Dhaka শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার পর এখন কিছু অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে : মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শেখ হাসিনার হাত থেকে দেশ পরিত্রাণ পেয়েছে। পাশাপাশি কিছু অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, কিছু ছেলে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলছে। ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম না নিলেও তারা আমার নাম নেয়। আরে ভাই, ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম নাও, প্রশংসা করো।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে হজ এজেন্সি, রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঢাকা ৮ আসনে তারা এমন কিছু করতে চাচ্ছে যাদের সারাদেশের ভোট বন্ধ হয়ে যায়। তবুও আমরা ধৈর্য ধরে আছি, সহ্য করে আছি। কিন্তু ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গবে না। বিএনপি স্বচ্ছ নির্বাচন চায়।

মির্জা আব্বাস বলেন, এই নির্বাচন কেউ দান করেনি। কেউ কেউ বলে ৫ আগস্ট সবকিছু করে ফেলেছে, অথচ ১৭ বছর আমরা কী পরিমাণ ত্যাগ করেছি। শেখ হাসিনা পালানোর পালানোর পর আমাদের যেই রকম ভালো থাকার কথা ছিলো, সেই রকম ভালো আমরা নেই। কোন স্বার্থের জন্য মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পারেনি।

একটা দল ৪০ লাখ বোরকা অর্ডার করেছে উল্লেখ করে এর পেছনে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এ সিনিয়র নেতা।

তিনি বলেন, কিছু ছেলেপেলে আছে হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ, লম্বা লম্বা কথা বলে। ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহর নাম নেয় কি না তার খবর নেই আমার নাম নিয়ে শুরু করে। কাজ নাই মির্জা আব্বাসকে বকা দেওয়া ছাড়া। এলাকার মানুষ আমাকে চেনে, ব্যবসায়ীরা আমাকে চেনে, ঢাকা-৮ ব্যবসায়ী জোন, ওই বিশেষ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ বলতে পারবে না মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পেরেছে। শেখ হাসিনার হাত থেকে যেমন দেশকে রক্ষা করা হয়েছে সেরকম এসব অর্বাচীন বালকদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।

এসময় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, ভোটের পর যদি ১২ ঘন্টার বেশি ফল দিতে দেরি করে, সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। এজন্য ভোটের আগে দরকার হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কেন্দ্র ভিত্তিক ফল ঘোষণার আগে কোন পোলিং এজেন্ট কেন্দ্র ছাড়বে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বোরকা ব্যবহার করে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে। বোরকা আমরা শ্রদ্ধা করি, আমার মা বোরকা পরতেন। কিন্তু বোরকা পরে জাল ভোট দিতে আসলে আমরা সহ্য করব না।

দেশ ও জাতি বর্তমানে একটি অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, ভালো আছি না খারাপ আছি এটা একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। আমার ব্যাখ্যা হলো, হাসিনার সময় আমরা যে অবস্থায় ছিলাম, এখন সে অবস্থায় নেই। এক জায়গায় ভালো আছি পুলিশ এখন আর উপদ্রব করে না। এই একটি দিক ছাড়া অন্য কোনো দিক থেকে আমরা ভালো নেই।

হাসিনা পালিয়ে যাওয়া বা তাড়ানোর কৃতিত্ব দেশের জনগণের বলে উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, হাসিনা-পরবর্তী সময়ে মানুষ যতটা ভালো থাকার আশা করেছিল, বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। এখন ভালো থাকতে হলে আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে জয়যুক্ত করতে হবে।

মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের মানুষ স্বস্তিতে নেই, শান্তিতে নেই; বরং এক ধরনের অস্বস্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বহু যুদ্ধ, রক্ত এবং ত্যাগের বিনিময়ে জনগণ এই নির্বাচন আদায় করেছে। এই নির্বাচন কেউ আমাদের দান করেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যেমন দান করা হয়নি, তেমনি ভোটের অধিকারও দান করা হয়নি।

তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন ২৪ তারিখে সবকিছু হয়ে গেছে। তাহলে প্রশ্ন হলো ১৭ বছর আমরা কী করেছি? এই ১৭ বছরে পাঁচ হাজার কর্মী গুম হয়েছেন, চার হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন, বছরের পর বছর আমরা জেল খেটেছি। আমরা আপনাদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করেছি।

