটি আগামী ২৮ জুলাই অবধি আবার স্থগিত হয়ে যায়।

পার্টির মুখপাত্র নারায়ণ কাজী শ্রেষ্ঠ বলেছেন, ‘দলের সদস্যদের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাড়া দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া আজকের একমাত্র এজেন্ডা ছিল।’ তিনি জানান, ‘বৈঠকে বন্যা ও ভূমিধসে যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।’

নেতাদের মতে, দাহাল আপাতত অলির পদত্যাগের এজেন্ডা বাদ দিয়েছেন। এর অর্থ, দলে একটি স্থিতিশীল অবস্থা রয়েছে এবং অলি সরকারের নেতৃত্ব অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক সপ্তাহে অলি ও দাহাল বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন। তবে উভয়ই একটি সাধারণ ঐক্যে আসতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এরপরে শনিবার অলি শনিবার সচিবালয়ে বৈঠকে প্রথম দলীয় সভাপতির জন্য দাহালকে সমর্থন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি প্রাথমিক সাধারণ সম্মেলনের প্রস্তাব দেন। এরপরে দাহাল অলির পদত্যাগের বিষয়টি আর উত্থাপন করেননি।

সোমবার দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সামনে দাহাল স্বীকার করেছেন যে, অলি তাকে দলীয় চেয়ারপার্সনের জন্য সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ সম্মেলনের প্রস্তাব করেছিলেন তবে এই শর্ত ছিল যে তাকে বহু-দলীয় গণতন্ত্রকে দলের আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। সোমবার দাহালের বরাত দিয়ে স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের বক্তব্য, ‘অলির কাছ থেকে এটি একটি আশ্চর্যজনক প্রস্তাব ছিল।’

দলীয় নেতারা জানান, দাহাল এখন তার নিকটবর্তী নেতাদের বলছেন যে, অলির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। তাই তাদের মতে, অলির পদত্যাগ এখন কোনও এজেন্ডা নয়। এজন্য, পরের সপ্তাহে স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে আশা করার মতো খুব বেশি কিছু নেই। তাদের মতে, দলের ভাঙ্গন বাঁচাতে অলি-দহাল ঐক্যের বিকল্প নেই। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া