নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী ১৪ এপ্রিলের আগেই স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ ও শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
দুই আসনের উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাকি থাকা দু’টি উপ-নির্বাচন (বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩) আমরা আশা করছি পহেলা বৈশাখের আগেই শেষ করতে পারব। সাধারণত পহেলা বৈশাখে উৎসব থাকে, তাই তার আগেই এই কাজগুলো গুছিয়ে ফেলার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ভোট হবে।
বগুড়ার নির্বাচনের বিষয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বগুড়ায় যারা প্রবাসী ভোটার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা এরইমধ্যে ভোট দিয়েছেন। আমরা তাদের কাছে আবার ব্যালট পাঠাব। এ ছাড়া নতুন করে কেউ যদি বাদ পড়ে থাকে, তবে তাদের জন্য আরও দু-চার দিন সময় দেওয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, উপ-নির্বাচন নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণার বিষয়ে কমিশন সময় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
উপ-নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাও বহাল থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে প্রবাসী ও অনুপস্থিত ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে কি না সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে জাতীয় সংসদের ওপর। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, বর্তমান সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ফলে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকের বিধান থাকবে নাকি বাদ যাবে তা মূলত সংসদের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে।
মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের বিধান (অর্ডিন্যান্স) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার জানামতে, অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মেয়র প্রার্থী পদে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদ বসবে। সংসদ বসার পর যদি এই বিল বা অর্ডিন্যান্স রেটিফাই (অনুমোদন) হয়, তবে সে অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আর যদি পরিবর্তন হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। আমরা মূলত সংসদ অধিবেশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছি।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রসঙ্গে কমিশনার জানান, এ প্রক্রিয়া কার্যত শুরু হয়ে গেছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যাদের মনোনীত করবে, বিধি অনুযায়ী মূলত তারাই নির্বাচিত হবেন। দলগুলো ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে; নির্বাচন কমিশন সেই সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন শেষ করবে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে স্থগিত হওয়া উপনির্বাচনগুলো নিয়েও কমিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















