মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

চীনে করোনার নতুন ধরন, সপ্তাহে আক্রান্ত হতে পারে সাড়ে ছয় কোটি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট : শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩
চীনে করোনার নতুন ধরন, সপ্তাহে আক্রান্ত হতে পারে সাড়ে ছয় কোটি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

চীনে আবারও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে করোনা ভাইরাস। নতুন ঢেউ মোকাবিলায় টিকাদান বাড়ানোর কথা ভাবছে চীনা প্রশাসন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘এক্সবিবি’ জুন মাসে সংক্রমণের শীর্ষে পৌঁছাতে পারে। আর এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ছয় কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট এক্সবিবি শক্তিশালী হয়ে ওঠায় নতুন ভ্যাকসিন তৈরিতে তাড়াহুড়া করছে চীন সরকার। গত বছর চীন তার ‘জিরো কোভিড’ নীতি থেকে হঠাৎ সরে আসে। এরপর চীন করোনার বড় ঢেউয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এক্সবিবি’ ভ্যারিয়েন্টের কারণে এ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত বছর চীন তার ‘জিরো কোভিড’ নীতি থেকে সরে আসার পর নতুন ভ্যারিয়েন্টটির সংক্রমণ শুরু হয়।

চীনের মহামারি বিশেষজ্ঞ জং নানশান সোমবার বলেছেন, এক্সবিবি ওমিক্রন সাবভ্যারিয়েন্টের (এক্সবিবি.১.৯.১, এক্সবিবি.১.৫ ও এক্সবিবি.১.১৬ সহ) জন্য দুইটি নতুন টিকা প্রাথমিক পর্যায়ে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গুয়াংঝৌতে এক বায়োটেক বিষয়ক সিম্পোজিয়াতে বক্তব্যকালে তিনি বলেন, আরও তিন থেকে চারটি টিকা শিগগিরই অনুমোদন দেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি।

চীনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এখনকার প্রাদুর্ভাবে ভয়াবহতা কম হবে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের বিপুল বয়স্ক মানুষের মৃত্যুহার কমাতে চাইলে জোরালো টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকেও প্রস্তুত থাকতে হবে।

বেইজিং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, নতুন ভেরিয়েন্টে সংক্রমণের হার গত মাস থেকে বেশি। এপ্রিলের শেষ দুই সপ্তাহে প্রচলিত সংক্রামক রোগ হিসেবে ফ্লুকে ছাড়িয়ে গেছে করোনা।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আগের শীতের সময়ের তুলনায় এবার লক্ষণ হবে হালকা। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অত বাড়বে না। এ অবস্থায় কিছু স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অধিবাসীদের মুখে মাস্ক পরতে অনুরোধ করেছে। ব্যস্ত এলাকা এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করেছে।

গত শীতে চীন করোনাসংক্রান্ত কঠোর নীতি তুলে নেয়। তারপর থেকেই বলা হচ্ছিল, ভাইরাসটির নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব সংক্রমণের সবচেয়ে বড় তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও চীন সরকার দাবি করছে, সাম্প্রতিক উত্থান আগের মতো ভয়াবহ হবে না।

তবে দেশটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনায় বয়স্কদের মৃত্যু ঠেকাতে টিকাদান কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতেও অ্যান্টিভাইরাস সরবরাহ করা প্রয়োজন।

২০১৯ সালে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ব্যাপক প্রচেষ্ঠা চালাতে হয়েছিল বিজ্ঞানীদের। তিন বছর পর পৃথিবী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। তবে বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে পরবর্তী মহামারী নিয়ে সতর্ক করেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের সাম্প্রতিক একটি সতর্কবার্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, পুরো বিশ্বকে পরবর্তী মহামারির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যা করোনার চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে।

তার এই মন্তব্যের পর ডব্লিউএইচও’র ওয়েবসাইটে কোন কোন রোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, সে বিষয়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা নামগুলোই পরবর্তী ভয়াবহ মহামারির কারণ হতে পারে। এই তালিকার বেশিরভাগ রোগের নামের সঙ্গে আমরা কমবেশি পরিচিত।

যেমন- ইবোলা, সার্স, জিকা। এ তালিকার শেষ রোগটির নাম ‘ডিজিজ এক্স’, যা এখন উদ্বেগের কারণ। ডব্লিউএইচও’র ওয়েবসাইট অনুসারে, শব্দটি এমন একটি মহামারীকে বোঝায়, যা এমন একটি প্যাথোজেনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি একটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত রোগ হতে পারে। যার কোনো পরিচিত চিকিৎসা পৃথিবীতে এখনো আবিষ্কার হয়নি। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া