Dhaka শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোটরযানের সংখ্যা ৫৭ লাখ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ৫৯ লাখ : সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশে নিবন্ধিত মোটরযান থেকে ইস্যুকৃত ড্রাইভিং লাইসেন্স বেশি মানুষের রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ১৯৭ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর সংখ্যা ৫৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৩টি।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে সংসদে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশে অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালকের সংখ্যা ২৪ লাখ, তথ্যটি বস্তুনিষ্ট নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৫৭,৫২,১৯৭ (সাতান্ন লাখ বায়ান্ন হাজার একশত সাতানব্বই) এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স (মোটরযানের শ্রেণি অনুযায়ী) ইস্যুর সংখ্যা ৫৯,৪৬,৫২৩ (ঊনষাট লাখ ছেচল্লিশ হাজার পাঁচশত তেইশ)। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে দক্ষ ও মানবিক গুণসম্পন্ন গাড়িচালক তৈরির লক্ষ্যে বিআরটিএ কর্তৃক পেশাজীবী গাড়িচালকদের নিয়মিতভাবে রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পেশাজীবী গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নকালে ড্রাইভার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। ২০০৮ সাল থেকে জুলাই/২০২৩ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮,১৫,১৪২ জন পেশাজীবী গাড়িচালককে সড়ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক আইন ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ বছরে জুলাই/২০২৩ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৬,১৯৬ জন গাড়িচালককে রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রগ্রাম (এসইআইপি)’ প্রকল্পের আওতায় এক লাখ অভিজ্ঞ পেশাদার ড্রাইভার তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন চালক তৈরির বিভিন্ন প্রকল্প এবং কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আওতায় এসইআইপি প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ চালক তৈরির লক্ষ্যে একটি কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় বিআরটিসির মাধ্যমে ৫ বছরে ৪০৭০ জনকে দক্ষ চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিআরটিসির মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ১২৯৩৯ জন ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭০৪৩ জনসহ মোট ১৯,৯৮২ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে এবং তৃতীয় পর্যায়ে ১৪৯৬৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। মোটরযান চালক তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান প্রকল্পের মাধ্যমে ০২ বছরে ১৪,১০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষ চালক তৈরির পরিকল্পা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬০,০০০ যুবক-যুব মহিলাদের হালকা ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গৃহীত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন দক্ষ চালক তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ীর প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, জনপথ অধিদপ্তরের মোট সড়কের সংখ্যা ৯৯২ টি। এর মোট দৈর্ঘ্য ২২ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৩৫ কি.মি।

এম আব্দুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, এনডিসি অনুযায়ী পরিবহন খাত হতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ শর্তহীনভাবে হ্রাস করার অঙ্গীকার করেছে। এ লক্ষ্যে ওই সময়ের মধ্যে সড়ক পরিবহন খাতে ব্যবহৃত যানবাহনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ মোটরযান ইলেকট্রিক ক্যাটাগরিতে রূপান্তর করা প্রয়োজন।

বৈদ্যুতিক যান প্রচলন ও পরিচালনার সঙ্গে বিদ্যুৎ খাত সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশও বৈদ্যুতিক যানের ব্যবহার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে ডিজেল চালিত বাস দিয়ে বিআরটি অপারেশন শুরু হলেও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সর্বাধিক বিদ্যুৎ চালিত বাসের সংগ্রহের মাধ্যমে বিআরটি পরিচালনা করা হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মোটরযানের সংখ্যা ৫৭ লাখ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ৫৯ লাখ : সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১০:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশে নিবন্ধিত মোটরযান থেকে ইস্যুকৃত ড্রাইভিং লাইসেন্স বেশি মানুষের রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ১৯৭ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর সংখ্যা ৫৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৩টি।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে সংসদে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশে অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালকের সংখ্যা ২৪ লাখ, তথ্যটি বস্তুনিষ্ট নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৫৭,৫২,১৯৭ (সাতান্ন লাখ বায়ান্ন হাজার একশত সাতানব্বই) এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স (মোটরযানের শ্রেণি অনুযায়ী) ইস্যুর সংখ্যা ৫৯,৪৬,৫২৩ (ঊনষাট লাখ ছেচল্লিশ হাজার পাঁচশত তেইশ)। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে দক্ষ ও মানবিক গুণসম্পন্ন গাড়িচালক তৈরির লক্ষ্যে বিআরটিএ কর্তৃক পেশাজীবী গাড়িচালকদের নিয়মিতভাবে রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পেশাজীবী গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নকালে ড্রাইভার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। ২০০৮ সাল থেকে জুলাই/২০২৩ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮,১৫,১৪২ জন পেশাজীবী গাড়িচালককে সড়ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক আইন ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ বছরে জুলাই/২০২৩ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৬,১৯৬ জন গাড়িচালককে রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রগ্রাম (এসইআইপি)’ প্রকল্পের আওতায় এক লাখ অভিজ্ঞ পেশাদার ড্রাইভার তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন চালক তৈরির বিভিন্ন প্রকল্প এবং কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আওতায় এসইআইপি প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ চালক তৈরির লক্ষ্যে একটি কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় বিআরটিসির মাধ্যমে ৫ বছরে ৪০৭০ জনকে দক্ষ চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিআরটিসির মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ১২৯৩৯ জন ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭০৪৩ জনসহ মোট ১৯,৯৮২ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে এবং তৃতীয় পর্যায়ে ১৪৯৬৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। মোটরযান চালক তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান প্রকল্পের মাধ্যমে ০২ বছরে ১৪,১০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষ চালক তৈরির পরিকল্পা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬০,০০০ যুবক-যুব মহিলাদের হালকা ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গৃহীত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন দক্ষ চালক তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ীর প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, জনপথ অধিদপ্তরের মোট সড়কের সংখ্যা ৯৯২ টি। এর মোট দৈর্ঘ্য ২২ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৩৫ কি.মি।

এম আব্দুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, এনডিসি অনুযায়ী পরিবহন খাত হতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ শর্তহীনভাবে হ্রাস করার অঙ্গীকার করেছে। এ লক্ষ্যে ওই সময়ের মধ্যে সড়ক পরিবহন খাতে ব্যবহৃত যানবাহনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ মোটরযান ইলেকট্রিক ক্যাটাগরিতে রূপান্তর করা প্রয়োজন।

বৈদ্যুতিক যান প্রচলন ও পরিচালনার সঙ্গে বিদ্যুৎ খাত সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশও বৈদ্যুতিক যানের ব্যবহার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে ডিজেল চালিত বাস দিয়ে বিআরটি অপারেশন শুরু হলেও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সর্বাধিক বিদ্যুৎ চালিত বাসের সংগ্রহের মাধ্যমে বিআরটি পরিচালনা করা হবে।