নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সামনের অর্থনৈতিক মন্দায় রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া সরকার টিকতে পারবে না।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সৌদি আরব থেকে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন দরকার বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে যে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে এ অবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া সরকার টিকতে পারবে না। অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করতে হবে। এসব অধ্যাদেশ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলদের কাজ করতে হবে। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেলে হবে না।
তিনি বলেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় আজকের ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ-সমাবেশে এনসিপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক দলের দ্বন্দ্ব শুরু। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম, কিন্তু বিএনপি নির্বাচন চেয়েছে। দুই তৃতীয়াংশ ভোট নিয়ে তারা ক্ষমতায়। বিএনপি গণভোট মানবেন না।
তিনি বলেন, গণভোটের রেফারেন্স পয়েন্ট গণভোট। গুম প্রতিকারসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ তারা মানতে চায় না। এটা শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইসহ সবার জন্য কলঙ্ক। এই অধ্যাদেশ বাতিল হলে কেউ ছাড় পাবে না।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় সরকার। তারা গুম ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসার পর তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে। অথচ বিগত দিনে ইলিয়াস আলীসহ তাদের অনেক নেতাকর্মীই গুম হয়েছে। আমরা মনে করি, বিচারপতি নিয়োগসহ সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল।
নাহিদ বলেন, গত ১৬ বছরে বিএনপির আন্দোলনে দেশের মানুষ সাড়া দেয়নি। কারণ তাদের সব কর্মসূচি ছিল দলীয়। তারা জনগণের আন্দোলন করতে পারেনি। তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব ছিল দেশের বাইরে। তাই তাদের নেতাদের প্রতি মানুষের আস্থা ছিল না। কারণ তারা জানতো বিএনপি আসলে মৌলিক সংস্কার হবে না। নির্বাচনের পর ঠিকই তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনও কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না ক্ষমতাসীন দল। প্রথমত গণভোটের গণরায়কে তারা বাতিল করেছে। সংস্কার প্রশ্নে নতুন নতুন অজুহাত দিচ্ছে। অথচ দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সংস্কারকে কেন্দ্র করে দেশে যা হচ্ছে, তা খুবই অপ্রত্যাশিত। আসলে এই ধারণা ঐকমত্য কমিশন ও ৫ আগস্টের পর থেকেই শুরু হয়েছে। কারণ আমরা বারবার সংস্কারে জোর দিলেও তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসে যাওয়া। আর আমরা বলেছিলাম, শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্যই গণঅভ্যুত্থান হয়নি। নেতৃত্বের আমূল সংস্কারের জন্যই ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। আমরা আসা করবো, তারা মানুষের অনুভূতিকে বিবেচনায় নেবে। না হলে জনগণের জন্য আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে এগিয়ে যাব।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সংসদে এক ধরনের নাটক হচ্ছে। সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়েছেন। অথচ এই রাষ্ট্রপতির থাকারই কথা না। আমরা মনে করি, সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে গণপরিষদ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করতে রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি। না হলে সরকার টিকবে না। অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করতে হবে। এসব অধ্যাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলদের কাজ করতে হবে। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেলে হবে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ম কানুনের বেড়াজালে মূল আলোচনা থেকে সবাই সরে যাচ্ছে। এসব কারণে আমরা রাজপথে নেমেছি।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে ড. মোহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সকল উপদেষ্টাদের মাঠে নামার আহবান জানিয়ে নাহিদ বলেন, শুনতে পাচ্ছি, বিভিন্ন যে অধ্যাদেশ ছিল, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১০ থেকে ১১টি অধ্যাদেশ তারা (বিএনপি সরকার) আইনে পরিণত করবেন না। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার এবং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রয়েছে। এই জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে যে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল, সেটাই তারা রাখতে চায়।
তিনি বলেন, ড. মোহাম্মদ ইউনূস, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ যে সকল উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারে ছিলেন, তাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে। তারা তো এই অধ্যাদেশগুলো করেছিল। তো তারা কেন করেছিল, এখন যে বাতিল করা হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদেরকে কথা বলতে হবে।
তিনি বলেন, ড. মোহাম্মদ ইউনুসকে মুখ খুলতে হবে। তারা অধ্যাদেশ করে একটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গিয়েছে। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, আর যার যার ক্যারিয়ারে ফিরে যাবে, এটা কিন্তু হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদেরকেও দাঁড় হতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের রক্তের উপর দিয়ে আমরা তাদেরকে ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদেরকে নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুকু অর্জন সেই সময় হয়েছে, সে অর্জন ধরে রাখার জন্য তাদেরকেও মাঠে নামতে হবে। ফলে ড. মোহাম্মদ ইউনুসসহ সহক উপদেষ্টাদের আমি রাজপথে এই বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি।
এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা ১৯ মিনিটে স্ত্রীকে নিয়ে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন নাহিদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