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বয়স মানেই অচল হয়ে যাওয়া নয়। বরং অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য সম্পদ। অভিজ্ঞ মানুষদের কথা কাজে না লাগালে নতুন প্রজন্ম জীবনে কিছু করতে পারবে না এটাই বাস্তবতা।

এলাকায় নিজের দীর্ঘদিনের পরিচিতির কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, এই এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষ, ধনী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীরা তাকে চেনে। এই শহরের কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবে না, কোনো স্বার্থের জন্য আমাকে এক কাপ চা খাওয়াতে পেরেছে।

নির্বাচনী কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নির্বাচন ও ভোট সংগ্রহ। সমাবেশ ও মিছিল সহজ কাজ, কিন্তু ভোট জোগাড় করাই মূল কাজ। এজন্য নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের বোঝানোর আহ্বান জানান তিনি।

ভোটের দিন সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বোরকা ব্যবহার করে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে। বোরকা আমরা শ্রদ্ধা করি, আমার মা বোরকা পরতেন। কিন্তু বোরকা পরে জাল ভোট দিতে আসা আমরা সহ্য করব না।

নির্বাচনের ফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল দিতে তিন দিন লাগবে, এই কথা আমরা মানতে পারি না। আগে সন্ধ্যার মধ্যেই ফল হয়ে যেত। এখন তিন দিন কেন লাগবে, কাকে জেতাতে চান?

তিনি বলেন, ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ফল প্রকাশে দেরি হলে অসৎ উদ্দেশ্য আছে বলে ধরে নিতে হবে। এক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টদের ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো বন্ধ হয়নি বলেও অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনকে কেন্দ্র করে একটি অঘটন ঘটিয়ে নির্বাচন বন্ধ করার চেষ্টা থাকতে পারে। আমি অকথ্য গালাগাল সহ্য করে, মাটি কামড়ে কর্মীদের নিয়ে পড়ে আছি।

পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো ভালো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ এবারও একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সুযোগ পেলে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমস্যার কথা শুনে সেগুলোর সমাধানে কাজ করবেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মানুষের কেড়ে নেওয়া অধিকার ফেরাতে ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে জবাব দিতে হবে : তারেক রহমান

শেখ হাসিনার পর এখন কিছু অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে : মির্জা আব্বাস

প্রকাশের সময় : ০৪:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শেখ হাসিনার হাত থেকে দেশ পরিত্রাণ পেয়েছে। পাশাপাশি কিছু অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, কিছু ছেলে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলছে। ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম না নিলেও তারা আমার নাম নেয়। আরে ভাই, ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম নাও, প্রশংসা করো।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে হজ এজেন্সি, রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঢাকা ৮ আসনে তারা এমন কিছু করতে চাচ্ছে যাদের সারাদেশের ভোট বন্ধ হয়ে যায়। তবুও আমরা ধৈর্য ধরে আছি, সহ্য করে আছি। কিন্তু ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গবে না। বিএনপি স্বচ্ছ নির্বাচন চায়।

মির্জা আব্বাস বলেন, এই নির্বাচন কেউ দান করেনি। কেউ কেউ বলে ৫ আগস্ট সবকিছু করে ফেলেছে, অথচ ১৭ বছর আমরা কী পরিমাণ ত্যাগ করেছি। শেখ হাসিনা পালানোর পালানোর পর আমাদের যেই রকম ভালো থাকার কথা ছিলো, সেই রকম ভালো আমরা নেই। কোন স্বার্থের জন্য মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পারেনি।

একটা দল ৪০ লাখ বোরকা অর্ডার করেছে উল্লেখ করে এর পেছনে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এ সিনিয়র নেতা।

তিনি বলেন, কিছু ছেলেপেলে আছে হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ, লম্বা লম্বা কথা বলে। ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহর নাম নেয় কি না তার খবর নেই আমার নাম নিয়ে শুরু করে। কাজ নাই মির্জা আব্বাসকে বকা দেওয়া ছাড়া। এলাকার মানুষ আমাকে চেনে, ব্যবসায়ীরা আমাকে চেনে, ঢাকা-৮ ব্যবসায়ী জোন, ওই বিশেষ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ বলতে পারবে না মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পেরেছে। শেখ হাসিনার হাত থেকে যেমন দেশকে রক্ষা করা হয়েছে সেরকম এসব অর্বাচীন বালকদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।

