নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীতে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে একযোগে এই অভিযান শুরু হয়।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক বিভাগের আটটি জোন একযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালাচ্ছে।
জোনগুলো হলো, রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, উত্তরা ও গুলশান। অভিযানের আওতায় রয়েছে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা খাবারের দোকান, যানবাহন মেরামতের ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
ডিএমপি জানিয়েছে, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
এর অংশ হিসেবে মগবাজার মোড় থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ।
তিনি জানান, জনদুর্ভোগ কমানো এবং পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপের বর্ধিতাংশ উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, মগবাজার থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে থাকা দোকানের অংশ, সড়কে রাখা মোটরসাইকেল এবং অবৈধভাবে বসানো দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পুরান ঢাকার ধোলাইখাল এলাকায় সড়ক দখলমুক্ত রাখতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানস্থলে উপস্থিত ডিএমপির এডিশনাল কমিশনার আনিসুর রহিমান বলেন, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো পুরান ঢাকাতেও এই অভিযান চলমান রয়েছে। সড়কে অবৈধভাবে কোনো মালামাল রাখতে দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর ফার্মগেট ও ইন্দিরা রোড এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল ফয়সাল। অভিযান শেষে তিনি বলেন, জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ব্যবসায়ীদের সরতে অনুরোধ করা হয়েছে, কিন্তু আবারও ফুটপাত দখল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, এখানকার ফুটপাতে যাদের দোকান রয়েছে, সেসবের সাথে ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগার জড়িত। আমরা আজকের অভিযানে তাদের বুঝিয়েছি, আপনারা এখান থেকে চলে যান। আগামীতে এই অভিযান চলমান থাকবে এবং প্রতিনিয়তই কেউ না কেউ তদারকিতে থাকবে। দ্বিতীয়বারের মতো কেউ যদি এখানে দোকান দিয়ে বসে, তাহলে আমরা একশনে যাবো, জরিমানা করবো ও মালামাল জব্দ করবো।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মোটিভ তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া। যারা এক্সটেনশন করেছে, আমরা সেগুলো উচ্ছেদ করেছি। কিন্তু কেউ যদি আবার এক্সটেনশন করে, আমরা সেক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেব।
ধোলাইখাল তিন রাস্তার মোড় থেকে এই অভিযান শুরু করে ডিএমপির লালবাগ জোন। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিএমপির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান।
ধোলাইখাল মোড়ে এসে দেখা যায়, বিভিন্ন মোটর গ্যারেজের সামনে ত্রিপল টানিয়ে রাখা হয়েছে। ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সামগ্রী। ফুটপাতের উপরেও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে এসব খুলে রাখার চেষ্টা করেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। তবে ম্যাজিস্ট্রেট সেসব সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং দ্রুত ফুটপাত পরিষ্কার করতে বলেন। এছাড়া একটি গাড়ি রাস্তায় রেখে ঠিক করার অপরাধে সেই গাড়িটিকে ডাম্পিং করার নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত জিনিসপত্র জব্দ করার নির্দেশও দেন তিনি।
এসময় লালবাগ ডিসি ট্রাফিক মফিজুল ইসলামসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত আছেন।
এর আগে গত ২৩ মার্চ ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়, অনেক রেস্টুরেন্ট ও দোকান তাদের ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ফুটপাতে রেখে পথচারীদের মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবসায়ীদের নিজ উদ্যোগে অবৈধ মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যারা এই নির্দেশ অমান্য করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই আজ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে ডিএমপি। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শিগগিরই ‘হলিডে মার্কেট’ ও ‘নাইট মার্কেট’ চালুর প্রস্তুতি চলছে। এর ফলে হকাররা যেমন নির্দিষ্ট সময়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন, তেমনি সাধারণ মানুষও নির্বিঘ্নে ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























