Dhaka বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকার রেলওয়েকে আর লোকসানি দেখতে চায় না : রেলমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৯ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার বাংলাদেশ রেলওয়েকে আর লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায় না। একে ঢেলে সাজাতে এবং লাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রবিউল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রেলের উন্নয়ন ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রেলকে জাতীয় পরিবহনের কেন্দ্রীয় মেরুদণ্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারী প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।

সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ উঠবে কেন—এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ, ২৪ ঘণ্টা তদারকি এবং স্টেশনে সরাসরি উপস্থিত থেকে মনিটরিং করা হবে। এই ঈদে হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে চাই।’

ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সক্ষমতার বাইরে টিকিট ছেড়ে পরে সময়সূচি ভেঙে পড়া বা সেবার মান নষ্ট হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। যতটুকু বাড়তি সেবা দেওয়া হবে, তা যেন ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকে। আন্তনগর ট্রেনে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিটের বিষয়টি তিনি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন বলে সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সভায় রেল খাতের দীর্ঘদিনের লোকসান, দুর্নীতি ও অপচয় নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাজেট ব্যয় হবে কিন্তু কাজের অগ্রগতি থাকবে না—এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। চলমান প্রকল্পগুলো কেন দীর্ঘদিনেও শেষ হচ্ছে না, কোথায় প্রতিবন্ধকতা—তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের পথে যেতে হবে।

সভায় মন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেলের যাত্রাসময় কমানো এবং প্রথম শ্রেণির সেবার মানোন্নয়নে সাত দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিতে বলেছেন বলে জানিয়েছে সভাসূত্র। এ ছাড়া দেশে রেল ইঞ্জিন উৎপাদনের সক্ষমতা আছে কি না, আগে ছিল কি না—তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে রেল মন্ত্রণালয় সময়ানুবর্তিতা, ন্যূনতম মানসম্মত পরিবেশ ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে সভাসূত্র জানিয়েছে।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নির্বিঘ্ন ও হয়রানিমুক্ত রেলযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের বাস্তবায়নযোগ্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন যাত্রার সময় কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুঁজে করতে বলেন এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম নেবেন বলে জানান।

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজীব আহসান মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

একদিন হয়তো এতিমদের কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে : জামায়াত আমির

সরকার রেলওয়েকে আর লোকসানি দেখতে চায় না : রেলমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার বাংলাদেশ রেলওয়েকে আর লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায় না। একে ঢেলে সাজাতে এবং লাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রবিউল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রেলের উন্নয়ন ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রেলকে জাতীয় পরিবহনের কেন্দ্রীয় মেরুদণ্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারী প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।

সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ উঠবে কেন—এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ, ২৪ ঘণ্টা তদারকি এবং স্টেশনে সরাসরি উপস্থিত থেকে মনিটরিং করা হবে। এই ঈদে হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে চাই।’

ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সক্ষমতার বাইরে টিকিট ছেড়ে পরে সময়সূচি ভেঙে পড়া বা সেবার মান নষ্ট হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। যতটুকু বাড়তি সেবা দেওয়া হবে, তা যেন ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকে। আন্তনগর ট্রেনে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিটের বিষয়টি তিনি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন বলে সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সভায় রেল খাতের দীর্ঘদিনের লোকসান, দুর্নীতি ও অপচয় নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাজেট ব্যয় হবে কিন্তু কাজের অগ্রগতি থাকবে না—এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। চলমান প্রকল্পগুলো কেন দীর্ঘদিনেও শেষ হচ্ছে না, কোথায় প্রতিবন্ধকতা—তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের পথে যেতে হবে।

সভায় মন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেলের যাত্রাসময় কমানো এবং প্রথম শ্রেণির সেবার মানোন্নয়নে সাত দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিতে বলেছেন বলে জানিয়েছে সভাসূত্র। এ ছাড়া দেশে রেল ইঞ্জিন উৎপাদনের সক্ষমতা আছে কি না, আগে ছিল কি না—তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে রেল মন্ত্রণালয় সময়ানুবর্তিতা, ন্যূনতম মানসম্মত পরিবেশ ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে সভাসূত্র জানিয়েছে।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নির্বিঘ্ন ও হয়রানিমুক্ত রেলযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের বাস্তবায়নযোগ্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন যাত্রার সময় কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুঁজে করতে বলেন এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম নেবেন বলে জানান।

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজীব আহসান মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।