Dhaka বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে প্রবর্তন করাসহ আমূল পরিবর্তন করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে প্রবর্তন করাসহ আমূল পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটু অপেক্ষা করুন, নিশ্চয়ই দেখবেন। দায়িত্ব যেহেতু পেয়েছি, ইনশাল্লাহ অনেক চমক রয়েছে। শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যেই। এক শব্দে বলতে গেলে, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। উই আর লিভিং ইন এ গ্লোবাল ভিলেজ। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেসে আনতে হবে। ইটস নো লঙ্গার এ লোকাল কমোডিটি, ইটস অ্যান ইন্টারন্যাশনাল কমোডিটি।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দিলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় এখনো কম। আগে অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে, তারপর বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের ফোর্থ জেনারেশন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে ন্যানোটেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়োটেক এগুলিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার লিংকিংসগুলিকে আমাদের লক্ষ্য দিতে হবে। আমাদের টিভেট (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং)-কে গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। বললাম না, ইটস অ্যান ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি। এটাকে আমাদের ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে আমি বিজয়ী হয়েছি, সবাই আমার। সবার জন্য কাজ করব। এবং বাংলাদেশের সেরা উপজেলা শুধু শিক্ষা নয়, মাদক নির্মূল, দুর্নীতি থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বাংলাদেশের সেরা উপজেলা বানাব, এটাই আমার স্বপ্ন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য ও নিরাপত্তা খাতে গুরুত্ব দেওয়া স্বাভাবিক। তবে ৫৪ বছর পরও যদি শিক্ষা খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না পায়, তাহলে তা হতাশাজনক। আগে ঠিক করতে হবে আমরা কী চাই। অগ্রাধিকার ঠিক না করলে বাজেট বণ্টনেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষাবাজেট কম। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও কম বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় জ্ঞানী না হলেও বোঝা যায়, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

এহছানুল হক মিলন বলেন, অতীতে শিক্ষা খাতকে যথাযথভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। ফলে বাজেটে জিডিপির অনুপাতে বরাদ্দ দুই শতাংশের কাছাকাছি রয়ে গেছে ।এটি পাঁচ বা ছয় শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।

কারিকুলাম নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন হয়েছে এবং তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। যেকোনো পরিবর্তন বাস্তবতা ও প্রয়োজনের আলোকে হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকল-প্রশ্নফাঁস আর ফিরে আসবে না। অতীতে দায়িত্ব পালনকালে নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এবারও কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে।

মিলন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের করতে সমন্বিত সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারিকুলাম পর্যালোচনা করা হবে, ডিজিটাল লিটারেসি ও ইংরেজি দক্ষতায় গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী ন্যানো টেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাকডেটেড’ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এগোনো যাবে না। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা ও আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নে কাজ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, অতীতে কে কী করেছে, তার জবাবদিহি আমরা দেব না। তবে আমার সময়ে দুর্নীতি হয়নি এবং এবারও হবে না। এমপিওভুক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

বেসরকারি শিক্ষকদের কম বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার অবগত আছে। সময় হলে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে উন্নত দেশগুলোর অনুসৃত বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। বিশেষ করে ইতিহাসের বই তৈরিতে একাধিক স্তরের ইতিহাসবিদদের মতামত নিয়ে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কাজ করা হবে। অতীতের ভুল নিয়ে না ভেবে ভবিষ্যতে সঠিকভাবে কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে এবং জবাবদিহির মধ্যেই কাজ করা হবে। আমরা মাত্রই দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এটুকু পরিষ্কার করে বলতে পারি, যে কোনো পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে বিশ্বে উন্নত দেশগুলো যে পদ্ধতি অনুসরণ করে, আমরা সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করব।

ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাধিক পর্যায়ের ইতিহাসবিদদের সম্পৃক্ত করে বই প্রস্তুত করা হবে। অতীতে কী ভুল হয়েছে, তা নিয়ে না পড়ে থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আগামীতে যদি আমরা সঠিকভাবে কাজ করতে না পারি, তাহলে আমরাই আপনাদের কাঠগড়ায় থাকব।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে সবার সম্মিলিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসাসহ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরেই সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা বিশ্বমানের হবে এবং ভবিষ্যতে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও বাংলাদেশে পড়তে আগ্রহী হবে।

