Dhaka শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ : ইসি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৫ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দুই বছর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সারাদেশে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সারাদেশের কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এখনো কিছু বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রের চূড়ান্ত হিসাব আসা বাকি। তবে সামগ্রিক ভোটের হার ৫৯.৪৪ শতাংশেই স্থিতিশীল রয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটের হার প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ভালো থাকায় ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।

কেন্দ্রভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২১০টি আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথ নিশ্চিত করেছে বিএনপি। অন্যদিকে, জামায়াতের ১১ দলীয় ঐক্য ৭২টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্য প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয় পেয়েছেন। এখনো ১০টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছিল।

সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এবারই প্রথম ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটার এই চার্টারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সারাদেশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়। এ ছাড়া বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, যারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সামগ্রিকভাবে ‘সন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের অধীনেই দীর্ঘ ১৮ মাস পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ছিল ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ছিল ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন, হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হন ১ হাজার ২৩২ জন।

বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ভোটের হার সবচেয়ে বেশি ছিল ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে, সেবার ভোটের হার ছিল ৮৭ দশমিক ১৩। ভোটের হার সবচেয়ে কম ছিল ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। এরপর ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে, ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে, ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ দশমিক ৬৭, ৬০ দশমিক ৩৭ ও ৫৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৪৫। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে, ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৯৬ ও ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ, ৪১ দশমিক ৮১ ও ৪১ দশমিক ৮১ শতাংশ।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সারাদেশে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ : ইসি

প্রকাশের সময় : ০১:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দুই বছর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সারাদেশে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সারাদেশের কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এখনো কিছু বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রের চূড়ান্ত হিসাব আসা বাকি। তবে সামগ্রিক ভোটের হার ৫৯.৪৪ শতাংশেই স্থিতিশীল রয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটের হার প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ভালো থাকায় ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।

কেন্দ্রভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২১০টি আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথ নিশ্চিত করেছে বিএনপি। অন্যদিকে, জামায়াতের ১১ দলীয় ঐক্য ৭২টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্য প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয় পেয়েছেন। এখনো ১০টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছিল।

সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এবারই প্রথম ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটার এই চার্টারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সারাদেশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়। এ ছাড়া বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, যারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সামগ্রিকভাবে ‘সন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের অধীনেই দীর্ঘ ১৮ মাস পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ছিল ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ছিল ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন, হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হন ১ হাজার ২৩২ জন।

বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ভোটের হার সবচেয়ে বেশি ছিল ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে, সেবার ভোটের হার ছিল ৮৭ দশমিক ১৩। ভোটের হার সবচেয়ে কম ছিল ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। এরপর ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে, ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে, ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৪৯ দশমিক ৬৭, ৬০ দশমিক ৩৭ ও ৫৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৪৫। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে, ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৯৬ ও ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ, ৪১ দশমিক ৮১ ও ৪১ দশমিক ৮১ শতাংশ।