Dhaka সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুন্সীগঞ্জে-৩ : স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

মুন্সীগঞ্জে-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় ইসি কার্যালয়ে আপিল শুনানি শেষে রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে আর কোনো বাধা রইল না বিএনপির এই নেতার। এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ৯ জন নির্বাচনের মাঠে থাকতে মনোনয়ন জমা দেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ে মো. মহিউদ্দিনসহ চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দন। সে হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলেন। পরবর্তীতে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা প্রয়োজনীয় তথ্য অসঙ্গতি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।

এ ছাড়াও মো.মহিউদ্দিন একটি ঋনের জামিনদার হওয়ায় সেটি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি অভিযোগও করা হয়।

মনোনয়ন বাতিল ঘোষণার পর পরবর্তীতে মো. মহিউদ্দিন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন। শনিবার আপিলের শুনানি শেষে রোববার রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। মনোনয়ন বৈধতা পাওয়ার মহিউদ্দিনের সমর্কদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

শহর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহিন মিয়া বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে মহিউদ্দিনের পরিবার জেলায় বিএনপিকে সুসংগঠিত রেখেছে। মহিউদ্দিনের বড় ভাই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তাঁরা। আবদুল হাই অসুস্থ হওয়ার পর মহিউদ্দিন তাঁর ভাইয়ের মতো দলের সব কার্যকর্মে নেতৃত্ব দিয়ে চালিয়ে নিয়ে গেছেন। যে কোনো বিপদে-আপদে তাকে পাশে পেয়েছেন দলীয় লোকজন। তাই মহিউদ্দিন যে প্রতীকে নির্বাচন করবেন, সে প্রতীকের পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান তিনি ও তার সমর্থকরা।

মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকে বিএনপির সঙ্গে আছি। আমিসহ আমাদের পুরো পরিবার আজীবন দলের জন্য করেছি। দল করতে গিয়ে কতশতবার হামলা, মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। এর পরেও দল ছাড়িনি, দলের নেতা-কর্মীদের ছাড়িনি। এ আসনের জনগণ আমাকে চায়, নেতা-কর্মীরাও আমাকে চান। সবার চাওয়ার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দল একজনকে মনোনয়ন দিলেও চূড়ান্ত মনোনয়ন আমাকে দেওয়ার কথা রয়েছে। আমি এখনো আশা করি আমাদের চেয়ারম্যান আমাকে মনোনয়ন দিবেন। শেষ পর্যন্ত যদি দল থেকে মনোনয়ন না হয়, সে ক্ষেত্রে জনগণ ও আমার আসনের নেতা-কর্মীরা যে সিদ্ধান্ত নিবে আমি সেটাই করব।’

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মুন্সীগঞ্জে-৩ : স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ

মুন্সীগঞ্জে-৩ : স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ

প্রকাশের সময় : ০৯:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

মুন্সীগঞ্জে-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় ইসি কার্যালয়ে আপিল শুনানি শেষে রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে আর কোনো বাধা রইল না বিএনপির এই নেতার। এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ৯ জন নির্বাচনের মাঠে থাকতে মনোনয়ন জমা দেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ে মো. মহিউদ্দিনসহ চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দন। সে হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলেন। পরবর্তীতে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা প্রয়োজনীয় তথ্য অসঙ্গতি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।

এ ছাড়াও মো.মহিউদ্দিন একটি ঋনের জামিনদার হওয়ায় সেটি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি অভিযোগও করা হয়।

মনোনয়ন বাতিল ঘোষণার পর পরবর্তীতে মো. মহিউদ্দিন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন। শনিবার আপিলের শুনানি শেষে রোববার রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। মনোনয়ন বৈধতা পাওয়ার মহিউদ্দিনের সমর্কদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

শহর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহিন মিয়া বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে মহিউদ্দিনের পরিবার জেলায় বিএনপিকে সুসংগঠিত রেখেছে। মহিউদ্দিনের বড় ভাই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তাঁরা। আবদুল হাই অসুস্থ হওয়ার পর মহিউদ্দিন তাঁর ভাইয়ের মতো দলের সব কার্যকর্মে নেতৃত্ব দিয়ে চালিয়ে নিয়ে গেছেন। যে কোনো বিপদে-আপদে তাকে পাশে পেয়েছেন দলীয় লোকজন। তাই মহিউদ্দিন যে প্রতীকে নির্বাচন করবেন, সে প্রতীকের পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান তিনি ও তার সমর্থকরা।

মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকে বিএনপির সঙ্গে আছি। আমিসহ আমাদের পুরো পরিবার আজীবন দলের জন্য করেছি। দল করতে গিয়ে কতশতবার হামলা, মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। এর পরেও দল ছাড়িনি, দলের নেতা-কর্মীদের ছাড়িনি। এ আসনের জনগণ আমাকে চায়, নেতা-কর্মীরাও আমাকে চান। সবার চাওয়ার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দল একজনকে মনোনয়ন দিলেও চূড়ান্ত মনোনয়ন আমাকে দেওয়ার কথা রয়েছে। আমি এখনো আশা করি আমাদের চেয়ারম্যান আমাকে মনোনয়ন দিবেন। শেষ পর্যন্ত যদি দল থেকে মনোনয়ন না হয়, সে ক্ষেত্রে জনগণ ও আমার আসনের নেতা-কর্মীরা যে সিদ্ধান্ত নিবে আমি সেটাই করব।’