Dhaka সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ‘ডাকাত সন্দেহে’ গণপিটুনিতে নিহত ১

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : 

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ডাকাত সন্দেহে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন। উত্তেজিত জনতা তাদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানেও আগুন ধরিয়ে দেয়।

সোমবার (২ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার পলাশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাহীন (৫৫)। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

আহতরা হলেন- রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার চকপলাশী গ্রামের মো. লালুর ছেলে শামীম (৩৫), ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরানী গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে মো. শফিকুল (৪৫), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ইমাদপুর গ্রামের মো. জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকা জেলার ধামরাই থানার নানজেগুড়ি গ্রামের মাহির ছেলে খরজাহান (৩৫), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার বামালের চর গ্রামের মো. সাত্তার শেখের ছেলে সেলিম শেখ (৩০), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার কুটিবয়রা গ্রামের মামুন (৪২), জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রুপচান (৩০)। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে একটি মিনি ট্রাকযোগে ৮ জন ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং মিনি ট্রাকটিতে অগ্নিসংযোগ করে।

খবর পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশ এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করেন। এ

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আটজনের মধ্যে একজনকে তারা মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। অন্য সাতজনকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিহত ও আহত ব্যক্তিরা ডাকাতি করতে গিয়েছিল। ডাকাতির প্রস্তুতির সময় গ্রামবাসী তাদের ধরে ফেলেন। এরপর তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ আটজনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি জানান, রামেক হাসপাতালের মর্গে নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত হবে। এরপর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। এরপর মামলা দায়ের হবে। তারা কি করতে ওই গ্রামে গিয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন থানায় মামলা আছে কি না তা দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বরগুনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ পরিবারকে ৪৬ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর 

রাজশাহীতে ‘ডাকাত সন্দেহে’ গণপিটুনিতে নিহত ১

প্রকাশের সময় : ০২:৪৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : 

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ডাকাত সন্দেহে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন। উত্তেজিত জনতা তাদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানেও আগুন ধরিয়ে দেয়।

সোমবার (২ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার পলাশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাহীন (৫৫)। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

আহতরা হলেন- রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার চকপলাশী গ্রামের মো. লালুর ছেলে শামীম (৩৫), ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরানী গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে মো. শফিকুল (৪৫), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ইমাদপুর গ্রামের মো. জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকা জেলার ধামরাই থানার নানজেগুড়ি গ্রামের মাহির ছেলে খরজাহান (৩৫), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার বামালের চর গ্রামের মো. সাত্তার শেখের ছেলে সেলিম শেখ (৩০), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার কুটিবয়রা গ্রামের মামুন (৪২), জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রুপচান (৩০)। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে একটি মিনি ট্রাকযোগে ৮ জন ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং মিনি ট্রাকটিতে অগ্নিসংযোগ করে।

খবর পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশ এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করেন। এ

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আটজনের মধ্যে একজনকে তারা মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। অন্য সাতজনকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিহত ও আহত ব্যক্তিরা ডাকাতি করতে গিয়েছিল। ডাকাতির প্রস্তুতির সময় গ্রামবাসী তাদের ধরে ফেলেন। এরপর তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ আটজনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি জানান, রামেক হাসপাতালের মর্গে নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত হবে। এরপর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। এরপর মামলা দায়ের হবে। তারা কি করতে ওই গ্রামে গিয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন থানায় মামলা আছে কি না তা দেখা হচ্ছে।