Dhaka শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রী বিন্তি হত্যায় প্রধান আসামির দায় স্বীকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর রায়েরবাজারে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি হত্যা মামলায় তার প্রেমিক সিয়াম হোসেন ইমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. মতিউর রহমান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারের পর আসামি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি ও রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়।

এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগের চরকঘাটা এলাকায় বিন্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বিল্লাল হোসেন মামলা দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে কাঁঠালবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন সিয়াম ও বিন্তির পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সিয়াম বাসা পরিবর্তন করে রামপুরায় চলে গেলেও নিয়মিত হাজারীবাগ এলাকায় এসে বিন্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।

বন্ধুদের মাধ্যমে বিন্তির অন্য সম্পর্ক থাকার বিষয়ে জানতে পেরে সিয়াম তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় তাদের যোগাযোগ বন্ধ থাকে। পরে ২০২৫ সালে আবার যোগাযোগ শুরু হলেও বিন্তির আচরণ নিয়ে সিয়ামের সন্দেহ বাড়তে থাকে।

পরবর্তীতে এক বন্ধুর মাধ্যমে বিন্তিকে প্রেমের প্রস্তাব পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করে সিয়াম। এতে সম্মতি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সে বিন্তির মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সত্য স্বীকার না করলে হত্যার পরিকল্পনা করে।

ঘটনার দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সিয়াম হাজারীবাগের ট্যানারি মোড় থেকে একটি ধারালো ছুরি কিনে সঙ্গে রাখে। সন্ধ্যায় রায়েরবাজার স্কুলের সামনে দেখা করার কথা বলে বিন্তিকে ডাকে। পরে তারা রিকশায় বাংলামটর এলাকায় গিয়ে আবার হাজারীবাগে ফিরে আসে এবং ভিকটিমের বাসার কাছাকাছি এলাকায় হাঁটাহাঁটি করে।

একপর্যায়ে সিয়াম বিষয়গুলো স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে বললে বিন্তি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তখন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়াম তাকে জাপটে ধরে পকেটে রাখা ছুরি দিয়ে পেটে ও পিঠে ধারাবাহিকভাবে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিন্তি বাড়ির ভেতরে দৌড়ে ঢুকে পড়েন।

ঘটনার পর সিয়াম নিজের জামায় লেগে থাকা রক্ত মুছে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং পরে কাঁঠালবাগানে তার দাদার বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার : মির্জা ফখরুল

স্কুলছাত্রী বিন্তি হত্যায় প্রধান আসামির দায় স্বীকার

প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর রায়েরবাজারে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি হত্যা মামলায় তার প্রেমিক সিয়াম হোসেন ইমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. মতিউর রহমান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারের পর আসামি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি ও রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়।

এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগের চরকঘাটা এলাকায় বিন্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বিল্লাল হোসেন মামলা দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে কাঁঠালবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন সিয়াম ও বিন্তির পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সিয়াম বাসা পরিবর্তন করে রামপুরায় চলে গেলেও নিয়মিত হাজারীবাগ এলাকায় এসে বিন্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।

বন্ধুদের মাধ্যমে বিন্তির অন্য সম্পর্ক থাকার বিষয়ে জানতে পেরে সিয়াম তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় তাদের যোগাযোগ বন্ধ থাকে। পরে ২০২৫ সালে আবার যোগাযোগ শুরু হলেও বিন্তির আচরণ নিয়ে সিয়ামের সন্দেহ বাড়তে থাকে।

পরবর্তীতে এক বন্ধুর মাধ্যমে বিন্তিকে প্রেমের প্রস্তাব পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করে সিয়াম। এতে সম্মতি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সে বিন্তির মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সত্য স্বীকার না করলে হত্যার পরিকল্পনা করে।

ঘটনার দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সিয়াম হাজারীবাগের ট্যানারি মোড় থেকে একটি ধারালো ছুরি কিনে সঙ্গে রাখে। সন্ধ্যায় রায়েরবাজার স্কুলের সামনে দেখা করার কথা বলে বিন্তিকে ডাকে। পরে তারা রিকশায় বাংলামটর এলাকায় গিয়ে আবার হাজারীবাগে ফিরে আসে এবং ভিকটিমের বাসার কাছাকাছি এলাকায় হাঁটাহাঁটি করে।

একপর্যায়ে সিয়াম বিষয়গুলো স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে বললে বিন্তি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তখন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়াম তাকে জাপটে ধরে পকেটে রাখা ছুরি দিয়ে পেটে ও পিঠে ধারাবাহিকভাবে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিন্তি বাড়ির ভেতরে দৌড়ে ঢুকে পড়েন।

ঘটনার পর সিয়াম নিজের জামায় লেগে থাকা রক্ত মুছে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং পরে কাঁঠালবাগানে তার দাদার বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।