এসময় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, ভোটের পর যদি ১২ ঘন্টার বেশি ফল দিতে দেরি করে, সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। এজন্য ভোটের আগে দরকার হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কেন্দ্র ভিত্তিক ফল ঘোষণার আগে কোন পোলিং এজেন্ট কেন্দ্র ছাড়বে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বোরকা ব্যবহার করে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে। বোরকা আমরা শ্রদ্ধা করি, আমার মা বোরকা পরতেন। কিন্তু বোরকা পরে জাল ভোট দিতে আসলে আমরা সহ্য করব না।

দেশ ও জাতি বর্তমানে একটি অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, ভালো আছি না খারাপ আছি এটা একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। আমার ব্যাখ্যা হলো, হাসিনার সময় আমরা যে অবস্থায় ছিলাম, এখন সে অবস্থায় নেই। এক জায়গায় ভালো আছি পুলিশ এখন আর উপদ্রব করে না। এই একটি দিক ছাড়া অন্য কোনো দিক থেকে আমরা ভালো নেই।

হাসিনা পালিয়ে যাওয়া বা তাড়ানোর কৃতিত্ব দেশের জনগণের বলে উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, হাসিনা-পরবর্তী সময়ে মানুষ যতটা ভালো থাকার আশা করেছিল, বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। এখন ভালো থাকতে হলে আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে জয়যুক্ত করতে হবে।

মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের মানুষ স্বস্তিতে নেই, শান্তিতে নেই; বরং এক ধরনের অস্বস্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বহু যুদ্ধ, রক্ত এবং ত্যাগের বিনিময়ে জনগণ এই নির্বাচন আদায় করেছে। এই নির্বাচন কেউ আমাদের দান করেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যেমন দান করা হয়নি, তেমনি ভোটের অধিকারও দান করা হয়নি।

তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন ২৪ তারিখে সবকিছু হয়ে গেছে। তাহলে প্রশ্ন হলো ১৭ বছর আমরা কী করেছি? এই ১৭ বছরে পাঁচ হাজার কর্মী গুম হয়েছেন, চার হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন, বছরের পর বছর আমরা জেল খেটেছি। আমরা আপনাদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করেছি।

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বয়স মানেই অচল হয়ে যাওয়া নয়। বরং অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য সম্পদ। অভিজ্ঞ মানুষদের কথা কাজে না লাগালে নতুন প্রজন্ম জীবনে কিছু করতে পারবে না এটাই বাস্তবতা।

এলাকায় নিজের দীর্ঘদিনের পরিচিতির কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, এই এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষ, ধনী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীরা তাকে চেনে। এই শহরের কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবে না, কোনো স্বার্থের জন্য আমাকে এক কাপ চা খাওয়াতে পেরেছে।

নির্বাচনী কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নির্বাচন ও ভোট সংগ্রহ। সমাবেশ ও মিছিল সহজ কাজ, কিন্তু ভোট জোগাড় করাই মূল কাজ। এজন্য নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের বোঝানোর আহ্বান জানান তিনি।

ভোটের দিন সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বোরকা ব্যবহার করে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে। বোরকা আমরা শ্রদ্ধা করি, আমার মা বোরকা পরতেন। কিন্তু বোরকা পরে জাল ভোট দিতে আসা আমরা সহ্য করব না।

নির্বাচনের ফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল দিতে তিন দিন লাগবে, এই কথা আমরা মানতে পারি না। আগে সন্ধ্যার মধ্যেই ফল হয়ে যেত। এখন তিন দিন কেন লাগবে, কাকে জেতাতে চান?

তিনি বলেন, ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ফল প্রকাশে দেরি হলে অসৎ উদ্দেশ্য আছে বলে ধরে নিতে হবে। এক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টদের ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো বন্ধ হয়নি বলেও অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনকে কেন্দ্র করে একটি অঘটন ঘটিয়ে নির্বাচন বন্ধ করার চেষ্টা থাকতে পারে। আমি অকথ্য গালাগাল সহ্য করে, মাটি কামড়ে কর্মীদের নিয়ে পড়ে আছি।

পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো ভালো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ এবারও একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সুযোগ পেলে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমস্যার কথা শুনে সেগুলোর সমাধানে কাজ করবেন।