বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

ইইউর বাজার হারানোর আশঙ্কায় মালয়েশীয় রফতানিকারকরা

রিপোর্টারের নাম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০

যোগাযোগ ডেস্ক

পরিবেশ রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কার্যকলাপ অগ্রগণ্য। জোটটি পরিবেশ দূষণ রোধে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বায়ু মানের সূচক স্বাভাবিকে রাখতে কয়লার ব্যবহার ধাপে ধাপে কমিয়ে আনছে। এরই প্রচেষ্টা হিসেবে খাদ্য শিল্পকে আরো টেকসই করার জন্য সম্প্রতি একটি প্রস্তাব রেখেছে ইইউ। তবে এ প্রস্তাবটিকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ার প্রধান রফতানি পণ্য পাম অয়েল শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি, ইইউর এ ধরনের উদ্যোগ ইউরোপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভোজ্যতেলটির আমদানি-রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। খবর রয়টার্স ও আরগুস মিডিয়া।

পাম অয়েলের শীর্ষ আমদানিকারকদের তালিকায় ইইউ তৃতীয় স্থানে। মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ বাজার জোটটি। খাদ্যশিল্প টেকসইয়ের প্রস্তাবিত উদ্যোগের ফলে বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহূত ভোজ্যতেলটির আমদানিতে কঠোর নিয়ম-কানুন আরোপ করতে পারে ইইউ। বন উজাড় ও অন্যান্য গাছের তুলনায় কম কার্বন শোষণসহ নানা কারণে পাম গাছের আবাদকে পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে অভিযুক্ত করেছে ইইউ। ফলে পাম অয়েলের

ব্যবহার ও আমদানিতে কঠোর নিয়ম-নীতি আরোপের চেষ্টা চালাচ্ছে জোটটি। এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি সুষ্ঠু, স্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশবান্ধব খাদ্য ব্যবস্থা প্রয়োগে উদ্যোগী হয়েছে জোটটি। এতে বৈশ্বিক পরিসরে পাম অয়েল ব্যবহারে বাড়তি চাপে পড়তে পারে বলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিল (এমপিওসি)। ইন্দোনেশিয়ার পর মালয়েশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল রফতানিকারক দেশ এবং দেশটির তৃতীয় শীর্ষ রফতানি বাজার ইইউ।

এমপিওসির প্রধান নির্বাহী কল্যাণ সুন্দরম বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি, ইইউর এ কৌশলটির প্রভাব জোটটির সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পরিসরে প্রসারিত হয়ে পড়তে পারে। ফলে ইইউতে পণ্যটির রফতানি কঠিন হয়ে ওঠার আগেই প্রস্তাবিত উদ্যোগের সঙ্গে মালয়েশিয়াকে জড়িয়ে পড়ার বিকল্প নেই। ইইউ এরই মধ্যে ২০৩০ সাল নাগাদ পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাম অয়েলভিত্তিক পরিবহন থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এরই মধ্যে ব্লকটি পাম অয়েলের আমদানি কমাতে শুরু করেছে। ২০১৯ সালে অঞ্চলটি সব মিলিয়ে সাড়ে ৬৩ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করেছিল, যা ছিল আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কম। চলতি বছরের শুরু থেকেই পণ্যটির আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে ইইউ। তবে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। একই কারণে ভারত, চীনসহ অন্য শীর্ষ ভোক্তা দেশগুলোও ভোজ্যতেলটির আমদানি কমিয়েছে। এতে পণ্যটির প্রধান দুই রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে বিশ্বব্যাপী ৬৫ শতাংশের বেশি পাম অয়েল ব্যবহার হয়ে থাকে, যা রুটি থেকে শুরু করে চকোলেট বা ইনস্ট্যান্ট নুডলসেও ব্যবহার হয়ে থাকে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সম্মিলিতভাবে পণ্যটির মোট বৈশ্বিক উৎপাদনের ৮৫ শতাংশ উৎপাদন করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: