Dhaka মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রীপরিষদে জায়গা পাননি বিএনপির যে জ্যেষ্ঠ নেতারা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়েছে। এতে জায়গা হয়েছে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত অনেকেরই। তবে নতুন মন্ত্রীপরিষদে জায়গা পাননি বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রিসভায় ডাক না পাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমানউল্লাহ আমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ফজলুর রহমান। এছাড়া জ্যেষ্ঠ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ওসমান ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও লুৎফুজ্জামান বাবরও মন্ত্রিত্ব পাননি। তারা প্রত্যেকেই আলোচনায় ছিলেন।
নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী ছাড়া তালিকাভুক্ত অন্য নেতারা এর আগে বিএনপি সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ওসমান ফারুক রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় আছেন। আবার এদের মধ্য থেকে যে কেউ জাতীয় সংসদের স্পিকার হতে পারেন বলেও গুঞ্জন আছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি বলেন বাদপড়া সিনিয়রদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত পরবর্তীতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকবেন।

স্থায়ী কমিটির একজন বলেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ম্যাডামের সব কেবিনেটে ছিলেন। তারা প্রত্যাশিত ছিলেন। তবে নিশ্চয়ই চেয়ারম্যানের ভিন্ন পরিকল্পনা থাকতে পারে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান বলেন, মন্ত্রীপরিষদে স্থান পাওয়ার বিষয়টি দেখছেন দলের চেয়ারম্যান। এটা নিয়ে আমার মন্তব্য না করা ভালো।’

বিএনপির একজন বলেন, নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সংক্রান্ত কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে মীর নাছির, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলুর নাম আলোচনায় থাকলেও তারেক রহমানের মন্ত্রীসভায় তারা নেই।

নতুন মন্ত্রিসভায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ দায়িত্ব পেয়েছেন।
তবে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হওয়াদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রধান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বা ধর্মভিত্তিক দলগুলোর কোনও নেতার জায়গা হয়নি মন্ত্রিসভায়।

বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকারকে অভিনন্দন জানাই। আশা করি তারা একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী বাংলাদেশকে তারা নেতৃত্ব দেবে। তাদের সাফল্য কামনা করি।

মন্ত্রীসভা নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় সাইফুল হক বলেন, প্রথমত এটি পুরোটাই বিএনপির সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের দুই তিনজন থাকছেন। বিএনপি বাস্তবে যুগপৎসঙ্গীদেরকে বাদ দিয়েই, এক ধরনের খারিজ করে হাঁটছে। একলা চলোর নীতির দিকে যাচ্ছে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখা গেলো নতুন মন্ত্রিসভায়।

আক্ষেপ ঝরিয়ে সাইফুল হক আরও বলেন, নতুন মন্ত্রীসভায় অনেকে সিনিয়র নেতারা জায়গা পাননি। তাদের ক্ষেত্রে হতে পারে পরবর্তীতে আরও কোনও দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। তাদের কঠিন, র্দুদিনের সময়ে যারা ছিল, সেই সঙ্গেীদের বাদ দিয়ে তারা সরকার করলো। এর তাৎপর্য বা অভিঘাত আরও কিছুদিন পর বুঝা যাবে।

এই মন্ত্রিসভার বড় চমক খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা দেওয়া এবং প্রস্তাবিত রোহিঙ্গা কোরিডোর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিএনপির অনেকে তার অপসারণও চেয়েছিলেন।

খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কোনো কোনো নেতা। পররাষ্ট্র ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা খলিল এমপি না হলেও দায়িত্ব পালন করবেন টেকনোক্র্যাট হিসেবে। তিনি পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব।

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তারেক রহমান তার নিজের রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে থেকে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রী করবেন। এ নিয়ে মতামতের কিছু নেই। মর্নিং শ্যোজ দ্য ডে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠিতে যা লিখলেন মোদি

মন্ত্রীপরিষদে জায়গা পাননি বিএনপির যে জ্যেষ্ঠ নেতারা

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়েছে। এতে জায়গা হয়েছে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত অনেকেরই। তবে নতুন মন্ত্রীপরিষদে জায়গা পাননি বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রিসভায় ডাক না পাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমানউল্লাহ আমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ফজলুর রহমান। এছাড়া জ্যেষ্ঠ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ওসমান ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও লুৎফুজ্জামান বাবরও মন্ত্রিত্ব পাননি। তারা প্রত্যেকেই আলোচনায় ছিলেন।
নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী ছাড়া তালিকাভুক্ত অন্য নেতারা এর আগে বিএনপি সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ওসমান ফারুক রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় আছেন। আবার এদের মধ্য থেকে যে কেউ জাতীয় সংসদের স্পিকার হতে পারেন বলেও গুঞ্জন আছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি বলেন বাদপড়া সিনিয়রদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত পরবর্তীতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকবেন।

স্থায়ী কমিটির একজন বলেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ম্যাডামের সব কেবিনেটে ছিলেন। তারা প্রত্যাশিত ছিলেন। তবে নিশ্চয়ই চেয়ারম্যানের ভিন্ন পরিকল্পনা থাকতে পারে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান বলেন, মন্ত্রীপরিষদে স্থান পাওয়ার বিষয়টি দেখছেন দলের চেয়ারম্যান। এটা নিয়ে আমার মন্তব্য না করা ভালো।’

বিএনপির একজন বলেন, নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সংক্রান্ত কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে মীর নাছির, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলুর নাম আলোচনায় থাকলেও তারেক রহমানের মন্ত্রীসভায় তারা নেই।

নতুন মন্ত্রিসভায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ দায়িত্ব পেয়েছেন।
তবে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হওয়াদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রধান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বা ধর্মভিত্তিক দলগুলোর কোনও নেতার জায়গা হয়নি মন্ত্রিসভায়।

বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকারকে অভিনন্দন জানাই। আশা করি তারা একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী বাংলাদেশকে তারা নেতৃত্ব দেবে। তাদের সাফল্য কামনা করি।

মন্ত্রীসভা নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় সাইফুল হক বলেন, প্রথমত এটি পুরোটাই বিএনপির সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের দুই তিনজন থাকছেন। বিএনপি বাস্তবে যুগপৎসঙ্গীদেরকে বাদ দিয়েই, এক ধরনের খারিজ করে হাঁটছে। একলা চলোর নীতির দিকে যাচ্ছে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখা গেলো নতুন মন্ত্রিসভায়।

আক্ষেপ ঝরিয়ে সাইফুল হক আরও বলেন, নতুন মন্ত্রীসভায় অনেকে সিনিয়র নেতারা জায়গা পাননি। তাদের ক্ষেত্রে হতে পারে পরবর্তীতে আরও কোনও দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। তাদের কঠিন, র্দুদিনের সময়ে যারা ছিল, সেই সঙ্গেীদের বাদ দিয়ে তারা সরকার করলো। এর তাৎপর্য বা অভিঘাত আরও কিছুদিন পর বুঝা যাবে।

এই মন্ত্রিসভার বড় চমক খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা দেওয়া এবং প্রস্তাবিত রোহিঙ্গা কোরিডোর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিএনপির অনেকে তার অপসারণও চেয়েছিলেন।

খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কোনো কোনো নেতা। পররাষ্ট্র ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা খলিল এমপি না হলেও দায়িত্ব পালন করবেন টেকনোক্র্যাট হিসেবে। তিনি পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব।

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তারেক রহমান তার নিজের রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে থেকে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রী করবেন। এ নিয়ে মতামতের কিছু নেই। মর্নিং শ্যোজ দ্য ডে।