সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যে মানুষগুলো গত ১৬/১৭ বছর যাবত প্রতিবাদ করেছে। তাদের প্রতিবাদ ছিলো কি? অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তাদের প্রতিবাদ ছিলো বাংলাদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে। এই অধিকারকে যদি ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে ১২ তারিখে আপনাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে। ১২ তারিখে যদি আপনারা জবাব দিতে পারেন ধানের শীষে সিল মারার মাধ্যমে তাহলে সেই স্বৈরাচাররা যারা আপনার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তারা আপনাদের জবাব পাবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়ায় বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা সবসময় বিএনপি করি যারা আমরা বিশ্বাস করি। আমরা সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে শাস্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে সে বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের কাছে ধর্মটা মুক্ত নয়। আমাদের কাছে জাত-পাত মূখ্য নয়। আমাদের কাছে মূখ্য হচ্ছে সেই বাংলাদেশের মানুষ। কাজেই মানুষকে মানুষ হিসাবে আমরা মূল্যায়ন করতে চাই। মানুষকে মানুষের মূল্যায়ন করতে হবে।এবং সেই জন্যই প্রিয় ভাই বোনেরা আমরা যদি দেশে জনগণ শাসন কায়েম করতে পারি, আমরা যদি দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি,আমরা যদি দেশে জনগণের কাছে জনমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলেই আমরা সম্ভব দেশ এবং জনগণের প্রকৃত যে সমস্যাগুলো আছে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা।

তিনি বলেন, বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা জানে কীভাবে দেশকে সামনের দিকে পরিচালিত করতে হয়। বিএনপি ছাড়া দেশে বর্তমানে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আর কোনো রাজনৈতিক দল নেই। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে, যার অভিজ্ঞতা আছে। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে, যাকে ভরসা করা যায়। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে যে মানুষকে বিপদের সময় ফেলে যায়নি। এইসব গুণ বিএনপির ভেতরেই আছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদেরকে অনেকেই এসে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারাই এসে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, বলবেন গুপ্ত তোমরা। কারণ, তাদেরকে গত ১৬ বছর আমরা দেখি নাই। যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গেছে, এরা তাদের সঙ্গে মিশে ছিল।
তিনি বলেন, মানুষ এখন জানতে চায়, বাংলাদেশের মানুষ এখন দেখতে চায় যে কোন রাজনৈতিক দল এখন কোন পরিকল্পনা করবে দেশ ও জনগণের জন্য। যাতে এই দেশ আগামীতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে দলের অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পরিচালনা করতে হয়। বিএনপি ছাড়া এই বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে- অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এ রকম কোনো রাজনৈতিক দল নেই।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশ আমাদের অনেক দিয়েছে। ১৯৭১ সালে লাখো শহীদ জীবন দিয়েছে দেশকে স্বাধীন করার জন্য। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বহু মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য। এখন আমাদের সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হবে। আজ এই লাখ লাখ মানুষের সামনে আমি হয়তো দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম, আপনারা হয়তো হাততালি দিতেন। তাতে কোনো লাভ হতো না।
তিনি বলেন, মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে যার অভিজ্ঞতা আছে। মানুষ তার ওপরে ভরসা করে যার ওপরে ভরসা করা যেতে পারে, যে মানুষকে বিপদের সময় ফেলে রেখে চলে যায়নি। এসব গুণ বিএনপির মধ্যে আছে। যদি দেশের ২০ কোটি মানুষকে একসাথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, তাহলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, একটি গোষ্ঠী আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা এসে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, দেখামাত্র তাদের বলবেন ‘গুপ্ত তোমরা’। যারা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়াবে তাদের একটি নাম- তারা গুপ্ত। কারণ গত ১৬ বছর তাদেরকে আমরা দেখি নাই। তারা তাদের সাথেই মিশে ছিল, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গেছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিগত ১৬ বছর যারা তলে তলে স্বৈরাচারের সঙ্গে মিশে ছিল, সেই ‘গুপ্ত’ ষড়যন্ত্রকারী চক্র থেকে দেশবাসীকে সজাগ থাকাতে হবে। যারা দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তারা এখন ভিন্ন বেশে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এদের রুখে দিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
তিনি বলেন, আপনাদেরকে অনেকেই এসে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়াবে তাদের একটাই নাম, তারা হচ্ছে ‘গুপ্ত’। কারণ, তাদের গত ১৬ বছর আমরা রাজপথে দেখি নাই। তারা তলে তলে তাদের সঙ্গে মিশে ছিল, যারা ৫ আগস্ট পালিয়ে গিয়েছে। এই চক্রটি যেন আমাদের ভাই-বোনদের আত্মত্যাগের অধিকার স্তব্ধ করতে না পারে, সে জন্য আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।”
সিরাজগঞ্জবাসীর উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আমরা যদি তাঁত বা লুঙ্গির কথা বলি, তাহলে চোখের সামনে ভেসে উঠে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার এলাকা। এই এলাকার মানুষ তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত। ক্ষমতায় গেলে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের উৎপাদিত পণ্য সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারবো।

তারেক রহমান বলেন, আজকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ এখানে বহু কাজ করার আছে। অনেক কাজ করার আছে সেই কাজগুলো করলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, যেই কাজগুলো করলে এলাকার উন্নয়ন হবে। আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি ,আমাদের নেতাকর্মীরাসহ বাংলাদেশের মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখন আমাদেরকে দেশ গড়তে হবে, সকলকে আমাদের একসাথে এখন কাজ করতে হবে, দেশ গঠন করতে হবে। আছেন নাকি আপনারা দেশ গঠন? আমাদের সঙ্গে আছেন দেশ গঠনে? আলহামদুলিল্লাহ।
সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ সারাদেশে নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন করার মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান, এই অঞ্চলে কৃষি নির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে, তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবন করে তাঁত শিল্পের পণ্যসামগ্রির আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি, এই অঞ্চলে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
এসময় তিনি ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানো মেরি এবং গত দেড় দশকে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর ত্যাগের কথা তুলে ধরেন।
জনসভায় তারেক রহমান বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গজুড়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই আছে। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি এবং সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে দেশ গড়তে চাই। আসুন সবাই মিলে শপথ নিই: করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
সমাবেশে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার প্রার্থী যথাক্রমে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এম আকবর আলী, এম এ মুহিত, আইনুল হক, সেলিম রেজা , হাবিবুর রহমান হাবিব, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাসান জাফির তুহিন, সেলিম রেজা হাবিব ও ভিপি সামসুল ইসলামকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদেরকে ধানের শীষের ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জেলা সভাপতি রুমানা মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
উত্তরাঞ্চলে প্রচারাভিযানের দুইদিনে তারেক রহমান রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুরে চারটি নির্বাচনী সমাবেশ করেন তারেক রহমান। শেষ দিনে সিরাজগঞ্জের সমাবেশ শেষ করলেন। এখন যাবেন টাঙ্গাইল নির্বাচনী সমাবেশে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 





















