Dhaka বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন হচ্ছে সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে ২০তম ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা আর সর্বোচ্চ প্রথম ধাপে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় দেড় গুণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার সুপারিশ করা রয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন অনুপাত ১:৮।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন তুলে ধরবে কমিশন। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ঠিক করে।

জানা গেছে, প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অনলাইনে জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারী মতামত দিয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, জীবনমানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত বিবেচনায় নিয়েছে বেতন কমিশন।

চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করছে। এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

সূত্রগুলো জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এত দিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াতের ভাতা ছিল। এ যাতায়াতের ভাতা নতুন বেতন কমিশন ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত দেওয়ার সুপারিশ করছে।

কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন বাড়ছে ১০০ শতাংশের মতো। যাঁরা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাঁদের বাড়ছে ৭৫ শতাংশ। আর যাঁরা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৫৫ শতাংশ।

৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। এমনিতে বয়সভেদে আট হাজার টাকা চিকিৎসার ভাতা। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা।

প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। ১১তম থেকে ২০তম ধাপে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি থাকবে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতিবেদন দাখিলের পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে, মঙ্গলবার পে-স্কেল নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বুধবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পে-স্কেলের সুপারিশ জমা দেবে পে-কমিশন। সরকারি চাকরিজীবীরা খুশি হবেন এমন সুপারিশ থাকবে প্রতিবেদনে।

সুপারিশের ক্ষেত্রে জিনিসপত্রের দাম এবং বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে কমিশনের সব প্রস্তাব হুবহু বাস্তবায়ন না-ও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন কমিটি তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে, এরপরই বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুসারে বেতন-ভাতা পান। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা এখন প্রায় ১৫ লাখ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন শিমুল বিশ্বাস

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন হচ্ছে সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা

প্রকাশের সময় : ০৬:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে ২০তম ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা আর সর্বোচ্চ প্রথম ধাপে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় দেড় গুণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার সুপারিশ করা রয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন অনুপাত ১:৮।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন তুলে ধরবে কমিশন। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ঠিক করে।

জানা গেছে, প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অনলাইনে জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারী মতামত দিয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, জীবনমানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত বিবেচনায় নিয়েছে বেতন কমিশন।

চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করছে। এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

সূত্রগুলো জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এত দিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াতের ভাতা ছিল। এ যাতায়াতের ভাতা নতুন বেতন কমিশন ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত দেওয়ার সুপারিশ করছে।

কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন বাড়ছে ১০০ শতাংশের মতো। যাঁরা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাঁদের বাড়ছে ৭৫ শতাংশ। আর যাঁরা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৫৫ শতাংশ।

৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। এমনিতে বয়সভেদে আট হাজার টাকা চিকিৎসার ভাতা। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা।

প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। ১১তম থেকে ২০তম ধাপে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি থাকবে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতিবেদন দাখিলের পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে, মঙ্গলবার পে-স্কেল নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বুধবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পে-স্কেলের সুপারিশ জমা দেবে পে-কমিশন। সরকারি চাকরিজীবীরা খুশি হবেন এমন সুপারিশ থাকবে প্রতিবেদনে।

সুপারিশের ক্ষেত্রে জিনিসপত্রের দাম এবং বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে কমিশনের সব প্রস্তাব হুবহু বাস্তবায়ন না-ও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন কমিটি তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে, এরপরই বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুসারে বেতন-ভাতা পান। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা এখন প্রায় ১৫ লাখ।