Dhaka বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন : প্রধান উপদেষ্টা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০২ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজ ভূমিতে এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতি আহ্বান জানান। ড. ইউনূস বলেন, সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে ‘নাটকীয়ভাবে অর্থায়ন কমে যাওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে একাধিক উচ্চ পর্যায়ের উদ্যোগ নিলেও রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রমজান মাসে জাতিসংঘের মহাসচিবের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণে সহায়ক হয়েছিল।

তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। এতে এরইমধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে হতাশ ও ক্ষুব্ধ একটি তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যাদের হাতে প্রযুক্তির সহজ প্রবেশাধিকার রয়েছে। এটি কারও জন্যই ভালো বার্তা নয়। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, তাদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত নিশ্চিত করা।

বৈঠকে ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ভাসানচর থেকে অনেক রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে মিশে গেছে, যা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ইভো ফ্রেইজেন জানান, ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত প্রধান বারহাম সালিহ শিগগির বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ২০১৭ সালের পর একাধিকবার ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন পরিচালনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নতুন ও প্রথমবারের ভোটারদের জন্য নির্বাচনি পরিবেশ আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঝিনাইদহে জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০

রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন : প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ১২:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজ ভূমিতে এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতি আহ্বান জানান। ড. ইউনূস বলেন, সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে ‘নাটকীয়ভাবে অর্থায়ন কমে যাওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে একাধিক উচ্চ পর্যায়ের উদ্যোগ নিলেও রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রমজান মাসে জাতিসংঘের মহাসচিবের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণে সহায়ক হয়েছিল।

তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। এতে এরইমধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে হতাশ ও ক্ষুব্ধ একটি তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যাদের হাতে প্রযুক্তির সহজ প্রবেশাধিকার রয়েছে। এটি কারও জন্যই ভালো বার্তা নয়। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, তাদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত নিশ্চিত করা।

বৈঠকে ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ভাসানচর থেকে অনেক রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে মিশে গেছে, যা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ইভো ফ্রেইজেন জানান, ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত প্রধান বারহাম সালিহ শিগগির বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ২০১৭ সালের পর একাধিকবার ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন পরিচালনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নতুন ও প্রথমবারের ভোটারদের জন্য নির্বাচনি পরিবেশ আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।