স্পোর্টস ডেস্ক :
শুরুতেই গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের ভুলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই রক্ষণভাগের দুর্বলতায় আরও দুই গোল হজম করতে হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হতেই তিন গোলের ভারী ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে দলটি। তবে বিরতির পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও আর গোল শোধ করা সম্ভব হয়নি। স্বস্তির বিষয়, দ্বিতীয়ার্ধে অন্তত আর কোনো গোল হজম করেনি তারা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভিয়েতনামের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। ভিয়েতনামের হয়ে একটি করে গোল করেন ফ্যাম জুয়ান মান ও হাই লং এনগুয়েন, আর একটি গোল আসে বাংলাদেশের আত্মঘাতী ভুলে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১০৩ নম্বরে অবস্থান করা ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না বাংলাদেশের জন্য। দলের সেরা একাদশের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রাখা হয়, তার সঙ্গে ছিল ইনজুরির দুশ্চিন্তা। ফলে শুরু থেকেই কিছুটা ব্যাকফুটে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ সময়ের চোট কাটিয়ে ফেরা দলের প্রধান ভরসা হামজা চৌধুরীও ছিলেন না সেরা ছন্দে। সব মিলিয়ে কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখিই হতে হয় সফরকারী বাংলাদেশকে।
হামজা চৌধুরী, শোমিত সোম, ফাহামিদুল, তারিক ও জায়ান- পাঁচ প্রবাসীকে রেখে সেরা একাদশ সাজান কাবরেরা। পোস্টে নিয়মিত গোলরক্ষক মিতুল মারমার বদলে দায়িত্ব দেন মেহেদী হাসান শ্রাবণের কাঁধে। জামাল ভূঁইয়ার জায়গা বেঞ্চে হওয়ায় অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ওঠে সোহেল রানা সিনিয়রের বাহুতে।
পঞ্চম মিনিটে তারিক ভুল পাসে প্রতিপক্ষের পায়ে বল তুলে দিয়েছিলেন। তবে রক্ষণের দৃঢ়তায় এ যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। তিন মিনিট পরই পিছিয়ে পড়ে দল। কর্নার ক্লিয়ার করতে বেরিয়ে লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি শ্রাবণ। ফাম তুয়ান হাই শট নেওয়ার পর বল জায়ান আহমেদের পায়ে লেগে জালে জড়ায়।
ষোড়শ মিনিটে অনেকটা লাফিয়ে আঙুলের টোকায় কর্নার করে দেন শ্রাবণ। একটু পর এনগুয়ান হোয়াং ডাকের বক্সের একটু উপর থেকে নেওয়া বুলেট গতির ভলি দারুণ ক্ষিপ্রতায় আটকান তিনি। তবে অষ্টাদশ মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় ভিয়েতনাম। সতীর্থের ফ্রি কিকে নিখুঁত হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ফাম হুয়ান মান।
২০তম মিনিটে প্রথম লক্ষ্েয শট রাখে বাংলাদেশ। বক্সের খানিকটা বাইরে থেকে ফাহিমের শট ঝাঁপিয়ে ফিস্ট করে ফেরান ভিয়েতনাম গোলকিপার। ম্যাচে বাংলাদেশের মুহূর্ত বলতে এতটুকুই।
পাঁচ মিনিট পর আবারও বাংলাদেশের বক্সে ঢুকে পড়ে ভিয়েতনাম। ডান দিক থেকে হেড জায়ানকে ফাঁকি দেওয়ার পর শাকিল আহাদ তপুকে কাটিয়ে কাটব্যাক করেন হাই লং; বক্সে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেখেশুনে হোয়াং হেনের নেওয়া শট পোস্টের অল্প বাইরে দিয়ে যায়। একটু পরই পাল্টা আক্রমণে সোহেল রানার শট ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়ে যায়।
৩২তম মিনিটে গোছালো আক্রমণে ওঠে ভিয়েতনাম। দুই সতীর্থের পা হয়ে বক্সে বল পেয়ে যান হাই লং, তার কোণাকুণি শট আটকান শ্রাবণ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে হাই লংয়ের কোনাকুণি শট ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি শ্রাবণ। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ভিয়েতনাম।
প্রথমার্ধে তিন গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে ৫-৩-২ ছকে খেলতে শুরু করে বাংলাদেশ। রক্ষণ সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা চলে। দ্বিতীয়ার্ধে ভিয়েতনাম বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ করলেও গোলরক্ষক শ্রাবণ দৃঢ়তা দেখান। ৫২ মিনিটে রাফায়েলসনের একটি ভালো সুযোগ ঠেকানোর পর ৬৯ মিনিটে খুয়াত ভ্যান খাংয়ের শটও প্রতিহত করেন তিনি। একই মিনিটে হামজার ভুল পাস থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। ৫৫ মিনিটে রক্ষণ সামলাতে গিয়ে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন সাদ উদ্দিন।
অন্যদিকে, ৬০ মিনিটে বদলি নেমে শাহরিয়ার ইমন একটি পাল্টা আক্রমণ থেকে শট নিলেও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার তা আটকে দেন।
ম্যাচের শেষ দিকে কিছুটা চাপ তৈরি করার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ৮৭ মিনিটে টানা দুটি কর্নার পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি হামজারা। বরং ৮৮ মিনিটে ভিয়েতনামের দো হোয়াং হেনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় গোল হজম থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের তিন গোলেই নির্ধারণ হয় ফলাফল।
আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলবে বাংলাদেশ। বাছাই পেরুনোর আশা আগেই শেষ হয়ে গেছে দলের। পাঁচ ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে আছে তৃতীয় স্থানে।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