এসময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিন্ডিকেট ভেঙে দেবো : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে প্রবর্তন করাসহ আমূল পরিবর্তন করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:২৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে প্রবর্তন করাসহ আমূল পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটু অপেক্ষা করুন, নিশ্চয়ই দেখবেন। দায়িত্ব যেহেতু পেয়েছি, ইনশাল্লাহ অনেক চমক রয়েছে। শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যেই। এক শব্দে বলতে গেলে, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। উই আর লিভিং ইন এ গ্লোবাল ভিলেজ। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেসে আনতে হবে। ইটস নো লঙ্গার এ লোকাল কমোডিটি, ইটস অ্যান ইন্টারন্যাশনাল কমোডিটি।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দিলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় এখনো কম। আগে অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে, তারপর বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের ফোর্থ জেনারেশন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে ন্যানোটেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়োটেক এগুলিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার লিংকিংসগুলিকে আমাদের লক্ষ্য দিতে হবে। আমাদের টিভেট (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং)-কে গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। বললাম না, ইটস অ্যান ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি। এটাকে আমাদের ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে আমি বিজয়ী হয়েছি, সবাই আমার। সবার জন্য কাজ করব। এবং বাংলাদেশের সেরা উপজেলা শুধু শিক্ষা নয়, মাদক নির্মূল, দুর্নীতি থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বাংলাদেশের সেরা উপজেলা বানাব, এটাই আমার স্বপ্ন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য ও নিরাপত্তা খাতে গুরুত্ব দেওয়া স্বাভাবিক। তবে ৫৪ বছর পরও যদি শিক্ষা খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না পায়, তাহলে তা হতাশাজনক। আগে ঠিক করতে হবে আমরা কী চাই। অগ্রাধিকার ঠিক না করলে বাজেট বণ্টনেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষাবাজেট কম। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও কম বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় জ্ঞানী না হলেও বোঝা যায়, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

এহছানুল হক মিলন বলেন, অতীতে শিক্ষা খাতকে যথাযথভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। ফলে বাজেটে জিডিপির অনুপাতে বরাদ্দ দুই শতাংশের কাছাকাছি রয়ে গেছে ।এটি পাঁচ বা ছয় শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।

কারিকুলাম নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন হয়েছে এবং তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। যেকোনো পরিবর্তন বাস্তবতা ও প্রয়োজনের আলোকে হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকল-প্রশ্নফাঁস আর ফিরে আসবে না। অতীতে দায়িত্ব পালনকালে নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এবারও কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে।

মিলন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের করতে সমন্বিত সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারিকুলাম পর্যালোচনা করা হবে, ডিজিটাল লিটারেসি ও ইংরেজি দক্ষতায় গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী ন্যানো টেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাকডেটেড’ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এগোনো যাবে না। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা ও আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নে কাজ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, অতীতে কে কী করেছে, তার জবাবদিহি আমরা দেব না। তবে আমার সময়ে দুর্নীতি হয়নি এবং এবারও হবে না। এমপিওভুক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

বেসরকারি শিক্ষকদের কম বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার অবগত আছে। সময় হলে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে উন্নত দেশগুলোর অনুসৃত বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। বিশেষ করে ইতিহাসের বই তৈরিতে একাধিক স্তরের ইতিহাসবিদদের মতামত নিয়ে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কাজ করা হবে। অতীতের ভুল নিয়ে না ভেবে ভবিষ্যতে সঠিকভাবে কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে এবং জবাবদিহির মধ্যেই কাজ করা হবে। আমরা মাত্রই দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এটুকু পরিষ্কার করে বলতে পারি, যে কোনো পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে বিশ্বে উন্নত দেশগুলো যে পদ্ধতি অনুসরণ করে, আমরা সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করব।

ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাধিক পর্যায়ের ইতিহাসবিদদের সম্পৃক্ত করে বই প্রস্তুত করা হবে। অতীতে কী ভুল হয়েছে, তা নিয়ে না পড়ে থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আগামীতে যদি আমরা সঠিকভাবে কাজ করতে না পারি, তাহলে আমরাই আপনাদের কাঠগড়ায় থাকব।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে সবার সম্মিলিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসাসহ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরেই সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা বিশ্বমানের হবে এবং ভবিষ্যতে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও বাংলাদেশে পড়তে আগ্রহী হবে।

এসময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।